অগাস্তা কি বাঁচাবে?

  ৭ই ডিসেম্বর , ২০১৮

গত কয়েক মাস ধরে রাফালে যুদ্ধ বিমান দুর্নীতি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। বিরোধীদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত মোদী সরকার। গুরুতর অভিযোগ ইউপিএ আমলের চুক্তি বাতিল করে তিনগুণ বেশি দামে এক একটি বিমান কেনার চুক্তি করেছে মোদী সরকার। এই বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামতি ও নতুন বিমান তৈরির জন্য ভারতীয় সহযোগী সংস্থা হিসাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ‘হ্যাল’ নির্দিষ্ট হলেও মোদী সরকার তা বদল করে আম্বানিদের এক ভুঁইফোঁড় সংস্থাকে যুক্ত করেছে। অর্থাৎ রিলায়েন্সকে ২৯ হাজার কোটি টাকা পকেটে পোরার ব্যবস্থা করে দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে, সরকারি কোষাগার থেকে তিনগুণ টাকা রাফালে সংস্থাকে দেবার বন্দোবস্তও করা হয়েছে। কাদের স্বার্থে এবং কিসের বিনিময়ে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন তা পুরোপুরি অস্বচ্ছ ও অস্পষ্ট। দেশের নিরাপত্তার জন্য যে বিমান সেটা কেনার ক্ষেত্রে কেন এমন ঢাক ঢাক গুড় গুড় এবং কেন এত লুকোচুরি তা মানুষ বুঝে উঠতে পারছেন না। একের পর এক প্রশ্ন উত্থাপিত হলেও একেবারে নীরব প্রধানমন্ত্রী। আজ পর্যন্ত টু শব্দটিও করেননি। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এই যুদ্ধ বিমান নিয়ে কিছু বলা যাবে না। অর্থাৎ সরকার কত দামে বিমান কিনছে, কোন কোন শর্তে চুক্তি হয়েছে, সরকারি কোষাগার থেকে কত টাকা খরচ হয়েছে ইত্যাদি সব কিছুই গোপন রাখতে চাইছে। সংসদে জানানো হয়নি। সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিকে জানায়নি, এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে জানাতে অস্বীকার করেছে। স্বাভাবিকভাবে সন্দেহ দানা বাঁধছে চুক্তির আড়ালে এমন কি গোপনীয় বিষয় আছে তা প্রকাশ হলে মোদী সরকার বেকায়দায় পড়তে পারে!

রাফালে নিয়ে একটি শব্দ উচ্চারণ না করলেও মোদী আচমকা অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন অগাস্তা হেলিকপ্টার ক্রয় কেলেঙ্কারি নিয়ে। অগাস্তার দালাল‍ জেমসকে সংযুক্ত আরব থেকে দেশে আনার পর ১২ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজস্থানে নির্বাচনী সভায় মোদী মুখর হয়ে ওঠেন। আক্রমণ করেন গান্ধী পরিবারকে। আর নিজের পিঠ চাপড়ে জাহির করলেন ‘এক চাওয়ালার ক্ষমতা’। কিন্তু বললেন না ললিত মোদী, বিজয় মালিয়া, মেহুল ভাই, নীরব মোদীর মতো যারা হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে বিদেশে পালিয়েছে তাদের দেশে ফেরানো হচ্ছে না কেন? তারা ঘনিষ্ঠ মহলের লোক বলে? বিদেশে পালাতে সরকারি পরোক্ষে সহায়তা পেয়েছে বলে?

বিদেশে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অস্ত্র কোম্পানিগুলি দালালের মারফত ঘুষ দিয়ে থাকে। জেমস তেমনি এক দালাল। অভিযোগ জেমস মারফত তৎকালীন বায়ুসেনা প্রধানের পরিবার, আমলারা, সেনা অফিসাররা ঘুষ পেয়েছে। অগাস্তার সঙ্গে ভারতের চুক্তি হয় ২০১০ সালে। অভিযোগ আসার পর সেই চুক্তি বাতিলও করে পূর্বতন সরকার। এমনকি কালো তালিকাভুক্তও করে অগাস্তাকে। অবশ্য মোদী ক্ষমতায় এসে অগাস্তাকে কালো তালিকা থেকে বের করে আনে।

চাওয়ালা ভোটে ফায়দা লুটতে অগাস্তা নিয়ে মুখর হলেন কিন্তু তার চেয়ে বহুগুণ বড় দুর্নীতির অভিযোগ তার সরকারের বিরুদ্ধে উঠলেও তিনি মৌন। আসলে নিজের দুর্গন্ধ তিনি চাপা দিতে চাইছেন অন্যের দুর্গন্ধ ঘেঁটে। কিন্তু মানুষ অগাস্তা নিয়ে জানেন। কিন্তু জানেন না রাফালে নিয়ে। অগাস্তার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু রাফালে নিয়ে কোনও তথ্য সরকার প্রকাশ করেনি। অভিযোগের পর অভিযোগ উঠলে কোনও কথা বলছে না। কিসের এত ভয়? কিসের এত আতঙ্ক? সরকার যদি সৎ হয়ে থাকে, চুক্তিতে যদি অস্বচ্ছতা না থাকে তাহলে অভিযোগের উত্তর দিতে অসুবিধা কোথায়? বাস্তবে অসুবিধা আছে। আছে বলেই গোপন করা হচ্ছে। আর মানুষের নজর এই বৃহত্তম প্রতিরক্ষা দুর্নীতির থেকে সরিয়ে দিতে অগাস্তাকে আঁকড়ে ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।