শিলিগুড়িতে আলোচনাসভায় মৃদুল দে
বিকল্প সমাজতন্ত্রই, তাই শতবর্ষ
পরেও প্রাসঙ্গিক নভেম্বর বিপ্লব

নিজস্ব সংবাদদাতা   ৯ই নভেম্বর , ২০১৮

শিলিগুড়ি, ৮ই নভেম্বর — নভেম্বর বিপ্লবের আলোয় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্দোলন সংগ্রামকে আরও দৃঢ় করে তোলার আহ্বান জানালেন সি পি আই (এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মৃদুল দে। বৃহস্পতিবার তিনি শিলিগুড়ির অনিল বিশ্বাস ভবনে রতনলাল ব্রাহ্মণ কক্ষে এক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন। সভা পরিচালনা করেন পার্টির রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অশোক ভট্টাচার্য। এছাড়াও আগামী দিনে পার্টির বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বক্তব্য রাখেন পার্টির জেলা সম্পাদক জীবেশ সরকার ও নুরুল ইসলাম। অশোক ভট্টাচার্য আগামী ৮ ও ৯ই জানুয়ারি ১২দফা দাবির ভিত্তিতে দুদিনের দেশব্যাপী ধর্মঘট সফল করতে বিভিন্ন কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

এদিন মৃদুল দে বলেন, নভেম্বর বিপ্লব এখনও প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে আমাদের দেশে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের মধ্যে জীবনধারণের ক্ষেত্রে অসাম্যের বিরাট ফারাক তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আক্রমণ বাড়ছে। নভেম্বর বিপ্লবের শিক্ষাকে সামনে রেখে আমাদের লড়াই সংগ্রামে শামিল হতে হবে। মুক্তির রাস্তা একটাই, বিকল্প একমাত্র সমাজতন্ত্রই।

সভায় মৃদুল দে কেন্দ্রের মোদী সরকারের ৫০০ ও ১০০০টাকার নোট বাতিলের প্রেক্ষাপট বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করেন। তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৮সালের ১৯শে অক্টোবর পর্যন্ত রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানাচ্ছে যে বর্তমানে দেশে নগদ রয়েছে ১৯.৬৮লক্ষ কোটি টাকা। যা ২০১৬সালে ৮ই নভেম্বরের সময়ে যতো নগদ ছিল তার চেয়ে ৯.৫ শতাংশ বেশি। ২০১১-১২সাল থেকেই দেশে মোট জাতীয় উৎপাদনের অংশ হিসাবে নগদ টাকার পরিমাণ প্রায় ১১থেকে ১২শতাংশ থাকে। তিনি বলেন, নোটবন্দির পর স্বাভাবিকভাবেই মানুষের হাতে নগদ ছিল না। কিন্তু তা ফের বাড়তে বাড়তে এখন সেই ১২শতাংশতে এসেই দাঁড়িয়েছে প্রায়। এছাড়া নগদ টাকা কমানোর সঙ্গে আর্থিক দুর্নীতি দমনের কোনও সম্পর্ক নেই। দেশের মানুষের এটাই অভিজ্ঞতা। নোটবন্দির ফলে ক্ষুদ্র অসংগঠিত ক্ষেত্র ভেঙে পড়েছে। কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে নোটবন্দির যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল তা আজও কাটিয়ে ওঠা যায়নি। নোটবন্দির কোনও সুফল হয়নি। বরং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ।

সাম্প্রদায়িকতার বিপদ সম্পর্কে সচেতন করে এদিন মৃদুল দে বলেন, মানুষের ক্ষোভ অসন্তোষকে ব্যবহার করার জন্য উগ্র দক্ষিণপন্থা নয়া ফ্যাসিবাদী শক্তি ও বিভিন্ন মৌলবাদী ও বিভেদকামী শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার জিগির তুলে বিভেদের সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, ধর্মকে রাষ্ট্র ও রাজনীতি থেকে পৃথক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখাই হলো ধর্মনিরপেক্ষতা। আমাদের সংবিধানেও আছে বাক্‌ স্বাধীনতা ও ধর্মের অধিকার। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ ১৯২৫সালে জন্মলগ্ন থেকেই স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন। দেশ ভাগ, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ এবং কমিউনিস্ট বিরোধী অভিযানকে মূল মন্ত্র করে আর এস এস সেই থেকে আজ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হয়ে তারজন্য গোটা রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করছে। গণতান্ত্রিক, মুক্তমনা ও স্বাধীনচেতা মানুষও ওদের আক্রমণের লক্ষ্যস্থল। তিনি বলেন, বি জে পি সাধারণ কোনও বুর্জোয়া দল নয়। ফ্যাসিস্ত আর এস এস দ্বারা বি জে পি পরিচালিত। আর্থিক নৈরাজ্য ও গণতন্ত্র ধ্বংসের পাশাপাশি হিংস্রতা ও নানা কৌশলে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে উঠে পড়ে লেগেছে মোদীর সরকার। শ্রমজীবী মানুষের ঐক্যকে আরও সুসংহত করতে এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, এই আন্দোলনেরই আরেক বৃহত্তম অঙ্গ আগামী ৮ ও ৯ই জানুয়ারি ৪৮ঘণ্টার ধর্মঘট।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement