৫ রাজ্যেই হারতে পারে,
আশঙ্কায় বিজেপি

নিজস্ব প্রতিনিধি   ৭ই ডিসেম্বর , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ৬ ডিসেম্বর- পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনপর্ব শেষ হচ্ছে শুক্রবার। লোকসভা ভোটের চার-পাঁচ মাস আগে দেশের রাজনৈতিক প্রবণতা বোঝার অন্যতম সূচক বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে এই ভোটপর্বকে। কেন্দ্রের শাসক দলে আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ছে পাঁচ রাজ্যেই হারতে পারে তারা।

ছত্তিশগড়ে ভোট হয়েছে ১২ ও ২০ নভেম্বর। মধ্য প্রদেশ, মিজোরামে ভোট হয়েছে ২৮ নভেম্বর। রাজস্থান ও তেলেঙ্গানায় শুক্রবারই ভোট। শুধু প্রাক্‌ নির্বাচনী সমীক্ষাতেই নয়, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণেও ছত্তিশগড়ে তুলনায় বিজেপ’র সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি চার রাজ্যে তাদের পরাজয়ের সম্ভাবনাই প্রবল। মুখে স্বীকার না করলেও শাসক দলের মধ্যেও এই ভোটপর্বে ধাক্কা খাবার শঙ্কাই কাজ করছে।

রাজস্থানে প্রায় সব সমীক্ষাতেই যেমন কংগ্রেসকে এগিয়ে রাখা হয়েছে, তেমনই কংগ্রেসের নেতারাও মোটামুটি নিশ্চিত এ রাজ্যে তাঁরা ফিরে আসছেন। রাজস্থানে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার স্রোত প্রবল। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরারাজের জনপ্রিয়তাও তলানিতে ঠেকেছে। এই অবস্থায় দলকে উদ্ধারে শেষ পর্বে ময়দানে নেমেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। জয়পুরে একটি রোড শো সহ ১৩টি জনসভা করেছেন মোদী। বিজেপি’র দাবি, এর ফলে পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হয়েছে। রাজস্থানের বৃত্ত থেকে জাতীয় রাজনীতির বৃত্তে ভোটকে টেনে নেওয়া গেছে। বসুন্ধরারাজের বিরুদ্ধে অসন্তোষকে এর ফলে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া অংশত সম্ভব হয়েছে। রাজস্থানের মধ্যে তীব্র সাম্প্রদায়িক প্রচার চালিয়েছে বিজেপি। এই লক্ষ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধেও ‘অনুপ্রবেশকারীর’ তকমা লাগানো হয়েছে। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত খুব কাজে দিয়েছে বলে মনে হয় না।

মধ্য প্রদেশেও বিজেপি’র জয় নিয়ে দলেই সংশয় রয়েছে। ২০০৩ থেকে সে-রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি’র পক্ষে বৃহত্তম বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষক বিক্ষোভ। টানা কৃষক আন্দোলন, পুলিশের গুলিতে কৃষকের মৃত্যুর পরেও ফসলের দাম, কৃষিঋণ মকুবে যথেষ্ট উদ্যোগ নিতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ চৌহান। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতির বড় বড় অভিযোগ। কংগ্রেসের মধ্যে বিভাজন থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে রেখেই লড়তে সক্ষম হয়েছে তারা। যদি বিজেপি জেতেও তাহলেও আসন পার্থক্য খুবই সামান্য হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতীয় রাজনীতিতে তারও প্রভাব পড়বে।

ছত্তিশগড়ে ২০১৩-র ভোটে কংগ্রেস, বিজেপি’র ভোটের হারে পার্থক্য ছিল নামমাত্র। বি জে পি জিতেছিল ৪৯ আসনে। সেই সংখ্যা কমবে বলে প্রায় সব সমীক্ষাতেই অনুমান করা হয়েছে। ৯০ আসনের বিধানসভায় পাঁচটি আসন কমলেই বিজেপি বিপদে পড়ে যাবে। বি জে পি বরং ভরসা করছে অজিত যোগী- বিএসপি জোটের ওপরে। তারা মূলত কংগ্রেসের ভোট কাটবে বলে বিজেপি’র আশা। আবার, দলেরই একাংশের মত যে পরিমাণ ভোট হ্রাস হবে তা অন্যদের ভোট বিভাজন দিয়ে সামলানো যাবে না। এই রাজ্যেও রমন সিংয়ের বিদায় অসম্ভব নয়।

তেলেঙ্গানায় বিজেপি’র জয়ের কোনও সম্ভাবনাই নেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের হিসেব, তেলেঙ্গানায় বিজেপি তৃতীয় শক্তি মাত্র। কংগ্রেস-টি ডি পি ‘মহাকুটামি’ জোট হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক বিন্যাসে বি জে পি আরও দুর্বল হয়েছে। আগ বাড়িয়ে বিধানসভা ভেঙে মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও বিরোধীদের অসুবিধায় ফেলবেন বলে গণনা করেছিলেন। বাস্তবে তাঁর পছন্দের সময়ে ভোট হয়নি। উলটে কংগ্রেস-টিডিপি তিক্ততা তাকে তুলে রেখে এক জায়গায় চলে এসেছে। এই জোটে যোগ দিয়েছে সিপিআই। মুখ্য লড়াই এই দুই শক্তির মধ্যেই। ১১৯ আসনে বিজেপি এমনকি তিন-চার আসনেও নেমে আসতে পারে বলে সমীক্ষার হিসাব।

মিজোরামে কংগ্রেস সরকার রক্ষা করতে পারবে বলে মনে করছে। মুখ্যমন্ত্রী লালথানহাওলার দাবি, ৪০আসনের ২৭টিতে জিতবেন।

লোকসভা ভোটের আগে এই লড়াইয়ে জোর দিয়েছিল কংগ্রেস। দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী পাঁচ রাজ্যে মোট ৮২টি সভা করেছেন। পাঁচ রাজ্যেই ফল বেরোবে ১১ ডিসেম্বর। তবে বুথফেরত সমীক্ষা সম্প্রচার শুরু হয়ে জাবে শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকেই।