বাংলাদেশে সাধারণ
নির্বাচন ২৩শে ডিসেম্বর

সংবাদসংস্থা   ৯ই নভেম্বর , ২০১৮

ঢাকা, ৮ই নভেম্বর— বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন ২৩শে ডিসেম্বর। সরকার ও বিরোধী দলের তুমুল মতবিরোধের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা একাদশ সাধারণ নির্বাচনের দিনতারিখ ঘোষণা করেছেন।

‘নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য দেশে অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে’ বলে দাবি করেছেন নুরুল হুদা। এদিকে নির্বাচন আদৌ গণতান্ত্রিক হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিরোধীরা, শুনিয়েছেন প্রতিবাদের হুঁশিয়ারি। নির্বাচনের দিন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই মাসখানেক হাসপাতালে চিকিৎসার পর জেলে পাঠানো হয়েছে আটক বিরোধীনেত্রী খালেদা জিয়াকে। ভোটে কারচুপির আশঙ্কায় তাঁর দল বি এন পি ২০১৪-র সাধারণ নির্বাচন বয়কট করেছিল। এবারের নির্বাচনে তারা অংশ নেবে কি না, এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য গোটা বিশ্বে হাসিনা সরকারের সুনাম থাকলেও, তাঁর স্বৈরাচারী পদক্ষেপ নিয়ে দেশে রয়েছে তীব্র সমালোচনা। দিন ঘোষণার পর বি এন পি-র সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে তাঁর দল ও শরিক দলগুলির মধ্যে এখনও আলোচনা চলছে। তিনি জানিয়েছেন, আমরা কমিশনের কাছে ভোট স্থগিত রাখার আরজি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তা শোনা হয়নি।

সাধারণ নির্বাচনে বি এন পি নেত্রী খালেদা জিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না প্রায় নিশ্চিত। দুটি পৃথক দুর্নীতি মামলায় ১৭-বছরের কারাবাস থেকে মুক্তি না পেলে দেশের সংবিধান অনুযায়ী তিনি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এদিকে আবেদন করার মতো সময়ও নেই। অনাথ আশ্রমের কয়েক কোটি টাকা সরানোর মামলায় কয়দিন আগেই বি এন পি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ১০ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকার হাইকোর্ট। এর আগে নিম্ন আদালতে এই মামলায় ৭৩ বছরের নেত্রীর বিরুদ্ধে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের রায় দিয়েছিল। হাইকোর্ট সাজার মেয়াদ বাড়িয়ে দ্বিগুণ করে। অন্য একটি দুর্নীতির মামলায় জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালত। দেশের আইন অনুযায়ী কোনও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না, সেই অনুযায়ী খালেদা জিয়াও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। ‘খালেদা জিয়া এই মামলায় মুখ্য অভিযুক্ত। তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। যার অর্থ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যদি না এই নির্দেশ বাতিল অথবা স্থগিত রাখা হয়।’ বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। যোগ করেন, ‘এমনকি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই রায় যদি স্থগিতও রাখা হয়, বড়জোর তিনি জেল থেকে মুক্তি পেতে পারেন, কিন্তু নির্বাচনে কোনোভাবে অংশ নিতে পারবেন না।’

জানুয়ারির ৫ তারিখের আগে বাংলাদেশে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা এদিন নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেন ২৩শে ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে নভেম্বরের ১৯ তারিখ পর্যন্ত, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিন নভেম্বরের ২২ তারিখ। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার শেষ সময় নভেম্বরের ২৯ তারিখ। তিনি জানান, পুরানো পদ্ধতির পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিন ভোট যন্ত্রে ভোট নেওয়া হবে। দেশের সবক’টি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সেইসঙ্গেই তিনি রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে কোনও মতবিরোধ থাকলে, তা রাজনৈতিকভাবে মিটিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান।

ভোটগ্রহণ হবে ৪০,০০০ ভোটকেন্দ্রে। অবাধ শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে ৬,০০,০০০ নিরাপত্তা জওয়ান থাকবেন বলে জানিয়েছেন হুদা।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement