গরয়া পরব, রঙিন হয়ে
উঠছে জঙ্গলমহল

নিজস্ব সংবাদদাতা   ৯ই নভেম্বর , ২০১৮

বাঁকুড়া, ৮ই নভেম্বর— সারা জঙ্গলমহল এখন আলপনায় সেজে উঠেছে। এই মুহূর্তে জঙ্গলমহল এলাকার যে কোনও গ্রামে গেলেই বাড়ির দেওয়ালে রঙিন তুলির টান দেখা যাবে। শারদোৎসবের সময় যেখানে বাড়ি সাধারণভাবেই থাকে কোনও রঙ হয় না সেখানে রঙিন হয়ে ওঠে এই বাঁদনা পরবে। এই উৎসবের অংশ হিসাবে জঙ্গলমহল এলাকায় এই সময় গরয়া পরব হয়। যাকে নিয়ে এই ভৌগোলিক এলাকার গ্রামের আদিবাসী নির্বিশেষে সব মানুষজন মেতে ওঠেন। এই উৎসবের মুল কেন্দ্রীয় চরিত্রই হলো গোরুকে নানাভাবে অভ্যর্থনা করা। বহু যুগ ধরে জঙ্গলমহল এলাকার মানুষ এই উৎসবটি পালন করে আসছেন। তাঁদের বক্তব্য একটাই গোরু আমাদের পেটের ভাত জোগায়। চাষের মূল শক্তিই হল গোরু। এই গরয়া পরবের মধ্যে দিয়ে শক্তিকে সম্মান জানানো হয়।

কালীপুজোর দিন থেকেই এই গরয়া উৎসব শুরু হয়। ভ্রাতৃদ্বিতীয়া পর্যন্ত চলে এই উৎসব। জঙ্গলমহল এলাকার মানুষজনের বাড়িতে থাকা গোরুকে এই উৎসবের দিনগুলিতে ভালো করে স্নান করানো হয়। শিংয়ে তেল দেওয়া হয়। তাকে ফুল, ধান, দিয়ে অভ্যর্থনা করা হয়। একদিকে বাড়ির দেওয়ালে রঙ দিয়ে নানা ধরনের ছবি আঁকা হতে থাকে যার বেশিরভাগটাই প্রকৃতিকে তুলে ধরা হয় তুলির টানের ভেতর দিয়ে। অন্যদিকে বাড়ির উঠানে আঁকা হয় আলপনা। এই আলপনা আঁকা হয় চালগুড়ির সঙ্গে পানালতা পাতার রস দিয়ে। স্থানীয় এলাকাতেই এই লতাগাছটি পাওয়া যায়। একে ভেজানো হয়। এখান একটা আঁঠা বের হয় সেটিকে চালগুড়ির সঙ্গে মেশানো হয়। এর পর পাঁচ আঙুল দিয়ে সেই আলপনা আঁকা হয় বাড়ির উঠোন জুড়ে। এই আলপনার উপর দিয়ে বাড়ির কোনও মানুষ চলতে পারবেন না। প্রথমে গোরুকে এর উপর দিয়ে নিয়ে আসা হবে পরে পরিবারের লোকজন আসতে পারেন। চলে গবাদিপশুর বন্দনার গান। গোরুকে খাওয়ানো হয় জমির আলে জন্মানো বিশেষ পুষ্টিগুণের মুলতানি ঘাস। বাড়িতে তৈরি হয় গাওয়া ঘি দিয়ে পিঠে। নতুন মাটির খোলাতে সেই পিঠে তৈরি হয়। অপূর্ব তার স্বাদ। তিনদিন ধরে এই উৎসবে মেতে ওঠেন জঙ্গলমহলের সাঁওতাল, ভূমিজ, কোড়া, লোধা সম্প্রদায়ের আদিবাসী মানুষজন। উৎসবে মেতে ওঠেন মাহাতো পদবির মানুষজনও। এখানে কোনও ভিন্নতা থাকে না। এই বহু যুগ ধরে চলে আসা এই উৎসবে জঙ্গলমহল জাতি বর্ণ নির্বিশেষে মিলেমিশে একাকার হয়ে যান।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement