১০ই স্কুল খুলবে, দাড়িভিটে সর্বদলীয়
সভায় প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

ছাত্রদের পাশে এ বি টি এ

বিশ্বনাথ সিংহ   ৯ই নভেম্বর , ২০১৮

রায়গঞ্জ : ৮ই নভেম্বর- দাড়িভিটের অচলাবস্থা কাটাতে সর্বদলীয় বৈঠক হলো ইসলামপুরে। স্কুল খুলবে ১০ তারিখ কিন্তু সি বি আই তদন্ত বিচার অথবা বিভাগীয় তদন্তের কী হবে তা ষ্পষ্ট হয়নি।

মহকুমা শাসকের দাবি বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সর্বদলীয় সভা শেষে মহকুমাশাসক বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। ১০ তারিখ স্কুল খোলা হচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিরা বেশ কিছু দাবি জানিয়েছেন। তবে বৈঠকে উপস্থিত শাসকদলের প্রতিনিধি ছাড়া সব বিরোধী প্রতিনিধিরা বলেন, বৈঠক সফল হয়নি। যে আই সি নেতৃত্বে ২০শে সেপ্টেম্বরে ঘটনা ঘটেছে সেই আই সি সাহেব সর্বদলীয় সভায় গরহাজির কেন? সেদিন যার নেতৃত্বে গুলি চলেছিল তাঁকেই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি কি? প্রশ্ন উঠেছে সর্বদলীয় সভায়। এস ডি পি ও এলেন এবং হঠাৎ চলেও গেলেন! ইসলামপুর থানার আই সি-র থেকে কোনও জবাব পাওয়া গেল না। আগামীতে জেলাশাসকের উপস্থিতিতে প্রশাসনকে আবারও বৈঠক ডাকতে হবে। ইসলামপুরবাসীর প্রশ্নের জবাব আই সি-কে দিতেই হবে। 

উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরের বিবেকানন্দ মঞ্চে মহকুমা শাসকের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে সি পি আই (এম) দলের প্রতিনিধিত্ব করেন স্বপন গুহনিয়োগী, বাজিল আক্তার, এছাড়াও ছিলেন বিধায়ক তৃণমুল নেতা কানাইলালা অগ্রবাল সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

এদিনে সর্বদলীয় সভায় সি পি আই(এম)-র তরফে দৃঢ়ভাবে ঘটনার প্রকৃত তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়। সি আই ডি তদন্তের গ্রামবাসীদের আস্থা নেই তাও জানানো হয়।

সি পি আই(এম) সহ বিরোধীদের প্রবল প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয় প্রশানসকে। পুলিশের গুলিতে দুই ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যব্যাপী তোলপাড় হয়, ৪৮ দিন ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত আর একটা সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে তাঁদের ৪৯ দিন সময় লেগে গেল? নির্দোষ যে ৮ গ্রামবাসী গ্রেপ্তার সেই ব্যক্তিদের জামিন কি হবে? প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের দাবি তোলেন প্রায় সকলেই। বিধায়ক কার্যত স্বীকার করে নেন যে স্কুলের পরিচালন সমিতি ও প্রধানশিক্ষক ১৯শে সেপ্টেম্বরে গৃহীত সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে শিক্ষকদের যোগদান করানো একটি ভুল পদক্ষেপ ।

গত ২০শে সেপ্টেম্বর ইসলামপুরের পন্ডিতপোঁতা-২গ্রাম পঞ্চায়েতের দাড়িভিট স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের সংক্রান্ত বিক্ষোভে শামিল হয় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা। তা চূড়ান্ত চেহারা নেয় ২০শে সেপ্টেম্বর। নতুন নিয়োগপত্র পাওয়া শিক্ষকের সঙ্গেই স্কুলে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী, উত্তেজনা চরমে পৌছায়। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় দাড়িভিট স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মণের। গুলিবিদ্ধ হয় স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র বিপ্লব সরকার।

বুধবার সন্ধ্যায় দাড়িভিটে মোমবাতি মিছিল শেষে নিহত দুই পড়ুয়ার পরিজনেরা জানিয়েছিলেন, স্কুল গেট থেকে ধর্ণা আন্দোলন তাঁরা সরিয়ে নেবেন।  স্কুলের প্রায় ১৯০০ পড়ুয়ার ভবিষতের কথা ভেবে তাঁরা স্কুল খুলতে সাহায্য করবেন। তবে গ্রামবাসীরা সিবিআই তদন্ত ও আট গ্রামবাসীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এখনও অনড়। 

অন্যদিকে দাড়িভিট হাইস্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালো এ বি টি এ। বৃহস্পতিবার স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের হাতে মডেল কোশ্চেন পেপার, সহায়ক পুস্তক সংগঠনের পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয়। সংগঠনের নেতৃত্ব বিপুল মৈত্র, ক্ষীতিশ সরকার, মল্লিকা সাহা, সোমনাথ মজুমদার ছাড়াও জেলার বহু শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ। ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে শিক্ষক শিক্ষিকাদের দূরত্ব বেড়েছে। ছাত্রছাত্রীদের সাথে শিক্ষক সম্পর্ক অটুট রাখতেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয় সংগঠনের তরফে। মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীদের মাধ্যমিক টেস্ট পেপার বিনামুল্যে দেওয়া হবে। টেস্টের পরেই ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা করতে বিশেষ কোচিং ক্লাস করা হবে জানালেন সংগঠনের জেলা সম্পাদক বিপুল মৈত্র। ছাত্রছাত্রীদের হাতে সহায়ক পুস্তক বিতরণ শেষে এ বি টি এ নেতৃত্বের অভিযোগ ঘটনার সাথে যুক্ত মূল অভিযুক্তদের আড়াল করতেই দাড়িভিট হাইস্কুলের শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করা হয়েছে।  অবিলম্বে শিক্ষকদের বেতন প্রদান ও ছাত্রছাত্রীদের-অভিভাবকদের দাবি পূরণ করে সুষ্ঠুভাবে স্কুল চালু করার দাবি তোলে সংগঠন।

Featured Posts

Advertisement