দীপাবলির প্রদীপ তৈরিতে
ব্যস্ত পূর্ব সাতগাছিয়া

নিজস্ব সংবাদদাতা   ২২শে অক্টোবর , ২০১৮

কালনা, ২১শে অক্টোবর — বিশ্বায়নের যুগে বাংলার অনেক প্রাচীন শিল্পের পাশাপাশি সংকটে মাটির প্রদীপ। চিরাচরিত মাটির তৈজসপত্রের ব্যবহার এখন আর প্রতিদিন হয় না। তবুও উৎসব এলে প্রয়োজনে, সৌখিনতায় এই প্রদীপ এক-দুদিনের জন্য দামি হয়ে ওঠে। কিন্তু চিনা দ্রব্যের দাপটে মাটির এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটির নাভিশ্বাস উঠেছে। দীপাবলিকে সামনে রেখে প্রাণ ফেরে এই শিল্পের। এমনই দাবি কালনার পূর্ব সাতগাছিয়ার কুমোরপাড়ার মানুষের।

কুমোরপাড়ায় এখন তবুও ব্যস্ততা। সময়ও সংক্ষিপ্ত। রাত-দিন এক করে তৈরি হচ্ছে মাটির প্রদীপ। আগে প্রায় সবমাসেই হাটে হাটে চাহিদা থাকত। এখন কেবল দীপাবলি। আর অন্যসময় পুজোর জন্য। বিভিন্ন রকমের ঘট, ধুনুচি, ভোগের থালাসহ একাধিক তৈজসপত্র। রাষ্ট্রসঙ্ঘ ২০১৫সালকে ‘বিশ্ব মৃত্তিকা বর্ষ’ হিসাবে ঘোষণা করে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের অন্যতম সংস্থা ‘বিশ্ব কৃষি ও খাদ্য সংস্থা’-র ডিরেক্টর জোনা গুটিয়ানো ডি সিলভার বক্তব্য,‘মানুষ একাধিকভাবে মাটি ব্যবহার করে’। উৎসবের দিনে পুজো-পার্বনের জিনিস তৈরিতে এখনও মাটির ব্যবহার হয়। তাছাড়াও ডাবা, মাটির চাক, মুড়ি ভাজার খোলা, পুজোয় ব্যবহৃত জিনিস এখনো কিছুটা মাটি দিয়েই তৈরি হয়।

কালনার পূর্ব সাতগাছিয়ায় এখনো পর্যন্ত মাটির জিনিসপত্র তৈরির কারখানা সচল রয়েছে। এখানকার দুই কারখানার মালিক রসময় পাল এবং গুরুপদ পাল জানান, এখানে তৈরি জিনিস আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে কলকাতা, দুই ২৪পরগনা, নদীয়া, বর্ধমানে যায়। ফলে পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লভ্যাংশ কমছে। শিল্পীদের সমস্যার কথা জানতে পেরে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এখানে এসেছিলেন। শিল্পীদের সাথে দেখা করে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন কারখানাগুলির মালিককে নিয়ে ক্লাস্টার তৈরি হবে। উৎপাদিত সামগ্রী বিশ্ব বাংলা বিপণন কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাজুড়ে বিক্রি করা হবে। মন্ত্রীর আশ্বাস অবশ্য বাস্তবায়িত হয়নি এখনও। কবে হবে জানেন না কেউ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement