সি ভি সি-র সামনে নিজের বিরুদ্ধে
অভিযোগ অস্বীকার করলেন ভার্মা

সংবাদসংস্থা   ৯ই নভেম্বর , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ৮ই নভেম্বর- কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশন ( সি ভি সি)-র সামনে হাজির হয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করলেন সি বি আই-র ‘ছুটিতে যাওয়া’ অধিকর্তা অলোক ভার্মা। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার অভ্যন্তরীণ বিরোধে তাঁর বিরুদ্ধে উৎকোচের অভিযোগ এনেছেন বিশেষ অধিকর্তা রাকেশ আস্থানা। সেই অভিযোগ সি ভি সি-র বিবেচনাধীন। গত ২৬শে অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় দুসপ্তাহের মধ্যে এই অভিযোগের তদন্ত শেষ করতে হবে। শীর্ষ আদালতের প্রাক্তন বিচারপতি এ কে পট্টনায়েকের তত্ত্বাবধানে এই তদন্ত চলছে। ভার্মা দুদিন আগেই লিখিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে চিঠি দেন। বৃহস্পতিবার নিজেই উপস্থিত হয়েছিলেন সি ভি সি দপ্তরে। কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনার কে ভি চৌধুরি এবং ভিজিল্যান্স কমিশনার শারদ কুমারের সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন বলে খবর। দুপুর থেকে ঘণ্টাদুয়েক তিনি সি ভি সি দপ্তরে ছিলেন।

ভার্মার বিরুদ্ধে সি ভি সি-র কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল ২৪শে আগস্ট। সেই অভিযোগ পেশ করেছিলেন সি বি আই-র বিশেষ অধিকর্তা রাকেশ আস্থানা। মধ্যরাতে সি বি আই-এ রদবদল ঘটানোর পরে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, ভার্মা অভিযোগ নিয়ে সি ভি সি-র তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। সি ভি সি-ই তাঁকে অধিকর্তার দায়িত্ব থেকে সরানোর সুপারিশ করেছে বলেও সরকার জানিয়েছিল।

আস্থানার অভিযোগ, মাংস ব্যবসায়ী মঈন কুরেশির বিরুদ্ধে তদন্তে ব্যবসায়ী সতীশ সানার কাছ থেকে উৎকোচ নিয়েছেন ভার্মা। তাছাড়াও লালুপ্রসাদ যাদবের বিরুদ্ধে একটি কেলেঙ্কারির তদন্ত শ্লথ করছেন ভার্মা। অন্যদিকে, সি বি আই-র অধিকর্তা হিসাবে কর্মরত অবস্থায় ভার্মা আস্থানার বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ এনেছিলেন। সতীশ সানার অভিযোগের ভিত্তিতেই আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। তাঁর অভিযোগ, আস্থানা এবং আরেক আধিকারিক দেবেন্দর কুমার ৫কোটি টাকা ঘুষের জন্য তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন। ২কোটি টাকা এরমধ্যে দিয়ে তদন্ত থেকে রেহাই পেয়েছেন। সানার এই অভিযোগকে হাতিয়ার করে বিশেষ অধিকর্তা আস্থানার বিরুদ্ধে এফ আই আর দায়ের করেন সি বি আই প্রধান অলোক ভার্মা। তারপরেই হস্তক্ষেপ হয় কেন্দ্রের তরফে। ভার্মা এবং আস্থানা উভয়কেই ছুটিতে পাঠায় কেন্দ্র। সি বি আই অধিকর্তাকে বরখাস্ত বা পরিবর্তন করার আইনি জটিলতা থাকায় ‘ছুটিতে পাঠানোর’ ব্যাখ্যাই দিয়েছে কেন্দ্র।

সি ভি সি ইতিমধ্যেই সি বি আই-র একাধিক অফিসারকে ডেকে জেরা করেছে বলে খবর। ইনস্পেক্টর, এস পি স্তরের অফিসারদের ঢেকে বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে। মঈন কুরেশি মামলা এবং আই আর সি টি সি মামলায় যুক্ত তদন্তকারী অফিসারদের ডেকে কথা বলেছে সি ভি সি।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সতীশ সানা নিজেই গেছেন আদালতে। তাঁর আবেদন, আপতত তাঁর নামে পাঠানো সি বি আই-র সমনে স্থগিত করা হোক। তিনি জেরার মুখোমুখি হতে তৈরি, তবে তা হোক শীর্ষ আদালতের বিচারপতি এ কে পট্টনায়েকের নজরদারিতে। তাঁকে পুলিশি পাহারা দিতে হায়দরাবাদ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন সানা। তাঁর আশঙ্কা তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টা হতে পারে। আদালতে তাঁর বয়ান ভার্মার ভাষ্যের পক্ষেই যাচ্ছে। সানা জানিয়েছেন ২০শে অক্টোবর সাকেত আদালতে মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বয়ান নথিভুক্ত করেন তিনি। তাঁর আশঙ্কাসেই বয়ান বদলাতে অথবা পুরোপুরি তুলে নিতে তাঁকে হুমকি দেওয়া হবে। কোনও নজরদারি ছাড়াই জেরা চললে জীবন এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা বিপন্ন হবে। ২৬শে অক্টোবর জেরার জন্য তাঁর বাড়িতে নোটিস সেঁটে দিয়েছিল সি বি আই। ২৯শে অক্টোবর হাজিরার নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকও বদলে দেওয়া হয়।

অলোক ভার্মার আবেদনের পরিপরেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। ভার্মা তাঁকে সরানোর নির্দেশকে অবৈধ ঘোষণার আরজি জানিয়েছিলেন। তবে বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ সেই আবেদনের বিশদে না গিয়ে সি ভি সি তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশই দেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement