রাজনন্দগাঁওয়ে বাজপেয়ীর নামে
ভোট চাইছে বি জে পি-কংগ্রেস

সংবাদসংস্থা   ৯ই নভেম্বর , ২০১৮

রায়পুর, ৮ই নভেম্বর — প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীকেই হাতিয়ার করেছে বি জে পি এবং কংগ্রেস! বিস্মিত হলেও এমন ঘটনারই সাক্ষী থাকছে ছত্তিশগড়ের রাজনন্দগাঁও কেন্দ্র। কারণ, ওই কেন্দ্রে বি জে পি-র হয়ে লড়ছেন স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রমণ সিং। তিনি বাজপেয়ীর নামে ভোট চাইবেন তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস প্রার্থী করুণা শুক্লা, যিনি সম্পর্কে আবার বাজপেয়ীর ভাইঝি। ফলে দুপক্ষই বাজপেয়ীর নাম ব্যবহার করে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন পুরোদমে।

বাজপেয়ী এবং বি জে পি ওতপ্রোতভাবে জড়িত, এমন কথাই প্রচার করছেন শাসকদলের নেতারা। আবার শুক্লার অভিযোগ, দ্বিচারিতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী রমণ সিং। উনি বাজপেয়ীর মতো ব্যক্তিত্বের আদর্শ অনুসরণ করেন বলে জোর গলায় সওয়াল চালাচ্ছেন। অথচ ওঁর সরকার বাজপেয়ী যা শিখিয়েছেন সেই পথ থেকে কয়েকশো যোজন দূর দিয়ে হাঁটছে। কংগ্রেসের প্রচারেই শুক্লা বলছেন, ‘‘চাল, চরিত্র এবং চেহারা সব বদলে গিয়েছে বি জে পি-র। ওরা অটলজী বা আদবানিজীর ধারা অনুসরণ করে চলছে না। ছত্তিশগড়ের মানুষ এটা ভালোভাবেই জানেন।’’ বাজপেয়ীর আদর্শ যে তিনিই বহন করে চলেছেন এটা বোঝাতে তিনি জোর গলায় জানালেন, ‘‘আমি যে অটলজীর ভাইঝি এটা তো কেউ অস্বীকার করতে পারছে না। ওঁর শিক্ষা এবং সাহস আমার রক্তে বইছে। আমি ওঁর নীতি নিয়েই চলি। রাজনন্দগাঁওয়ের মানুষ জানেন কংগ্রেস জিতে ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি-কেলেঙ্কারিতে আকণ্ঠ ডুবে থাকা সরকারের থেকে মুক্তি পাবেন তাঁরা।’’ উল্লেখ্য, করুণা শুক্লা একসময়ে ছত্তিশগড়ে বি জে পি-র পদাধিকারী ছিলেন। পরে ২০১৩সালে তিনি বি জে পি ছেড়ে দেন মতবিরোধের জের। ২০১৪সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে বিলাসপুর লোকসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাস্ত হন।

এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতেই প্রার্থী করা হয়েছে বাজপেয়ী পরিবারের কন্যাকে—এমনই আলোচনা চলছে ছত্তিশগড়ের রাজনৈতিক মহলে। তাই দুজনেই বাজপেয়ীর ‘সুশাসন’ নীতির কথা সামনে এনে ভোট চাইতে ব্যস্ত। শুক্লা এরই পাশাপাশি রমণকে নিজের কেন্দ্রের উন্নতি ঘটাননি বলে দুষছেন। অভিযোগ করছেন, ‘গত পাঁচ বছরে রাজনন্দগাঁওয়ে কোনো উন্নয়নই ঘটেনি। এই কেন্দ্রে জলের অভাব মারাত্মক। অন্যান্য সুযোগ সুবিধারও অভাব রয়েছে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি।’ শুক্লার বিশ্বাস, এসব কারণেই বি জে পি সরকারকে সমূলে উৎপাটিত করবে রাজ্যের মানুষ।

অন্যদিকে বি জে পি-র দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নিজের উদ্যোগেই ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছেন রাজনন্দগাঁওয়ে। মানুষ জানেন, তাই তাঁরা এবারও বিপুল ভোটে জয়ী করবেন রমণ সিং-কে। এছাড়া উন্নয়ন হয়েছে গোটা রাজ্যেই, সুশাসনও বজায় আছে। অটলজী-সহ বি জে পি-র প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বের ঐতিহ্য ধরেই প্রচার চালানো হচ্ছে। গতবার সিং তাঁর নিকটতম কংগ্রেস প্রার্থীকে প্রায় ৩৬হাজার ভোটে পরাজিত করেন। সেবার বি জে পি জয়ী হন ৪৯টি আসনে আর কংগ্রেস পায় ৩৯।

এবারের ভোটে কংগ্রেস ছাড়াও রয়েছে অজিত যোগীর দল জনতা কংগ্রেস ছত্তিশগড়। ওই দলের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে মায়াবতীর। প্রথমে ঠিক হয়েছিল অজিত যোগী নিজে লড়াই করবেন রমণ সিংয়ের বিরুদ্ধে রাজনন্দগাঁও আসনে। পরে মত বদলিয়ে স্থানীয় এক পৌর প্রতিনিধিকে প্রার্থী করেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত, যোগী দাঁড়ালে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তেন রমণ সিং। তাই যোগীর সরে যাওয়ার পিছনে অনেকেই বি জে পি-র সঙ্গে গোপন আঁতাত বলেই মনে করছেন। যেমন কংগ্রেসের হাত না ধরে অজিত যোগীর দলের সঙ্গে মায়াবতীর গাঁটছড়া বাঁধাকেও অন্য চোখে দেখছেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement