গণহত্যায় মোদীর বিরুদ্ধে
মামলার শুনানি পিছালো

সংবাদসংস্থা   ২০শে নভেম্বর , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ১৯শে নভেম্বর- গুজরাট গণহত্যার দায় থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ছাড় দেওয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জাকিয়া জাফরি দায়ের করা মামলার শুনানি আরো সাতদিন পিছিয়ে গেলো। ২০০২সালে গণহত্যায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ক্লিন চিট দিয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। সিটের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন সেই গণহত্যায় নৃশংসভাবে খুন হয়ে যাওয়া কংগ্রেসের সাংসদ এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি। গণহত্যার পর্বে নৃশংসতম ঘটনাগুলির একটি ছিল আমেদাবাদের সংখ্যালঘু নিবিড় গুলবার্গ সোসাইটির সেই হত্যাকাণ্ড। এক রাতেই সেখানের ৬৯ জন মানুষকে খুন করা হয়েছিল। বাড়ি থেকে টেনে বার করে এনে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল এহসান জাফরিকেও। অভিযোগ, পুলিশ সব জেনেও চুপ ছিল, কিছু করেনি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনেছিলেন এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি।

সেই মামলায় সোমবার বিচারপতি এ এম খানউইলকার এবং দীপক গুপ্তাকে নিয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানিয়েছে, ‘‘বিশদ শুনানির জন্য আরও কিছুটা সময় লাগবে। তাই আবেদনের উপর শুনানি হবে আগামী ২৬শে নভেম্বর।’’ একই সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, মূল মামলার শুনানির আগে জাকিয়ার আরজিতে সহ-আবেদনকারী হতে চেয়ে সমাজকর্মী তিস্তা শীতলাবাদের আবেদনটি আগে খতিয়ে দেখা হবে।

আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র আপত্তি তোলেন বরিষ্ঠ আইনজীবী মুকুল রোহতগি। তাঁর দাবি, জাকিয়ার আবেদনটি গ্রহণযোগ্যই নয়। মামলায় তিস্তা শীতলাবাদের দ্বিতীয় আবেদনকারী হওয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান তিনি। তাঁর দাবি, এতদিন পর্যন্ত ১নং আবেদনকারী জাকিয়া জাফরিই ছিলেন মামলায় অভিযোগকারী এবং তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন সেটাও বোঝা গেল। কিন্তু তিস্তা শীতলবাদকে মামলায় ২নং আবেদনকারী বানানোয় তাঁর ঘোর আপত্তি আছে বলে জানান রোহতগি। তাঁর কথায়, নিম্ন আদালত, হাইকোর্ট কোথায় তো তিস্তা ছিলেন না। যদিও আবেদনে সবকটা হলফনামাই তো সাংবাদিক তিস্তা শীতলাবাদের দায়ের করা। একটাও তো জাফরির করা নয়। একইসঙ্গে রোহতগির যুক্তি, নিম্ন আদালত এই মামলায় রায় দিয়েছে। হাইকোর্টও রায় দিয়েছে। ঘটনা তো ২০০২-এর। এ তো অবিরাম চলতে পারে না। কোথাও তো একটা থামতে হবে আর তাই মামলাটাই খারিজ করে দিতে হবে।

এব্যাপারে জাকিয়া জাফরির আইনজীবী সি ইউ সিং বলেন, মূল আবেদনকারী একজন আশি বছর বয়সি বৃদ্ধা। তাই তাঁকে সাহায্য করতে শীতলাবাদকে দ্বিতীয় আবেদনকারী করা হয়েছে। এব্যাপারে আদালতের মত হলো, আবেদনকারীকে সহায়তা করার জন্য যদিও কারোর সহ-আবেদনকারী হওয়ার দরকার পড়ে না। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, আগামী সোমবার মূল বিষয়ের উপর শুনানির আগে শীতলাবাদের দ্বিতীয় আবেদনকারী হওয়ার আবেদনটি খতিয়ে দেখা হবে।

আগের দিন শুনানিতেই জাকিয়ার আইনজীবী দাবি করেছিলেন, মামলায় নোটিস জারি করতে। কারণ এই বিষয়টি ছিল ২০০২-এর ২৭শে ফেব্রুয়ারি থেকে সে বছরের মে মাসের ঘটে যাওয়া বৃহত্তর চক্রান্তের অংশ।

সেই গণহত্যার দশ বছর পর, ২০১২সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) জানায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তেমন ‘তথ্য প্রমাণ মেলেনি’। সেই মতো ক্লোজার রিপোর্ট পেশ করে মোদীকে ক্লিনচিট দিয়েছিল বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। শুধু মোদী নয়, একইসঙ্গে শীর্ষ সরকারী আধিকারিক সহ আরও ৬৩জনের বিরুদ্ধেও ‘কোনও প্রমাণ না মেলায়’, তাদেরও ক্লিনচিট দেয় সিট। সিট-এর ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিম্ন আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন জাকিয়া জাফরি। সেই মামলায় বরাবর তাঁর পাশে থেকে তাঁকে সাহায্য করেছে মানবাধিকার কর্মী তিস্তা শীতলবাদের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড পিস’। নরেন্দ্র মোদীকে ক্লিনচিট দেওয়ার বিরুদ্ধে গুজরাট হাইকোর্টেও আবেদন জানিয়েছিলেন জাকিয়া জাফরি। কিন্তু ২০১৭ সালে ৫ই অক্টোবর তাঁর আবেদন খারিজ করে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে মামলা থেকে ছাড় দেওয়া হয়। এরপর আইনজীবী অপর্ণা ভাটের মাধ্যমে জাকিয়া জাফরি নরেন্দ্র মোদীকে ক্লিন চিট দেওয়ার বিরুদ্ধে আবেদন জানান সুপ্রিম কোর্টে। তার ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট জাকিয়া জাফরির সেই আবেদনে সায় দিয়ে গণহত্যায় ‘মুখ্যমন্ত্রী’ মোদীর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে। সেই শুনানি সোমবারই শুরু হওয়ার কথা ছিল। আদালত সেই শুনানি সাত দিন পিছিয়ে দিল।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement