তিতলির প্রভাবে আরও
দুদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১২ই অক্টোবর , ২০১৮

কলকাতা, ১১ই অক্টোবর — অন্ধ্রে আঘাত হেনেই ক্ষান্ত হলো সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’। ঘণ্টায় সর্বাধিক ১৬০কিলোমিটার গতিতে অন্ধ্র প্রদেশের আছড়ে পড়ে লন্ডভন্ড পাকিয়ে ‘তিতলি’ শক্তি হারিয়ে পরিণত হলো সুগভীর নিম্নচাপে। শেষবেলায় ওডিশায় একবার ল্যাজের ঝাপটা মারার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু গতিবেগ অত্যধিক থাকার জেরে অল্প সময়ের মধ্যে হাঁফিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে ‘তিতলি’।

শেষে দক্ষিণ ওডিশার ওপরে দাঁড়িয়েই ‘তিতলি’ বৃহস্পতিবার পরিণত হয়েছে গভীর নিম্নচাপে। কোনোভাবেই আর ছোবল দিতে পারবে না। দুর্বলতা গ্রাস করে নিলো ‘তিতলি’কে। তবু বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত দক্ষিণ ওডিশায় নিম্নচাপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ক্ষয়িষ্ণু ‘তিতলি’। এর জেরেই আগামীকাল ওডিশার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকছে। তবে শারদোৎসবের আবহাওয়া এখনও আশঙ্কাই রইলো।

‘তিতলি’ আসছে, আসছে বলে বুধবার রাত থেকেই একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বলা হয়েছে ‘তিতলি’ আছড়ে পড়বে ওডিশা উপকূলে। রাতে শক্তি বাড়ানো শুরু করেছেন ওই বঙ্গোপসাগরীয় ঘূর্ণিঝড়টি। ‘তিতলি’র অভিমুখ নিয়ে হাওয়া অফিসের নিদান সবটা অবশ্য মেলেনি।

বৃহস্পতিবার বিকালে ‘তিতলি’র প্রভাবে কলকাতা ও দুই ২৪পরগনায় মাঝারি পাল্লার বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। কিন্তু নিম্নচাপে পরিণত ‘তিতলি’র প্রভাবে আগামী দুদিন ভারী বৃষ্টির একটা আশঙ্কা রয়ে গেল কলকাতা ও দুই ২৪ পরগনা জেলায়। বৃষ্টি হতে পারে ঝাড়গ্রাম, দুই মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, দুই বর্ধমান জেলায়। ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকছে বীরভূম আর বাঁকুড়াতেও। উত্তরবঙ্গের জেলাতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সবটাই যেন নির্ভর করছে সুগভীর নিম্নচাপের শক্তি কতটা তার ওপর। ‘তিতলি’ পশ্চিমবঙ্গে না আসলেও তার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় বৃহস্পতিবার সারাদিনই একটা আতঙ্ক ছিল। সর্বত্র অশান্ত ছিল সমুদ্র। দীঘা, মন্দারমণি, তাজপুর উপকূলে পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছিল। মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে বারণ করার সঙ্গে বন্দরে জারি হয়েছে তিন নম্বর বিপদ সংকেত।

তিতলি’র প্রভাবে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে এদিন খড়্গপুরে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে আপ ফলকনামা এক্সপ্রেস-কে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বেশ কিছু জায়গায় ওভারহেড তার ছিঁড়ে গেলেও তেমন বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়নি রেলকে। ‘তিতলি’-র প্রভাবে রেললাইনের কোনও ক্ষতি হয়নি বলে এদিন জানিয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মুখ্য মুখপাত্র সঞ্জয় ঘোষ।

তবে দূরপাল্লার ট্রেনের পথচলতি বিপদ হতে পারে এই আশঙ্কায় এদিন হাওড়া-চেন্নাই করমণ্ডল এক্সপ্রেস, হাওড়া-ষশবন্তপুরম এক্সপ্রেস, আগরতলা-বেঙ্গালুরু ক্যান্ট হামসাফর এক্সপ্রেস-কে খড়্গপুর-ঝারসিগুড়া-সম্বলপুর-ভিজিয়ানাগ্রাম রাস্তায় পাঠানো হয়েছে। এদিন ট্রেন বা রাস্তায় বড়সড় কোনও বাধা না ঘটলেও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ার জন্য খুরদা রোড-বিজয়নাগ্রাম ট্রেন চলাচলকে বন্ধ রাখতে হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় রেল সিগন্যালিংয়েও সমস্যা ঘটেছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement