যোগেশগঞ্জ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের
মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ খেয়ে
গুরুতর অসুস্থ শিশুকন্যা

নিজস্ব সংবাদদাতা   ৯ই নভেম্বর , ২০১৮

বসিরহাট, ৮ই নভেম্বর — ফের রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের বিরুদ্ধে উঠলো গাফিলতির অভিযোগ। ডাক্তার, নার্স,ফার্মাসিস্ট কারোরই লক্ষ্য নেই সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে। দুর্ব্যবহার, সামান্য অসুস্থতায় অন্যত্র রোগী পাঠিয়ে দেওয়া রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সরকারি চিকিৎসায় ভরসা না করে গ্রামের গরিব মানুষকে রাত-বিরেতে ছুটতে হয় স্থানীয় কোয়াক ডাক্তারের কাছে। বৃহস্পতিবার এমনই অভিযোগ করলেন হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের যোগেশগঞ্জের মানুষ।

এই গ্রামের বাসিন্দা রাজেশ দেওয়ান জানালেন, পায়ের আঘাত নিয়ে তার মেয়ে রাজন্যাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যোগেশগঞ্জ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্টের চরম গাফিলতির কারণে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ে চার বছরের শিশুকন্যা রাজন্যা দেওয়ান। কোনো রকমে প্রাণে বাঁচলেও মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধের বিষক্রিয়ায় এখনো বিপন্মুক্ত নয় শিশুকন্যাটি। এখনও তার গায়ে জ্বর, ঘুম নেই, খিদে নেই। পায়ের ফুলো কমেনি, রয়েছে যন্ত্রণা। বহিরাগত চিকিৎসককে দিয়ে তার চিকিৎসা চলছে। গভীর উৎকণ্ঠায় হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের যোগেশগঞ্জের দেওয়ান পরিবার। যোগেশগঞ্জ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ দেওয়ান পরিবারের অভিযোগ মেনে নিয়েছেন। সেই সাথে শুরু হয়েছে একে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানো।

কী ঘটে ছিল যার কারণে চার বছরের শিশু কন্যাকে মৃত্যুর মুখে পড়তে হয়েছিল? জানা গিয়েছে, যোগেশগঞ্জের বাসিন্দা রাজেশ দেওয়ানের মেয়ে চার বছরের রাজন্য দেওয়ান গত মঙ্গলবার সাইকেলে তার পা কেটে যায়। এই অবস্থায় তাকে যোগেশগঞ্জ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক পঙ্কজ মণ্ডল তাকে দেখে প্রেসক্রিপশন করে দেন। সেই প্রেসক্রিপশন দেখে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেন কর্তব্যরত নার্স অঞ্জলি নস্কর। ওই রাতে ও বুধবার সকালে ওষুধ খাওয়ালে বমি করতে থাকে রাজন্যা। ওষুধের বিষক্রিয়ায় বমি করতে করতে জ্ঞান হারায় একরত্তি রাজন্যা। সন্দেহ হওয়াতে বাড়ির লোক লক্ষ্য করে ওষুধটি মেয়াদ উত্তীর্ণ। অক্টোবর ২০১৮মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে ওষুধটির। হিঙ্গলগঞ্জ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই বাচ্চাটির পরিবার। যদিও হিঙ্গলগঞ্জ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অভিষেক দাঁ সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে বিষয়টি প্রথম জানতে পারেন এবং বলেন এটা গুরুতর অপরাধ। মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ হাসপাতালে থাকার কথা নয়। তিনি বলেন ফার্মাসিস্ট আইন অনুযায়ী মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ চিহ্নিত করে তা বাজেয়াপ্ত করা হয়। তথাপি কীভাবে ওই মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ হাসপাতালে রেখে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে তা অবশ্যই দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ভুল না হয় তা দেখা হবে।

হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা মেডিক‌্যাল অফিসার ডাঃ পঙ্কজ মণ্ডলরের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি রোগী দেখে প্রেসক্রিপশন করে পাঠিয়ে দিয়েছি। ফার্মাসিস্টের দায়িত্ব ডেট দেখে ওষুধ সরবরাহ করা। যদিও এই প্রশ্নে ফার্মাসিস্ট মৃন্ময় ঘোড়ুই বলেন ছয় মাস আগে ডেট দেখে সিস্টার অঞ্জলি নস্করকে দিয়ে দিই। তার দায়িত্ব ডেট দেখে রোগীকে ওষুধ দেওয়া। তবে ডাঃ পঙ্কজ মণ্ডল বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। আমি কুড়ি বছর এখানে চাকরি করছি। কোনও সিস্টেম নেই। তবে এই ঘটনা এই প্রথম ঘটলো। নার্স অঞ্জলি নস্করের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভুল স্বীকার করে বলেন আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি তারিখ না দেখেই ওষুধ দিয়েছিলাম। তিনি আরও বলেন, আমি বাচ্চাটার বাড়ি গিয়েছিলাম বাচ্চাটি এখন সুস্থ আছে। অন্যদিকে বসিরহাট মহকুমার সাস্থ্য আধিকারিক দেবব্রত মুখার্জি বলেন, আমার কাছে সেইরকম একটা অভিযোগ এসেছে। আমরা ভালো করে ঘটনাটি দেখছি। এখন বাচ্চাটি সুস্থ আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক দেবেশ মণ্ডল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, হাসপাতালের গাফিলতির বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে। যেহেতু শিশুকন্যাটি মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধের বিষক্রিয়ায় অসুস্থ পড়েছে তার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য  সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে চিকিৎসকদের।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement