বেতন পাননি বৃত্তিমূলকের
১৩ হাজার শিক্ষক, প্রশিক্ষক

নিজস্ব প্রতিনিধি   ৭ই ডিসেম্বর , ২০১৮

কলকাতা, ৬ ডিসেম্বর— সামান্য বেতন তাঁদের। কিন্তু চলতি মাসে এখনও বেতন পাননি তাঁরা। কবে বেতন হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

প্রতি মাসের শুরুতেই বৃত্তিমূলক শিক্ষকরা বেতন পেয়ে যান। মাস শুরুর এক সপ্তাহ হতে চলেছে। কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে শিক্ষকরা যোগাযোগ করলে বেতন কবে হবে, তা জানানো হয়নি। বিশেষ এক সূত্রের খবর, ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে দপ্তরের এক অংশের কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে দপ্তরের পক্ষ থেকে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়, তার নামমাত্র অর্থ খরচ করা হয়। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ল্যাবের জন্য যে সব সরঞ্জাম কেনা হয়, অনেক ক্ষেত্রে তার হিসাব দপ্তরে আসে না। কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের এক অংশের কর্মী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কিছু শিক্ষক এই আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন।

আর্থিক দুর্নীতির তদন্তের সঙ্গে বেতন না হওয়ার কোনও কারণ দেখছেন না শিক্ষকরা। তাঁদের বক্তব্য, দুর্নীতির তদন্ত কয়েক মাস ধরে চলছে। এর আগে বেতন বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা মাসের শুরুতে বেতন হয়নি, এমন অভিজ্ঞতা নেই। এ মাসেই এমন ঘটনা কেন ঘটল? তার সদুত্তর দপ্তরের আধিকারিকরা দিতে পারছেন না বলে বৃত্তিমূলক শিক্ষক, প্রশিক্ষকদের অভিযোগ। উল্লেখ্য, বর্তমানে যেসব বৃত্তিমূলক শিক্ষক বা প্রশিক্ষক রয়েছেন, তাঁদের অতি অল্প বেতনে কাজ করতে হচ্ছে। কোনও অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধাও নেই। বৃত্তিমূলকে মূলত চার ধরনের শিক্ষক, প্রশিক্ষক রয়েছেন রাজ্যে। সকলেই চুক্তিতে কর্মরত। বৃত্তিমূলক শিক্ষকদের মাসিক বেতন ৯ হাজার টাকা। প্রশিক্ষকরা পান ৭ হাজার টাকা। এছাড়াও আংশিক সময়ের শিক্ষক ও প্রশিক্ষকও রয়েছেন। তাঁরা ক্লাস পিছু অর্থ পান। আংশিক সময়ের শিক্ষকরা ক্লাস পিছু ১৬০ টাকা ও আংশিক সময়ের প্রশিক্ষকরা ক্লাস পিছু ১১০ টাকা পান। সব মিলিয়ে ১৩ হাজার শিক্ষক, প্রশিক্ষকের এখনও বেতন হয়নি।

একে সামান্য টাকা, তার উপর এখনও বেতন না হওয়ায় চিন্তিত বৃত্তিমূলক শিক্ষক, প্রশিক্ষকরা। নিখিলবঙ্গ বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস ব্যানার্জির প্রতিক্রিয়া, সামান্য বেতনে বৃত্তিমূলক শিক্ষক, প্রশিক্ষকদের পরিবারগুলি টেনেটুনে সংসার চালায়। এ মাসে বেতন না হওয়ায় বহু পরিবার অসুবিধার মধ্যে পড়েছে। কয়েকদিন আগেই চিকিৎসা করাতে না পেরে বীরভূমের আমাইপুর মিলনী হাই মাদ্রাসার বৃত্তিমূলক শিক্ষক গোলাম মহম্মদ ও বাঁকুড়ার রানিবাঁধ হাই স্কুলের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষক ভানু প্রকাশ মাতাহোর মৃত্যু হয়েছে। এরপর বেতন হলো না। আর কত বঞ্চনার শিকার হবেন শিক্ষক, প্রশিক্ষকরা?