ফের দান্তেওয়াড়ায় বিস্ফোরণ
মাওবাদীদের, এবার হত
সি আই এস এফ জওয়ানসহ ৫

সংবাদসংস্থা   ৯ই নভেম্বর , ২০১৮

রায়পুর, ৮ই নভেম্বর— ভোটের মুখে ফের হামলা ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায়। মাওবাদীদের বিস্ফোরণে বৃহস্পতিবার চারজন সাধারণ মানুষ এবং সি আই এস এফ-এর এক জওয়ান প্রাণ হারান। ১৫দিনের মধ্যে এই নিয়ে তিনবার আক্রমণ হানলো মাওবাদীরা। চারদিনের মাথায় বিধানসভা নির্বাচন শুরু ছত্তিশগড়ে। এই ভোট বয়কট করার হুমকি দিয়েছে মাওবাদীরা। জগদলপুরে শুক্রবার বি জে পি-র নির্বাচনী প্রচারে আসার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। শনিবার বস্তারে প্রচার চালাবেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তার আগে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মাওবাদীরা আরও বেশি হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাচেলির এক পার্বত্য এলাকায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। দান্তেওয়াড়ার এস পি জানান, জওয়ানরা বাজার করে আকাশনগরে তাঁদের ছাউনিতে ফিরছিলেন। পাহাড়ি রাস্তার এক বাঁকে জওয়ানদের বাস লক্ষ্য করে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটায় মাওবাদীরা। বেসরকারি ওই বাস জওয়ানদের জন্যই নির্দিষ্ট ছিল। নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনের জন্য বাইলাডিলা খনি এলাকায় নিয়োগ হয়েছিলেন এই জওয়ানরা। তাঁদের মধ্যে একজনের এদিনের বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে। বাসচালক, খালাসি, সাফাইকর্মী এবং আরও এক ব্যক্তিও প্রাণ হারান। কিন্তু নিহত এই চতুর্থ ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। বিস্ফোরণে জখম হয়েছেন সি আই এস এফ-এর আরও দুই জওয়ান। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মাওবাদীদের খোঁজে নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

সোমবার প্রথম দফার নির্বাচন ছত্তিশগড়ে। ৯০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮টি নির্বাচনী কেন্দ্রে ভোট হবে ওই দিন। এই নির্বাচনী কেন্দ্রগুলি মাওবাদী প্রভাবিত আট জেলা— বস্তার, কাঁকের সুকমা, বিজাপুর, নারায়ণপুর, কোন্দাগাঁও এবং রাজনন্দগাঁওয়ে। বাকি ৭২টি নির্বাচনী কেন্দ্রে আগামী ২০শে নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ হবে। ভোট গণনা হবে ১১ই ডিসেম্বর। এই গোটা ভোট প্রক্রিয়াই বয়কট করার ডাক দিয়েছে মাওবাদীরা। কিন্তু সেসব উপেক্ষা করেই চলছে শেষ মুহূর্তের ভোট প্রস্তুতি। তার মধ্যে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টায় দুসপ্তাহে তিনবার হামলা চালালো মাওবাদীরা।

গত ৩০শে অক্টোবর এই দান্তেওয়াড়াতেই ভোটের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে মাওবাদীদের গুলিতে প্রাণ হারান দূরদর্শনের এক চিত্র সাংবাদিক অচ্যুতানন্দ সাউ। আরানপুরে এই ঘটনায় মৃত্যু হয় তিন পুলিশ কর্মীরও। তার তিনদিন আগে বিজাপুরে মাওবাদীরা সি আর পি এফ-এর বুলেট প্রতিরোধক বাঙ্কার বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়। প্রাণ হারান চারজন জওয়ান। সেই বিস্ফোরণে জখম হন আরও দুজন। বি জে পি নেতা তথা দান্তেওয়াড়ার জেলা পরিষদ সদস্য নন্দলাল মুদিয়ামিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতরভাবে জখম করে মাওবাদীরা। পালনার গ্রামে বি জে পি নেতার বাড়িতে হামলা চালায় তারা। ভোটের আগেই এভাবে রক্ত ঝরায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। মাওবাদীরা ভোটের দিন আরও বড় হামলার কষছে বলে মনে করছেন অধিকাংশই। এর আগের হামলাগুলির পরও তল্লাশি অভিযান চললেও কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এবারও তল্লাশি অভিযান শুরু হলেও তা কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। ছত্তিশগড় এমনিতেই মাওবাদী প্রভাবিত রাজ্য। অধিকাংশ সময়ই নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় মাওবাদীরা। কখনও কনভয়ে বিস্ফোরণ, কখনও বা কর্তব্যরত জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় মাওয়াদীরা।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement