ঘূর্ণিঝড়ে অন্ধ্রে মৃত ৮,
বড় ক্ষতি এড়ালো ওডিশা

সংবাদসংস্থা   ১২ই অক্টোবর , ২০১৮

অমরাবতী ও ভুবনেশ্বর, ১১ই অক্টোবর- তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ বৃহস্পতিবার অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীকাকুলাম এবং বিজয়নগরম জেলার উপর আছড়ে পড়ল। তার জেরে ৮জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে। দেড়শো কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা ঘূর্ণির দাপটে উপড়ে পড়েছে গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি। অন্ধ্র থেকে ওডিশায় আঘাত হানার আগেই তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ে ‘তিতলি’। ঝড়ের দাপট কমে গেলেও গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। তবে ওডিশায় কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। রাজ্যের গজপতি এবং গঞ্জাম জেলায় সবথেকে বেশি প্রভাব পড়েছে। ওডিশায় বহু জায়গায় মাটি ধসের খবর পাওয়া গেছে, তবে আগে থেকেই অন্তত ৩লক্ষ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ায় জীবনহানি এড়ানো গেছে। চেন্নাই-কলকাতা জাতীয় সড়কে গাছ পড়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। দক্ষিণ মধ্য রেলওয়ে এবং ইস্ট কোস্ট রেলের বহু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বেশকিছু ট্রেনের যাত্রাপথ মাঝপথেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেশ কিছু এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলার পালাসার কাছে এবং ওডিশার গোপালপুরের দক্ষিণ পশ্চিমে ভূমিধস হয়েছে ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে। এরপর ঘূর্ণিঝড় উত্তর-পূর্বে অগ্রসর হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড যাবে, তবে দুর্বল হয়ে পড়বে ক্রমশ।

অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে শ্রীকাকুলাম এবং বিজয়নগরম জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধবার রাত থেকে প্রবল বৃষ্টির জেরে উপকূলের এই দুই জেলার জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। শ্রীকাকুলাম জেলার গাছ পড়ে এক পৌঢ়ার মৃত্যু হয়েছে। বাড়ি ভেঙে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছেন বাকি যে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে তাঁরা সকলেই মৎস্যজীবী, সমুদ্রে গিয়েছিলেন। গত কয়েকদিনে কাকিনাডা এবং পূর্ব গোদাবরী জেলার ৬৭টি মাছ ধরার নৌকো গভীর সমুদ্রে গিয়েছিল। তারধ্যে ৬৫টি নিরাপদে ফিরে এসেছে। বাকি দুটিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলেও মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে। শ্রীকাকুলাম জেলার সড়ক ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থারও বিপুল ক্ষতি হয়েছে। প্রবল ঝড়ে ২হাজারের বেশি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। অন্ধ্রের উত্তর উপকূলের জেলাগুলিতে বিদ্যুৎ বণ্টনের সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে শ্রীকাকুলাম জেলার ৪৩১৯গ্রাম এবং ৬টি শহরে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছে তিতলির তাণ্ডবে। পালাসা সহ বেশকিছু রেলস্টেশনের ক্ষতি হয়েছে। সিগন্যাল পোস্ট উপড়েছে, ওভারহেড বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়েছে। প্রাথমিক হিসেবেই বলা হচ্ছে শ্রীকাকুলাম জেলার উদ্যানপালন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিজয়নগরম জেলায় ধানের বিপুল ক্ষতি হয়েছে। কলা, পেপে, আম গাছের প্রবল ক্ষতি হয়েছে।

ওডিশার বিশেষ রিলিফ কমিশনার জানিয়েছেন, রাজ্যে কোনও বড় বিপর্যয় হয়নি। ওডিশায় জীবনহানি হয়নি। ৮জেলা গঞ্জাম, গজপতি, খুরদা, পুরী, জগদীশপুর, কেন্দ্রাপাড়া, ভদ্রক এবং বালেশ্বরে তিতলির প্রভাবে বিপর্যয় হয়েছে। এরমধ্যে গঞ্জাম, গজপতি এবং পুরীতে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। রিলিফ কমিশনার জানিয়েছেন, ওডিশাতে প্রবেশ করেই এদিন ঘূর্ণির দাপট কমে যায় তিতলির। তবে গঞ্জাম এবং গজপতি জেলায় কাঁচা বাড়িঘর ভেঙেছে। কিছু গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। দুই রাজ্যেই বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও টেলিফোন যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। গাছ পড়ে জাতীয় সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়েছে কোথাও কোথাও। ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৈঠক করেছেন। দুর্যোগ কমলেই দ্রুত পুনর্গঠনের কাজের নির্দেশ দেন তিনি। এন ডি আর এফ-র ১৩টি দল এবং ওডিশার বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দমকলের সঙ্গে বিপর্যস্ত এলাকায় কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আরো এন ডি আর এফ-র আরও দুটি দল গজপতি জেলায় গেছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, আমাদের আশঙ্কার থেকে অনেক কম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপকূলের জেলাগুলি থেকে মানুষকে সরিয়ে আনা হয়েছে ১১১২টি শিবিরে। গঞ্জাম জেলার ১০৫ এবং গজপতি জেলার ১৮জন প্রসূতিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement