দুই হোটেলকর্মীকে
বেধড়ক মারধর
তৃণমূল যুবনেতার

নিজস্ব সংবাদদাতা   ৯ই নভেম্বর , ২০১৮

রামপুরহাট, ৮ই নভেম্বর— অপরাধ মাছ ভাজা দিতে দেরি করা। পরিণামে জুটল চড়, লাথি। আচমকা হামলায় রীতিমত সিঁটিয়ে পড়েছেন হোটেলের দুই কর্মী। পেটের জ্বালায় দিনভর শরীর নিংড়ে দেওয়া দুই কর্মী ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি মাছ ভাজা দিতে একটু দেরির জন্য তাঁদের এমনভাবে মার খেতে হবে। কে মারলেন তাঁদের ? তিনি পরিচিতই। প্রভাবশালীও বটে। পেশায় শিক্ষক, তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা। পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি। রামপুরহাটের কাছে ৬০নং জাতীয় সড়কের উপর থাকা একটি ধাবার ঘটনা। ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে। রামপুরহাট এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতার কীর্তি ধরা পড়েছে হোটেলের সি সি টিভি ফুটেজে।

সাফাই দিতে গিয়ে রামপুরহাট ১নং পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি এবং তৃণমূল ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি এই পান্থ দাসের কী জবাব ? প্রথমে একটু মেজাজ নিয়েছিলেন। তারপর সি সি টিভি ফুটেজ হাতে পাওয়ার কথা বলতে একদম সুর নামিয়ে নিলেন। তিনি জানালেন, ‘‘এই রে! আমার তো খুব টেনশন হয়ে গেল। আমি বুঝতে পারিনি। আমি খুবই লজ্জিত। আসলে আমি একটা অন্য টেনশনে ছিলাম। সেই টেনশন থেকে যে কী হয়ে গেল। আমি ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি।’’

জানা গিয়েছে, রামপুরহাটে ৬০নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ‘মা তারা’ বলে একটি ধাবা আছে। সেখানেই এই তৃণমূল কংগ্রেসনেতা তার এক অনুগামীকে নিয়ে খেতে এসেছিল ঘটনার সময়। হোটেলের কর্মচারীদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, খেতে বসে মাছের অর্ডার দেন। তাঁকে মাছ ভাজা দিতে দেরি হয়েছিল। এরপরেই উত্তেজিত হয়ে তিনি প্রসেনজিৎ মণ্ডল ও হেমন্ত মণ্ডলকে চড়, লাথি মারেন। হোটেলের সি সি টিভি ফুটেজে স্পষ্ট ধরা পড়েছে নীল জামা, সাদা প্যান্ট পরিহিত তৃণমূলনেতার এই কীর্তি। এই ঘটনায় রীতিমত আতঙ্কে রয়েছেন ওই হোটেলের মালিক ও কর্মচারীরা। আক্রান্ত কর্মী হেমন্ত মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘‘তখন দুপুর সাড়ে তিনটে হবে। খাবার দিতে একটু দেরি হওয়ায় পান্থ দাস আচমকা আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চড় মারেন। তারপর প্রসেনজিৎকে লক্ষ্য করে লাথি চালায়। ওঁকেই বেশি মেরেছে।’’

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement