রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বোর্ড বৈঠকে
বিরোধের ফয়সালা হলো না

নিজস্ব প্রতিনিধি   ২০শে নভেম্বর , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ১৯শে নভেম্বর- রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উদ্বৃত্ত তহবিলের ভাগ নিয়ে ফয়সালায় বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বোর্ড। সোমবার বোর্ডের বৈঠক শেষে প্রেস বিবৃতিতে এখবর জানিয়ে দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কেন্দ্রের সঙ্গে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিভিন্ন প্রশ্নে যে বিরোধ গড়ে উঠেছিল এদিনের বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে অনাদায়ী ঋণ আদায়ে যে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা হয়েছে ক্ষুদ্র ছোট শিল্পে ঋণ বিলি নিয়ে। ঋণ আদায় কড়াকড়ি শিথিল করার কেন্দ্রের প্রস্তাব রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আর্থিক বিষয় নজরদারি কমিটি খতিয়ে দেখবে বলে স্থির হয়েছে। এই বৈঠক নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্বাধীনতা খর্ব করার উদ্যোগ, তার টাকার ভাগ, কর্পোরেট ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শিথিল করতে চাপ, সবই ছিল এদিনের বৈঠকে। তবে বৈঠকে কেন্দ্রের পক্ষে সার্বিকভাবে কোন ফয়সালা মেলেনি। এনিয়ে বিতর্ক কমাতে তাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বৈঠক শেষে জানিয়েছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে কোন সংঘাত হয়নি। সৌহার্দমূলক পরিবেশে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আমরা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে কোন সংঘাতের মধ্যে যেতে চাইনি।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে মোদী সরকারের বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধ শুরু হয়েছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। তা চরমে ওঠে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উদ্বৃত্ত তহবিলের ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা ভাগ নিয়ে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উদ্বৃত্ত তহবিলের পরিমাণ এবছর ৯.৫৯ লক্ষ কোটি টাকা। কেন্দ্রের কোষাগারে ৩.৬লক্ষ কোটি টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্কে চিঠি দেয় কেন্দ্র। তা মানেনি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। বোর্ডের বৈঠকে এই টাকার ভাগ নিয়ে আলোচনা হয়। কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা স্বাভাবিকভাবেই তা কেন্দ্রের কোষাগারে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তা নিয়ে আপত্তি জানায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এই বিরোধের ফয়সালায় তাই বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই বিশেষজ্ঞ কমিটিতে কারা থাকবেন, কমিটি কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে তা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও কেন্দ্রীয় সরকার আলাদা ভাবে বসে স্থির করবে। বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের পর এই বিষয়ে ফয়সালা হবে। ফলে এই মুহূর্তে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উদ্বৃত্ত তহবিলে ভাগ বসাতে পারছে না কেন্দ্র।

এদিকে এই কমিটির আলোচ্য বিষয়ে যে ইস্যুগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে তা হলো দেশের আর্থিক স্থিতি মজবুত করা, আর্থিক নীতিতে স্বচ্ছতা আনা, বিদেশি মুদ্রা পরিচালনা মজবুত করা প্রভৃতি।

এদিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অনাদায়ী ঋণ মোকাবিলায় দ্রুত সংশোধনী পদক্ষেপ (পি সি এ) গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপে কোন কোন উপাদান থাকলে অনাদায়ী ঋণ বলে বিবেচিত হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে। এদিকে বিপুল অনাদায়ী ঋণের সিংহভাগই হলো কর্পোরেট ঋণ। এতে বেকায়দায় পড়েছে কর্পোরেট সংস্থাগুলি। তাই কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়িয়েছে কর্পোরেট। কেন্দ্রের দাবি, শিথিল করা হোক এই পদক্ষেপ। রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে এই পদক্ষেপ শিথিল করার জন্য চিঠিও দিয়েছে কেন্দ্র। এনিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে তবে কেন্দ্রের দাবিমতো তা শিথিল করতে রাজি হয়নি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। বৈঠকে তা ফয়সালা হয়নি। সিদ্ধান্ত হয়েছে এই পি সি এ বিষয়টি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আর্থিক বিষয় নজরদারি কমিটি (বি এফ এস) খতিয়ে দেখবে। এছাড়া ক্ষুদ্র ছোট মাঝারি শিল্পে ঋণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে স্থির হয়েছে এই ক্ষেত্রে যাদের ২৫ কোটি টাকা অনাদায়ী ঋণ রয়েছে তাদের ঋণ পুনর্গঠন করা হবে।

এদিন বোর্ডের বৈঠকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর এবং ৪জন ডেপুটি গভর্নর ও কেন্দ্র মনোনীত ১৩জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন আর এস এস ঘোষিত অর্থনীতিবিদ গুরুমূর্তি। মোদী সরকারের সঙ্গে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিরোধের সময়ে আরএসএস অনেকটা তৎপর হয়েই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্বাধীনতা খর্ব করার পক্ষেই প্রচার করে। অনেকেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর উর্জিত প্যাটেলকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হবে বলেও জানান। তবে বৈঠকের শেষে আরএসএস-র দাবিমতো ইস্তফার কোন ঘটনা ঘটেনি। এদিন বৈঠকে বোর্ডের সদস্য গুরুমূর্তি, অর্থমন্ত্রকের সচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ, রাজীব কুমার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নজরদারির অভাব ছিল বলে অভিযোগ জানান।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement