শিলিগুড়ির মেয়রের অভিযোগ
আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টার
নিয়ে উদাসীন রাজ্য সরকার

নিজস্ব সংবাদদাতা   ৯ই নভেম্বর , ২০১৮

শিলিগুড়ি, ৮ই নভেম্বর – আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টারের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মাইনে না বাড়ালে চিকিৎসক বা চিকিৎসাকর্মী পাওয়া যাবে না। ফলে কঠিন সমস্যায় পড়বে নাগরিক পরিষেবা। এই মত প্রকাশ করেছেন শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। শহরাঞ্চলের ‘কসমেটিক ডেভেলপমেন্টে’ মত্ত রাজ্য সরকার আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টারগুলো নিয়ে চূড়ান্ত উদাসীন। শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের অধীনে রয়েছে দশটি আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টার, যার একটি চলছে বাড়ি ভাড়া নিয়ে। হিসাব বলছে চলতি অর্থবর্ষের এপ্রিল-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হেলথ সেন্টারগুলোতে চিকিৎসা করিয়েছেন ৪০হাজার রোগী। তবুও আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টারগুলি নিয়ে উদাসীন রাজ্য সরকার।

রাজ্য সরকারের তরফে প্রতিটি আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টারে একজন করে ল্যাব টেকনিশিয়ান দেওয়ার কথা। সেই হিসাবে মোট ১০জন ল্যাব টেকনিশিয়ান থাকার কথা। সেখানে আছে মাত্র ১জন। ল্যাব টেকনিশিয়ানদের বেতন এতদিন ছিল মাত্র ৯হাজার টাকা। কিছুদিন আগে বেতন বেড়ে হয়েছে ১৭হাজার টাকা। এ এন এম কর্মী যেখানে থাকার কথা ২০জন, সেখানে একজনও কর্মী নেই। জি এন এম কর্মী কুড়ি জন থাকার কথা থাকলেও মাত্র ১জন কর্মী কাজ চালাচ্ছেন ১০টি হেলথ সেন্টারে।

একইভাবে ফার্মাসিস্টের সংখ্যা ১০জন হওয়ার কথা হলেও আছেন ৮জন। এদিকে সাময়িক সময়ের চিকিৎসক থাকার কথা ১০জন। রয়েছেন ৬জন। এই প্রসঙ্গে মেয়র অশোক ভট্টাচার্যর বক্তব্য, সাময়িক সময়ের চিকিৎসকদের রাজ্য সরকারের তরফে বেতন দেওয়া হয় মাত্র ২৪হাজার টাকা। ফলে কোনও চিকিৎসকই কাজ করতে রাজি হন না। পূর্ণ সময়ের চিকিৎসক ১০জন থাকার কথা থাকলেও ১০টি হেলথ সেন্টারে ৩জন চিকিৎসক রয়েছেন। মেয়র জানিয়েছেন, সম্প্রতি দুজন চিকিৎসক নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই তাঁরা কাজে যোগ দেবেন।

আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টারে ১৫টি সাব হেলথ পোস্টে ৯জন কর্মী রয়েছেন। এই পোস্টের জন্য রাজ্য সরকার মাত্র ৪হাজার টাকা ধার্য করে। অশোক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, আমরা ঠিক করেছি কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় থেকে আরও ৪হাজার টাকা দিয়ে মোট ৮হাজার টাকা সাব হেলথ পোস্টের জন্য বেতন দেওয়া হবে।

অশোক ভট্টাচার্যর অভিযোগ, শিলিগুড়ি হাসপাতালে গেট তৈরির জন্য সম্প্রতি ১কোটি ২০লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, শিলিগুড়ি হাসপাতালে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত পরিষেবা প্রয়োজন, নাকি ঝকঝকে গেট ? তাঁর অভিযোগ, পুরো টাকাই আরবান ডেভেলপমেন্ট দপ্তরের টাকা যা জোর করে শিলিগুড়ি কর্পোরেশনকে দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। অথচ রাজ্য সরকারই শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের জন্য বরাদ্দ রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে। মেয়রের অভিযোগ, আরবান ডেভেলপমেন্ট দপ্তরের টাকা দিয়ে হাসপাতালের গেট তৈরি করা যায় না। তাই টাকাটা জোর করে শিলিগুড়ি কর্পোরেশনকে দিয়ে হাসপাতালের সৌন্দর্য্যায়নের নামে গেট তৈরি করতে চাইছে রাজ্য সরকার। যাতে খরচের হিসেব দেখানোর সময় রাজ্য সরকারকে সমস্যায় পড়তে না হয়।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement