আড়াই মাস পরে ফিরতেই
নজরুল আলির বেড়ার ঘর
জ্বালিয়ে দিল তৃণমূল

নিজস্ব সংবাদদাতা   ৯ই নভেম্বর , ২০১৮

আমডাঙা, ৮ই নভেম্বর — জেলা পুলিশ সুপারের আশ্বাসে প্রায় আড়াই মাস পর বুধবারই ঘরে ফিরেছিলেন আমডাঙার সি পি আই (এম) কর্মী নজরুল আলি বুল্লুক। বেড়া দিয়ে ঘেরা টালির চালের সেই ঘরেই কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিল তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা। বুধবার গভীর রাতে আমডাঙার রহিমগাছি গ্রামে। কোনোরকমে পিছন দিকের জানালা ভেঙে স্ত্রীকে নিয়ে বেঁচে ফের গ্রাম ছেড়েছেন নজরুল আলি বুল্লুক। পার্টির পক্ষ থেকে পুলিশকে সমস্ত ঘটনা জানানো হয়েছে। পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার তো দূরের কথা কোনও দুষ্কৃতীকে এখনও চিহ্নিতই করতে পারেনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে উত্তেজনা রয়েছে।

আমডাঙার তাড়াবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে সি পি আই (এম) সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তাদের বোর্ড গঠন করতে দেওয়া হয়নি। গত ২৮শে জুলাই রাতের অন্ধকারে সি পি আই (এম) কর্মী সমর্থকদের উপর এলোপাতাড়ি বোমা গুলি চালায় তৃণমূলীরা। তারপর থেকেই রহিমগাছি গ্রাম পুরুষশূন্য। মহিলারাও কোলে শিশু নিয়ে গ্রামের বাইরে। দিন পনেরো আগে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আমডাঙার ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর দাবিতে সমাবেশ করে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পুলিশসুপার নেতৃবৃন্দকে আশ্বাস দেন, যাদের নামে কোনও অভিযোগ নেই তারা গ্রামে ফিরে আসতে পারেন। তিনি নিজে সেই উদ্যোগ নেবেন বলেও আশ্বস্ত করেন বামফ্রন্ট নেতাদের। যাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই অথচ ঘরছাড়া আছেন তাঁদের নামের তালিকাও চেয়েছিলেন তিনি। সেই তালিকায় নজরুল আলি বুল্লুকের মতো অনেকেরই নাম ছিল।

জেলা পুলিশসুপারের সেই ভরসাতেই গ্রামে ফিরেছিলেন পেশায় আখের রস বিক্রেতা নজরুল। গ্রামে ফেরার দিন রাতেই তাঁর ঘরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করেছিল তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ সি পি আই (এম)-র।

নজরুল আলি বুল্লুক জানিয়েছেন, রাতে বাড়ি ফেরার পর গভীর রাতে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী মোটরবাইক নিয়ে ঘরের সামনে এসে তার নাম ধরে ডাকাডাকি করে। তাঁর স্ত্রী দরজা খুলে বেরোলে ওই তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা নজরুলকে বার করে দিতে বলে। এই নিয়ে তার সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। বারান্দায় ছিল কেরোসিন ভর্তি একটি জার। সেই কেরোসিন বেড়ায় ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় দৃষ্কৃতীরা। এরকমই কিছু একটা ঘটার আশঙ্কায় ঘরে জেগেই ছিলেন নজরুল আলি বুল্লুক। তাই আগুন লাগার পর পিছনের দিকের একটি জানলা ভেঙে স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে আসতে পারেন তিনি। আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেছে গোটা ঘর। পুড়ে গেছে ঘরের খাট, বিছানা, অন্যান্য আসবাবসহ আখের রস বিক্রির ভ্যান রিকশাটিও।

তৃণমূল যদিও এই ঘটনায় নিজেদের যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করে বলছে ‘পিছনে আছে সি পি আই (এম)-র অন্তর্দ্বন্দ্ব’। সি পি আই (এম)-এর কর্মী সমর্থকরা সকলেই যেখানে ঘরছাড়া সেখানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তত্ত্ব উড়িয়ে দিচ্ছেন গ্রামবাসীরাই। গ্রামবাসীদের দাবি, নিজেদের অপরাধ অস্বীকার করতেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের গল্প সাজিয়েছে তৃণমূল।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement