টাকা ছড়াচ্ছে বিজেপি, প্ররোচনা
দিতে কুৎসিত ভাষা মমতার মন্ত্রীর

রথযাত্রা, সভা ঘিরে উত্তেজনা কোচবিহারে

নিজস্ব সংবাদদাতা   ৭ই ডিসেম্বর , ২০১৮

কোচবিহার, ৬ ডিসেম্বর— শাসক দল হিসাবে দায়িত্ব ছিল সচেতন থাকা। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস উলটো কাজ করল। ভাঙচুর, হাঙ্গামা চালিয়ে বৃহস্পতিবার কোচবিহারে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিল মমতা ব্যানার্জির দলবল।

কোচবিহারে পৌঁছে নিজেদের কৌশল অনুসারে বিজেপি’র নেতারা গরম গরম কথা বলেছেন। যেমন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি, দীর্ঘদিনের স্বয়ংসেবক দিলীপ ঘোষ ঝিনাইডাঙায় পৌঁছে বলেছেন, ‘‘সভায় লাঠি নিয়ে আসুন। লোকজনকে লাঠি নিয়ে আসতে হবে কিন্তু। ঠান্ডা ফান্ডা চলবে না কিন্তু। এখন শুধু গরম চলবে।’’ ওই ঝিনাইডাঙা থেকেই রথযাত্রা শুরু হওয়ার কথা। রথ বেরনোর কথা ছিল দুপুর ৩টে নাগাদ। তার আগে সভা। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়, প্ররোচনা ছড়াতে চাইছে বিজেপি।

এমন সময় তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্ব ছিল উত্তেজনা না ছড়ানো। নিজেদের সংযত রাখা। কিন্তু মুখ খুললেন মমতা ব্যানার্জির মন্ত্রিসভার এক সদস্য। তিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি বললেন, ‘‘বিজেপি কর্মীরা লাঠি নিয়ে আক্রমণ করলে কর্মীদের বলব, ওই লাঠি নিয়েই ওদের পাছার হাড্ডি ভেঙে দাও, ঠ্যাং ভেঙে দাও। আহতদের আমরাই হাসপাতালে ভর্তি করব। খাবার দেব।’’

ফল যা হওয়ার তাই হলো।

বৃহস্পতিবার দিলীপ ঘোষ কোচবিহার পৌঁছে সরাসরি চলে যান অমিত শাহের সভাস্থল ঝিনাইডাঙায়। এরপর হোটেলে যান। তারপর বিজেপি’র যুব রাজ্য সম্পাদক বাপ্পা চ্যাটার্জি সহ অনুগামীদের নিয়ে শিতলকুচির খলিসামারিতে মনীষী পঞ্চানন বর্মার বাড়ির দিকে রওনা দেন। পথে মাথাভাঙার সিতাই মোড়ে দিলীপ ঘোষের গাড়ির কনভয়ের ৭টি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। তার আগে কালো পতাকা দেখানো হয়। এই ঘটনায় পুলিশ দু’জনকে আটক করেছে। হামলার পর দিলীপ ঘোষ পঞ্চানন বর্মার বাড়ি ঘুরে কোচবিহারে পৌঁছাতেই খবর আসে, হাইকোর্ট রায় দিয়েছে, রথযাত্রা করা যাবে না। এর পরই তৎপরতা বাড়ে বিজেপি নেতাদের।

প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে ঝিনাইডাঙার মঞ্চ লক্ষ্য করে কয়েকজন দুষ্কৃতী বোমা ছোঁড়ে। তারা কারা? তৃণমূল কংগ্রেসের? না কি উত্তেজনা ছড়াতে চেয়ে অন্য কেউ? সে সম্পর্কে পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি।

রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারে টাকা ওড়াচ্ছে বিজেপি। প্রতিবেশী আসাম থেকে আনা হয়েছে প্রচুর গাড়ি। পোস্টার থেকে প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন লাগালেই মিলছে টাকা।

এদিন বিজেপি’র নেতা কৈলাস বিজয় বর্গীয় কোচবিহারে দাবি করেন, গ্রেটার কোচবিহার ও কেপিপি আছে বিজেপি’র পাশে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, এ রাজ্যেও নাগরিকপঞ্জি তৈরি হবে।

কামতাপুর প্রোগ্রেসিভ পিপলস পার্টির সভাপতি অতুল রায় এ দিনই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গ ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে অতুল রায়কে পাশে নিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, অতুল রায় হবেন কামতাপুরী ভাষা আকাদেমির ভাইস চেয়ারম্যান। সেদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘আমি খুব খুশি, অতুল রায় আমাদের সঙ্গে আছেন।’’ সেই অতুল রায় ওই আকাদেমির ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফার চিঠি পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও আকাদেমির চেয়ারম্যান নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ির কাছে। তিনি শুক্রবার থাকবেন অমিত শাহের সভার মঞ্চে। পদত্যাগের অজুহাত হিসেবে রায় জানিয়েছেন, বিজেপি আগামী লোকসভা অধিবেশনে কামতাপুরী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সে কারণেই বিজেপি’র মঞ্চে যাচ্ছি। বিচ্ছিন্নতাবাদী অতুল রায়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্ক ২০০০-০১ থেকে। ২০১৪-র ভোটে কেপিপি সমর্থন করে বিজেপি-কে। ২০১৬-তে তৃণমূলকে।

এদিকে কোচবিহারে পৌঁছেছেন মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ সহ বিজেপি’র অনেক নেতা। শুক্রবার সকালে আসবেন আসাম ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীরা, বাবুল সুপ্রিয় প্রমুখ। আদালত শুক্রবার রথযাত্রার অনুমতি না দিলেও সভা হবে বলে জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।

জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক তারিণী রায় বলেন, বিজেপি ও তৃণমূল সাম্প্রদায়িকতার পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতাবাদকেও মদত দিচ্ছে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। বিপরীতে বামপন্থীরা বৃহস্পতিবার সম্প্রীতি রক্ষার ডাকে গোটা জেলায় পালন করল মানব বন্ধন।