পুজো অনুদান নিয়ে আজ
শুনানি সুপ্রিম কোর্টে

সংবাদসংস্থা   ১২ই অক্টোবর , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ১১ই অক্টোবর- দুর্গা পুজোয় সরকারি অনুদান দেওয়ার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদনের শুক্রবারই শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে। কলকাতা হাইকোর্টে এভাবে অনুদান দেবার বিরুদ্ধে আবেদন নিয়ে মামলা হলেও বুধবার হাইকোর্ট জানিয়ে দেয় এ ব্যাপারে তারা এখনই হস্তক্ষেপ করবে না। সঙ্গে সঙ্গেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন মামলার মূল আবেদনকারী। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চের কাছে আবেদনকারীর আইনজীবী হাইকোর্টের নির্দেশের কথা জানিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিদ্ধান্ত আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতির বিরোধী। সে-কারণেই এই আবেদনের জরুরি শুনানি হওয়া প্রয়োজন। সেই আরজি মেনেই শুক্রবার শুনানি হবে।

দুর্গা পুজো কমিটিগুলিকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সরকারের তরফে রাজ্যের ২৮ হাজার দুর্গা পুজো কমিটিকে ১০ হাজার করে টাকা অনুদান দেওয়া হবে। যার জন্য খরচ হবে ২৮ কোটি টাকা। শীর্ষ আদালতে আবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির পরিপন্থী। রাজ্য সরকারের মনোভাব বিপজ্জনক। তারা এ থেকে সাম্প্রদায়িক মনোভাব তৈরি করতে চাইছে। দুর্গা পুজো কোনো জনস্বার্থ পূরণ করে না। মুখ্যমন্ত্রীর নিজের ঘোষণাতেও তা বলা হয়নি। তিনি এই অনুদানকে উপহার হিসাবেই ঘোষণা করেছেন। সে-কারণেই এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের ২৮২নং ধারার পরিপন্থী। আইনে এমন কোনো ধারাই নেই যার সাহায্যে পুজো সংগঠকদের সরকারি তহবিল থেকে টাকা দেওয়া যায়।

আবেদনকারী বলেছেন, সরকারের তহবিলের অর্থ কোন কাজে ব্যবহার হচ্ছে তা দেখার অধিকার আদালতের রয়েছে। সংবিধানে বলা রয়েছে করদাতা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের জন্য কর দিতে বাধ্য নন। অথচ এখানে করদাতাদের টাকাই ব্যবহার করা হচ্ছে।

কলকাতা হাইকোর্টে ডিভিসন বেঞ্চে এই মামলার শুনানির সময় গত শুক্রবার আদালত পুজো কমিটিগুলোকে অনুদান দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রাথমিক ভাবে স্থগিতাদেশ জারি করে। অনুদান দেওয়ার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। শুনানির সময় রাজ্য সরকারের কাছে আদালতের প্রশ্ন ছিল, এই অনুদান দেওয়ার ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কোনও নির্দেশিকা আছে কিনা। কোন তহবিল থেকে অনুদানের টাকা আসবে সেটাও আদালতের জিজ্ঞাসার মধ্যে ছিল। এব্যাপারে আদালত রাজ্য সরকারের হলফনামাও চেয়েছিল। এই অনুদান দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের কোনও নির্দেশিকা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন, কোন তহবিল থেকে টাকা দেওয়া হবে, কারা সেই টাকা পাবে, টাকা কীভাবে খরচ হবে তার নির্দিষ্ট কোনও নির্দেশিকা নেই। টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। রাজ্য সরকারের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেছিলেন, রেজিস্ট্রিকৃত পুজো কমিটিগুলি এই অনুদান পাবে। এছাড়া রাজ্য সরকার ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ প্রকল্প থেকে মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এই অনুদান দিচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেনি আদালত। প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত মন্তব্য করেছিলেন, পথ নিরাপত্তার টাকা খরচ হচ্ছে কোনও নির্দেশিকা ছাড়াই। সরকার বেসরকারি সংস্থার হাতে পথ নিরাপত্তার জন্য টাকা তুলে দিচ্ছে কেন? এর উদ্দেশ্য কী?

পরে অবশ্য বুধবার হাইকোর্ট মামলাটি খারিজ করে দিয়ে বলে, অনুদানের অর্থ যাতে অপচয় না হয় সেদিকে নজরদারি রাখতে হবে রাজ্য সরকারকে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement