এক বাটি মাংস পেয়ে খুশি
খেতমজুর মায়ের সন্তান

নিজস্ব সংবাদদাতা   ৯ই নভেম্বর , ২০১৮

বাঁকুড়া, ৮ই নভেম্বর— আজ আর খেচুরির স্কুলে যায়নি রাহুল। গ্রাম বাঁকুড়ায় এখনও আই সি ডি এস কেন্দ্রগুলিকে খেচুরির স্কুল বলেই ডাকা হয়। বড়জোড়ার প্রতাপপুর এলাকার নতুন গ্রামের তিন বছরের রাহুল বাউরি আই সি ডি এস কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার আর পা রাখেনি। বুধবার বাড়িতেই মাংস খেচুরি খেয়েছে। মা ময়না বাউরি কি করে মাংসের ব্যবস্থা করল সে জানে না। তবে বাটি ভর্তি মাংস খেতে পেয়েছে। পেট ভর্তি আছে তার। সকালেই মায়ের কাছে বায়না আজ তোমার সঙ্গে ঘুরতে যাব। কোথায় যাবে রাহুল? মা ময়না এখন প্রতিদিনই সকালে ছাগল চরাতে বের হন। সেই ছাগলের দড়ি ধরেই রাহুল মায়ের সঙ্গ নিল। মা খেতমজুরের কাজ করেন। সারা বছর চাষের কাজ থাকে না। এখন ধান কাটাও শুরু হয়নি। গ্রামে এখন ওদের মাটি কাটার (রেগা) কোন কাজও নেই। তাই এই ছাগল চরিয়ে দিনটা কাটে ময়নার। নিজের দুটো ছাগল আছে। আর পড়শিদের ছাগল সঙ্গে নিয়ে আসে। কিছু পয়সা বাড়তি রোজগারও হয়। জানান ময়না বাউরি।

রাহুলের আজ এত আনন্দ কেন? সেই রহস্য খোলসা করে তিনি জানান, বুধবার এক পড়শি বেশ খানিকটা খাসির মাংস দিয়েছিল। সেটাই রান্না করেছিলাম। ও যতটা খেতে চেয়েছে ততটা দিয়েছি। সঙ্গে এক বাটি গরম খিচুড়ি। এসব মাংসটাংস তো আমাদের খুব একটা জোটে না। কিন্তু পরবপাবনে একটু আধটু হয়। কত আর পেট চেপে থাকব। আমরা তো সংসার চালানোর কথা ভেবেই শুকিয়ে যাই। তার মধ্যেও ওকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করি। সকালের দিকে খানিকটা ঠান্ডাও পড়েছে। মা ময়না রাহুলকে সোয়েটার পরিয়ে গোটা বিশেক ছাগল নিয়ে মাঠের দিকে এগতে থাকেন। রাহুলও মায়ের সঙ্গে যেতে চায়। খালি পায়েই সে বাড়ি থেকে বের হয়েছে। তার মা জানায়, ছেলের তর সয়নি। মাঠে কোথায় কাঁটা, ছুঁচলো পাথর আছে কে বলতে পারে। তাই এই গাছতলায় ওকে বসিয়ে রেখেছি। তাতেই রাহুলের যেন আনন্দ আর ধরে না। পেট ভরে মাংস খেয়ে গাছতলায় বসে ছাগলকেই করেছে খেলার সঙ্গী।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement