বহরমপুরে শিক্ষক সমাবেশে ডাক
পে-কমিশন নিয়ে তামাশা বন্ধ করো

নিজস্ব সংবাদদাতা   ২০শে নভেম্বর , ২০১৮

বহরমপুর, ১৯শে নভেম্বর — বিগত আর্থিক বছরে শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ অর্থসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ অর্থ পুরোপুরি খরচ করতে পারেনি রাজ‍্য সরকার। এ রাজ্যের শিক্ষক কর্মচারীদের বকেয়া ৫৬ শতাংশ মহার্ঘভাতা না মিটিয়ে খেলা, মেলা, উৎসবে ও ক্লাবে দেদার টাকা খরচ করছে বর্তমান সরকার। পে-কমিশনের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়ে দিয়ে পে-কমিশনকে কার্যত শীত ঘুমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পে- কমিশন নিয়ে রাজ‍্য সরকার যে তামাশা শুরু করেছে, তা বন্ধ না হলে শিক্ষক শিক্ষিকাদের ঐক‍্যবদ্ধ করেই আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতে হবে।

সোমবার বহরমপুরে ডি আই দপ্তরের সামনে শিক্ষক শিক্ষিকাদের বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন নেতৃবৃন্দ। এদিন এ বি টি এ বহরমপুর মহকুমা শাখার ডাকে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজ‍্য সভাপতি ও সাংসদ বদরুদ্দোজা খান, মহকুমা সম্পাদক গৌতম ব‍্যানার্জি, জেলা নেতা জুলফিকার আলি, মহম্মদ সবুর আলি প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মহকুমা সভাপতি মহম্মদ সবুর আলি।

    বদরুদ্দোজা খান বলেন, এ রাজ্যে একটা অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজ‍্যের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো নেই। বেকারদের কাজ নেই। কৃষকদের ফসলের দাম নেই। খেতমজুর- শ্রমিকদের ন্যায‍্য মজুরি নেই। বিদ্যালয় মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ নেই। শিল্প- কলকারখানা একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাজ‍্যের শিক্ষক কর্মচারীরা যে সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদা লাভ করেছিলেন, সেই মর্যাদা খর্ব করার চেষ্টা করছে বর্তমান রাজ‍্য সরকার। শিক্ষক শিক্ষিকাদের পাঠদানের থেকেও শিক্ষা বহির্ভূত কাজ করতে বাধ‍্য করা হচ্ছে । 

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আট জনের একটি প্রতিনিধি দল জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ‍্যমিক) পূরবী বিশ্বাস দে - র কাছে পাঁচ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন। ডি আই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

মুর্শিদাবাদ জেলার ১৬৮ জন মাদ্রাসা শিক্ষকের এখনও বেতন হয়নি। বিষয়টির ডি আই- এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রতিনিধি দল।

একই দাবিতে শুক্রবার ডোমকল এ. আই দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে শামিল হন ডোমকল মহকুমার শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এ বি টি এ ডোমকল মহকুমা সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সভাপতি গোলাম আহমেদ মোর্তজা, আজিজুল ইসলাম, দিব‍্যেন্দু ধর, তরুণ ঘোষ প্রমুখ।