কেরালায় এবার মন্ত্রীর বাড়িতে
চড়াও বি জে পি যুব মোর্চা

রাজ্যজুড়ে জনসভা করবে এল ডি এফ

সংবাদসংস্থা   ১২ই অক্টোবর , ২০১৮

তিরুবনন্তপুরম, ১১ই অক্টোবর— সবরিমালা মন্দিরকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধীরা। বি জে পি যুব মোর্চা বৃহস্পতিবার কেরালার দেবাশ্বম মন্ত্রী কাদাকাম্পাল্লি সুরেন্দ্রনের সরকারি আবাসনে হামলা চালায়। সবরিমালা মন্দিরে সব বয়সের মহিলাদের প্রবেশে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতিকেই সমর্থন জানিয়েছে কেরালার বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সরকার। এল ডি এফ সরকারের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে গত কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বি জে পি-কংগ্রেস। এদিন বি জে পি-র নেতৃত্বে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা ব্যারিকেড ভেঙে মন্ত্রীর বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে তাদের আটকায়। এই বিষয়ে সাধারণ মানুষকে ভুলপথে চালিত করে সঙ্ঘ পরিবার রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুরেন্দ্রন। বিরোধীদের এই চক্রান্ত প্রতিহত করতে এদিনই এল ডি এফ নেতৃত্ব বৈঠকে বসে। বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলন করে এল ডি এফ–এর আহ্বায়ক বিজয়রাঘবন জানান, মন্ত্রীদের কনভয় আটকানো, মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করা, ত্রাবাঙ্কোর দেবাশ্বম বোর্ডের কার্যালয়ে হামলা— এই ধরনের আক্রমণের প্রকৃতি দেখেই বোঝা যায় যে এরা সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে।

বৈঠকের পর জানা গিয়েছে, কেরালার ১৪টি জেলায় জনসভার আয়োজন করবে এল ডি এফ। বিরোধীদের এই মিথ্যা চক্রান্ত প্রতিহত করে নিজেদের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেওয়াই মূল লক্ষ্য। বিজয়রাঘবন জানান, ১৬ই অক্টোবর তিরুবনন্তপুরম, ২৩শে অক্টোবর পাথানমথিত্তাত এবং ২৪শে অক্টোবর কোল্লামে জনসভায় বলবেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। আগস্ট মাসে বন্যা বিধ্বস্ত কেরালায় ক্রাণ কার্যের জন্য এল ডি এফ সরকার সর্বত্র প্রশংসিত হওয়ায় এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধীরা রাজ্যজুড়ে সরকারের বিরুদ্ধে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজয়রাঘবন। এদিন আরও একবার সরকারের তরফে তিনি বলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য রাজ্য সরকার। কোনওভাবেই শীর্ষ আদালতের রায় অস্বীকার করতে পারে না সরকার।’ বি জে পি রাজ্য সভাপতির নেতৃত্বে কেরালায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা মিছিল শুরু করেছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া সেই মিছিলকে অযোধ্যাকে কেন্দ্র করে ১৯৯০ সালের রাম রথ যাত্রার তুলনা করেছেন সুরেন্দ্রন।

এদিকে, এদিন কেরালার মুসলিম মহিলারা প্রতিটি মসজিদে তাঁদের প্রবেশের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। শুধু মসজিদে ঢোকার অনুমতিই নয়, মহিলা ইমামের দাবিও তুলেছে প্রগতিশীল মহিলা সংগঠন এন আই এস এ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement