ইস্তফা দিলেন বিভাস চক্রবর্তী

‘নাট্য আকাদেমিতে কাজ নেই’,

নিজস্ব প্রতিনিধি   ২০শে নভেম্বর , ২০১৮

কলকাতা,১৯শে নভেম্বর- ‘‘নাট্য আকাদেমিতে এখন এমন কোনও কাজ নেই, যার জন্য আমার মতো সিনিয়রের পরামর্শ প্রয়োজন। রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তও তো নেই, তাতে কী হয়েছে। এ সবে কিছুই হয় না।’’ প্রবীণ নাট্যকার বিভাস চক্রবর্তীর এখন উপলব্ধি এমনই। ২০১১ সালে তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত সাত বছর ধরে টানা নাট্য আকাদেমির উপদেষ্টা পর্ষদের সদস্য ছিলেন বিভাস চক্রবর্তী। রাজ্যে তৃণমূলপন্থী বুদ্ধিজীবী, মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত বিভাস চক্রবর্তী। স্বাভাবিকভাবেই সাত বছর পরে তাঁর এই ‘উপলব্ধি’ নিয়ে প্রশ্ন ওঠাও স্বাভাবিক।

জানা গিয়েছে, বেশ কিছু দিন আগেই বিভাস চক্রবর্তী নাট্য আকাদেমির উপদেষ্টা পর্ষদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা পত্র জমা দেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব বিবেক কুমারের কাছে। নবান্ন সূত্রেই জানা গিয়েছে, এই ইস্তফা পত্র গ্রহণ করেছে সরকার। কিন্তু কেন হঠাৎ এই ছন্দপতন? সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, ‘‘এর পিছনে অন্য কোনও ব্যাপার নেই, বয়স আশি পেরিয়ে গিয়েছে। এই বয়সে নাট্য আকাদেমিকে পরামর্শ দেওয়ার নতুন করে কী আছে? আমি তাই অব্যাহতি চেয়েছি সরকারের কাছে। রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তও তো নেই নাট্য আকাদেমিতে।’’ উল্লেখ্য, এর আগে আরেক পরিবর্তনপন্থী নাট্য ব্যক্তিত্ব শাঁওলি মিত্রও নাট্য আকাদেমি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। নাট্য আকাদেমিতে কাজের সুযোগ নিয়ে তিনিও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। অবশ্য পরবর্তী সময়ে সেই ইস্তফা পত্র গ্রহণ করেনি সরকার। তবে এক্ষেত্রে বিভাস চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘‘আমার বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা চিঠিতে সরকারকে জানিয়েছি।’’ বারবারই পরিবর্তনপন্থী বুদ্ধিজীবীরা যেভাবে নাট্য আকাদেমি থেকে পদত্যাগ করার কথা বলছেন, তাতে সরকারও রীতি মতো অস্বস্তিতে। তবে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফে কোনও আধিকারিক এই বিষয়ে মন্তব্য করেননি।