শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তের
বিরুদ্ধে সবরিমালায় আন্দোলন
অযৌক্তিক, ক্ষোভ কেরালা হাইকোর্টের

সংবাদসংস্থা   ৯ই নভেম্বর , ২০১৮

কোচি, ৮ই নভেম্বর— সব বয়সের মহিলাদের সবরিমালায় প্রবেশের যে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ অযৌক্তিক, বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানালো কেরালা হাইকোর্ট। শীর্ষ আদালত গত সেপ্টেম্বরে রায় দেয়, সবরিমালা মন্দিরে সব বয়সের মহিলারাই প্রবেশ করতে পারবেন। তার আগে পর্যন্ত দশ বছরের মেয়ে থেকে ৫০ বছরের মহিলারা সবরিমালায় পা রাখতে পারতেন না, রজঃস্বলা হওয়ার কারণে। শতাব্দী প্রাচীন রীতি বাতিল হয়ে যাওয়ায় এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কেরালার এল ডি এফ সরকার বাস্তবায়িত করার দিকে এগলে সঙ্ঘ পরিবারের মদতে বিক্ষোভ শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের সেই বিক্ষোভ-প্রতিবাদকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। রাজ্য সরকার আগেই আদালতে জানিয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধেই সবরিমালায় বিক্ষোভ-আন্দোলন চলছে। বিচারপতি সুনীল থমাস সরকারের এই যুক্তিতেই সমর্থন জানিয়েছেন।

গত মাসে আয়াপ্পু স্বামীর পুজোর জন্য যখন ছ’দিন মন্দিরের দরজা খোলা ছিল, সেইসময় হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয় কমপক্ষে আড়াই হাজার। সেই ধৃতদের একজন, গোবিন্দ মধুসূদন জামিনের আবেদন জানায় হাইকোর্টে। সেই আবেদনের শুনানির সময় আদালত জানায়, ‘এই ধরনের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের জেরে নানারকম সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রকৃত ভক্তরা অসুবিধায় পড়েছেন। এক্ষেত্রে জামিন হলে এরকম আরও অনেক ঘটনা ঘটবে।’ গোবিন্দের বিরুদ্ধে মহিলা দর্শনার্থীদের উপর আক্রমণ এবং পথ অবরোধের অভিযোগ রয়েছে। পেম্বার কাছে নিলাক্কাল থেকে গ্রেপ্তার হয় সে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হলো বি জে পি-র রথ যাত্রা। সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়িয়ে যেভাবে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দু’বছর আগে রথের চাকা গড়িয়েছিল সঙ্ঘ পরিবার, এবারও সেই একইভাবে কেরালার সরকারের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়াতে উঠে পড়ে লেগেছে আর এস এস-বি জে পি। সেবার নেতৃত্বে ছিলেন লালকৃষ্ণ আদবানি, এবার বি এস ইয়েদুরাপ্পা। ছ’দিন ধরে চলবে এই রথযাত্রা। সবরিমালার কাছে ইরুমেলিতে গিয়ে শেষ হবে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিরোধিতা করে প্রথম থেকেই আর এস এস-বি জে পি’র মদতপুষ্ট উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা রাজ্যজুড়ে হিংসা ছড়িয়ে বিভাজনের রাজনীতি কার্যকর করার প্রয়াস নিয়েছে। বি জে পি-র কেরালা রাজ্য সভাপতির ফাঁস হয়ে যাওয়া এক ভিডিও-তে সম্প্রতি তা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। তার কয়েকদিন আগেই বি জে পি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, কীভাবে সঙ্ঘ পরিবার চক্রান্ত করছে কেরালার বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সরকারকে উৎখাত করতে। বিশেষ একটি পুজোর জন্য গত সোমবার বিকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সবরিমালা মন্দিরের দরজা খোলা হয়। সেইসময়ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। পথ আটকায় মহিলা দর্শনার্থীদের। আক্রান্ত হন সাংবাদিকরাও। উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা প্রকাশ্যে হুমকিই দিয়ে দেয় যে, কমবয়সি কোনও মহিলা সাংবাদিককে যেন সংবাদ সংগ্রহের জন্য পাঠানো না হয়। এদিকে, বি জে পি-র পাশাপাশি কংগ্রেসও রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement