আজ আমনা ইস্যু ফয়সালার
সম্ভাবনা ফুটবলারদের লাল
গোলাপ উপহার দিলেন সমর্থকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি   ৭ই ডিসেম্বর , ২০১৮

কলকাতা, ৬ ডিসেম্বর — পর পর তিন ম্যাচে হার। শেষ কবে! পরিসংখ্যান খুঁজতে হবে। দু’ম্যাচ জিতে আই লিগ অভিযান শুরু করার পর সমর্থকদের মধ্যে স্বপ্নের সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু পরপর তিন ম্যাচ হারে আই লিগের শুরুতেই শেষের হতাশা। লিগ শীর্ষে থাকা চেন্নাই সিটি এফসির সঙ্গে এখনই ফারাক তৈরি হয়ে গেছে অনেকটা। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের পারফরম্যান্স দেখে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও ছেড়েছেন অধিকাংশ সমর্থক। এর আগে শেষ কয়েকটি মরশুমে খারাপ পারফরম্যান্সের পর বারবার সমর্থক বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে ইস্টবেঙ্গল তাঁবু। এবার কিন্তু অন্য ছবি। তিন ম্যাচ পরপর হারের পর বিক্ষোভ নেই। আছে লাল গোলাপ। অনুশীলন শেষে কোচ এবং প্রতিটি ফুটবলারকে লাল গোলাপ উপহার দিলেন সমর্থকরা। তাঁরা মুখে বলছেন, ‘ফুটবলারদের পাশে থাকতে’। লাল গোলাপের পিছনের সত্যিটা ফুটবলাররাও জানেন। তাই কোনোভাবে গোলাপ নিয়ে গাড়িতে উঠতে পারলেই তাঁরা যেন বাঁচেন।

বুধবার শহরে এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের নতুন বিদেশি কোলাডো। বৃহস্পতিবার সকালেই অনুশীলনে নেমে পড়লেন তিনি। প্রথম দিনের অনুশীলনে খুব বেশি পরীক্ষিত হলেন না। তবু বল ধরা, ছাড়া দেখে সন্তুষ্ট মাঠে উপস্থিত সমর্থকরা। কোলাডো খেলতে পারেন দুই উইঙয়েই। খেলতে পারেন সেকন্ড স্ট্রাইকার হিসাবে। বার্সেলোনার এই ফুটবলার মেসির অন্ধ ভক্ত। দলের খারাপ সময়ে এসেও মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আশাবাদী তিনি। প্রথম দিন অনুশীলন করেও বেশ খুশি। শনিবার গোকুলামের বিরুদ্ধে তাঁকে হয়তো প্রথম থেকেই ব্যবহার করবেন আলেজান্দ্রো। বৃহস্পতিবার অনুশীলনের শেষে মনোজ মহম্মদের হাতে এই মাসের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার তুলে দেওয়া হল। জানা গেল, ইস্টবেঙ্গলের ফেসবুকে পেজে এক প্রতিযোগিতায় সমর্থকদের ভোটের ভিত্তিতেই বেছে নেওয়া হলো মনোজকে। এরপর প্রতি মাসেই এই পুরস্কার দেওয়া হবে।

এদিন বিকালে ফুটবলারদের সঙ্গে ক্লাব তাঁবুতে আলোচনায় বসেন শীর্ষকর্তারা। ছিলেন সভাপতি, সচিব এবং ক্লাবের অন্যান্য কর্তারা। কমলপ্রীত সিং জ্বরের জন্য অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সব ফুটবলারই উপস্থিত ছিলেন এই বৈঠকে। প্রতিটি ফুটবলারকে আলাদা আলাদা করে জিজ্ঞাসা করা হয়, তাঁদের কোনও অসুবিধা হচ্ছে কিনা। তাঁদের বলা হয়, পরের ম্যাচ জিততে পারলে দল বড় ম্যাচের আগে ভালো জায়গায় থাকবে। তাই যে কোন ভাবেই বড় ম্যাচ জিততেই হবে। তবে সব ফুটবলার থাকলেও আসেননি কোচ আলেজান্দ্রো এবং তাঁর সহকারিরা। দোভাষী না থাকায় স্প্যানিশভাষী ফুটবলারদের ক্ষেত্রে এই বৈঠকে দোভাষীর কাজ করেন এনরিকে। সচিব জানান, পরের বছর ইস্টবেঙ্গল শতবর্ষে পা রাখছে। সেই কথা মাথায় রেখে যেন ফুটবলাররা মাঠে নামেন।

অন্য দিকে বৃহস্পতিবারও অনুশীলনে আসেননি আল আমনা। ক্লাব সূত্রে বলা হচ্ছে মেডিক্যাল টেস্ট হচ্ছে আমনার। সেই রিপোর্ট দেখেই তিন চারদিনের মধ্যে তাঁর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে অবশ্য আমনাকে বোঝানোর কাজও চলছে। রাতের দিকে জানা গেল, ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার বিষয়ে আমনা অনেকটাই রাজি। ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে সামান্য কিছু আলোচনা এখনও বাকি। সব ঠিক থাকলে, শুক্রবার গোকুলাম ম্যাচের আগেরদিনই আমনা বিষয়টি ফয়সালা হতে যাচ্ছে। আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়েই হয়তো চ্যাপ্টার ক্লোজড হবে আল আমনার। ইস্টবেঙ্গল কর্তারা চাইছেন যেভাবেই হোক বড় ম্যাচের আগে আমনার পরিবর্ত বিদেশি নিয়ে আসতে। আমনা শুক্রবার রাজি হয়ে গেলেই নতুন বিদেশিকে সই করিয়ে ভারতে নিয়ে আসার কাজ শুরু হবে। বড় ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল মাঝমাঠে কি নতুন বিদেশি? উত্তর সময় দেবে।