বাঁকুড়া জেলাকে নির্মল জেলা
হিসাবে ঘোষণা স্থগিত রাখল প্রশাসন

গণশক্তিতে প্রকাশিত খবরের জের

নিজস্ব সংবাদদাতা   ২০শে নভেম্বর , ২০১৮

বাঁকুড়া, ১৯শে নভেম্বর— গণশক্তির সংবাদের জেরে বাঁকুড়া জেলাকে ‘নির্মল জেলা’ হিসাবে ঘোষণা স্থগিত রাখল প্রশাসন। সোমবারই বাঁকুড়া রবীন্দ্রভবনে ঘটা করে এই সরকারি ঘোষণা করার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছি। তার আগেই বেশ কয়েকদিন ধরে জেলার একাধিক ব্লককে শৌচাগার হোক আর নাই হোক জেলা স্তরের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিক ও শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ব্লকগুলিকে নির্মল ব্লক হিসাবে ঘোষণা করে দেওয়া হয়। সেই সব অনুষ্ঠানে ছিল চোখ ধাঁধানো খরচের এলাহি কারবার। শনিবারই গণশক্তিকে জেলার ‘নির্মল’ চিত্রের তথ্য তুলে ধরা হয়। একাধিক গ্রামের মানুষ জানিয়েছিলেন শৌচাগার তৈরি করার জন্য কোন সরকারি কর্মী তাঁদের কাছে আসেননি। বেশ কিছু জায়গায় পঞ্চায়েতের কর্মীদের ভোর বেলায় গ্রামের মাঠে ঘাটে পাঠিয়ে দেওয়া হয় মানুষ প্রকাশ্যে শৌচকর্ম করছে কিনা দেখতে। ভোরবেলাতেই মানুষকে চরম অপমানিত হতে হয়। সেখানে মহিলারাও বাদ যাননি। ক্ষোভ প্রকাশ করেন মানুষ। ভেতরে ভেতরে পঞ্চায়েত কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দেয়। এরকম অমানবিক কাজ করতে বাধ্য ছিলেন বলে জানান অনেক কর্মী।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের জায়গায় মিশন নির্মল বাংলা নাম দিয়ে বর্তমান রাজ্য সরকার যেখানে যেখানে শৌচাগার গুলি বানিয়েছে তার একটা বড় অংশে মানুষ সেগুলি শৌচাগার হিসাবে ব্যবহার করছেন না। সেগুলি ইট, পাথর, ঘুঁটে, বাড়ির আবর্জনা রাখার জায়গা হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এলাকাগুলিতে জলের ব্যবস্থা না করেই এসব করা হয় বলে মানুষের অভিযোগ। এই অবস্থা জেনেও প্রশাসন তড়িঘড়ি করে বাঁকুড়া জেলাকে নির্মল জেলা হিসাবে ঘোষণা করার উদ্যোগ নেয়। সোমবার তার জন্য এই প্রকল্পের রাজ্য আধিকারিক দিব্যেন্দু সরকার বাঁকুড়ায় আসেন। কিন্তু এদিন ‘নির্মল জেলা’ ঘোষণা করতে পারলেন না। বরং রবীন্দ্রভবন মঞ্চে জনস্বাস্থ্য সচেতনতার শপথ বাক্য পাঠ করালেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বাঁকুড়া জেলাকে নির্মল জেলা হিসাবে ঘোষণা করা হলো না। এদিন বিশ্ব শৌচাগার দিবস হিসাবে এটি পালিত হলো। তিনি স্বীকার করে নেন গ্রাম ছাড়াও বাঁকুড়া জেলার খোদ বাঁকুড়া, সোনামুখী, বিষ্ণুপুর তিনটি পৌরসভায় এলাকাকেই এই শৌচাগার নির্মাণের কাজ বাকি আছে। সেগুলি করা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর এগুলি দেখবে। তিনি জানান, যে সার্ভের উপর এগুলি হয়েছে সেখানে জেলায় সাড়ে চার লক্ষ পরিবারে শৌচাগার গেছে। বাকিগুলিও করা হবে। জেলার মানুষের বক্তব্য রাজ্য আধিকারিক যা হিসাব দিয়েছেন ওই সংখ্যক শৌচাগার হয়নি জেলায়। বহু বাকি আছে। তবে এদিন সভা থেকে জনস্বাস্থ্য সচেতনার একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়।