যুবভারতীতে বড় ম্যাচ খেলার
স্বপ্ন দেখেন ‘আপনা দানিশ’

নিজস্ব প্রতিনিধি   ৯ই নভেম্বর , ২০১৮

কলকাতা, ৮ই নভেম্বর— ‘কাউন লে রাহা হ্যায় পেনাল্টি?’

‘আপনা দানিশ’

রিয়াল কাশ্মীর এফ সি-কে নিয়ে তৈরি হওয়া বিজ্ঞাপন ভিডিও-র দুটি সংলাপ। ভিডিওটি ইতিমধ্যেই মন কেড়েছে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের। একটি ফুটবল ক্লাব ঘিরে গোটা উপত্যকার আবেগের ছবিই প্রতিফলিত হয়েছে বিজ্ঞাপনের প্রতিটি সেকন্ডে। তবে গোটা বিজ্ঞাপনের সবথেকে হৃদয়স্পর্শী অংশ উপরের দুটি সংলাপ। এক দৃষ্টিহীন কাশ্মীরি বৃদ্ধ তাঁর পাশে বসা মানুষটটি জিজ্ঞেস করছেন, কে পেনাল্টি নিতে যাচ্ছেন? উত্তর আসছে ‘আমাদের দানিশ’। দুটি শব্দ। আর দুটি শব্দই জানান দিচ্ছিল মানুষগুলোর কতটা কাছের এই দানিশ।

যাঁরা প্রথমবার নামটা শুনলেন, অথবা যাঁরা এখনও ভিডিওটি দেখেননি। তাঁদের মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে কে দানিশ দানিশ ফারুক। গোটা কাশ্মীর উপত্যকা যাঁর পরিচয় দিচ্ছে, ‘আপনা দানিশ’। দানিশ এখন গোটা কাশ্মীরের। প্রতিটি মহল্লার। প্রতিটি ঘরের। কাশ্মীর যে নতুন স্বপ্ন দেখছে এখন, সেই স্বপ্নের নায়ক দানিশ। রিয়াল কাশ্মীর এফ সি-র আই লিগে সুযোগ পাওয়ার পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে দানিশের। চারটি গোল করেছিলেন দ্বিতীয় ডিভিসন আই লিগে। বছর বাইশের এই স্ট্রাইকার সমর্থক থেকে সতীর্থ, সবার কাছেই পরিচিত ‘কাশ্মীরি রোনাল্ডো’ নামে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর অন্ধ ভক্ত দানিশ ফারুক। চুলের স্টাইল থেকে খেলার ধরন, সব কিছুতেই নকল করেন রোনাল্ডোকে। দুরন্ত গোল করার ক্ষমতার জন্যই তিনি আজ ‘কাশ্মীরি রোনাল্ডো’।

৬ই নভেম্বর। ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসের নতুন ইতিহাস লেখার দিন। আই লিগে প্রথমবার ঘরের মাঠে খেলতে নামল কাশ্মীরের একটি ফুটবল ক্লাব। রিয়াল কাশ্মীরের প্রথম হোম ম্যাচেই দুরন্ত খেলেছেন দানিশ ফারুক। তাঁর একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের সেরাও তিনি। সব মিলিয়ে তিনিই এখন কাশ্মীরের ‘মুখ’। আর তাঁর স্বপ্ন কি জানেন? বৃহস্পতিবার অনুশীলনের পর ফোনে শোনালেন তাঁর সেই স্বপ্নের কথা। ‘ফুটবল শুরু করার পর থেকেই দুটি স্বপ্ন দেখি। প্রথম স্বপ্ন ভারতীয় জাতীয় দলের হয়ে খেলা। আর দ্বিতীয় স্বপ্ন যুবভারতীতে বড় ম্যাচ খেলা। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের কত ম্যাচ দেখেছি। কত লোক খেলা দেখতে আসেন যুবভারতীতে।’ আপনার প্রিয় দল কি? দানিশের চটজলদি উত্তর। ‘ছোট থেকেই মোহনবাগানই আমার প্রিয় দল।’ তাঁর বাবা ফারুক আহমেদ খেলে গিয়েছিলেন মহামেডানে।

কয়েক মাস আগেও দানিশের জীবনটা কিন্তু এতোটা মসৃণ ছিল না। টি আর সি টার্ফ মাঠে অনুশীলনে যাওয়ার সময় তাঁকে আটক করেছিলেন সি আর পি এফ জওয়ানরা। শেষ পর্যন্ত এক সিনিয়র অফিসার তাঁকে চিনতে পারেন, বাকিদের বোঝান যে দানিশ কাশ্মীরের হয়ে ইতিমধ্যেই সন্তোষ ট্রফি খেলেছেন। সেইদিন আর এখনের কতটা ফারাক? শ্রীনগরের বছর বাইশের যুবক জানালেন, ‘অনেকটাই তফাত। রিয়াল কাশ্মীর আমাদের একটা মঞ্চ দিয়েছে। প্রমাণ করার। আমাকে যখন রাস্তাঘাটে মানুষজন চিনতে পারে, ডেকে কথা বলে। নিজেরই খুব গর্ব হয়। মনে হয় এরা সবাই আমার নিজের মানুষ।’ আই এস এলের অফার থাকলেও রিয়াল কাশ্মীরেই থেকে গেছেন এবার। ‘আমাদের পরিশ্রম করতে হবে এখনও। অনেকটা পথ চলা বাকি’ স্বপ্নাতুর লাগছিল দানিশকে।

শুরুটা হয়েছিলো বিজ্ঞাপন দিয়ে। শেষটাও তাই হোক। ভিডিওতে দৃষ্টিহীন সমর্থকটি বলছিলেন, ‘পহেলিবার মেহসুস হুয়া কি কাশ্মীরকি আওয়াজ এক হ্যায়’। এটাই সত্যি। রিয়াল কাশ্মীরকে কেন্দ্র করেই জোট বাঁধছে উপত্যকা। দানিশও বলছিলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ফুটবল আমাদের রাজ্যের পরিস্থিতি পালটে দিতে পারে।’ বিশ্বাসকে মূলধন করেই স্বপ্ন দেখছে ভূস্বর্গ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement