সুপ্রিম কোর্টে তিরস্কৃত কেন্দ্র,
ভার্মা মামলার রায় স্থগিত

সংবাদসংস্থা   ৭ই ডিসেম্বর , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ৬ ডিসেম্বর —সিবিআই’র অপসারিত অধিকর্তা অলোক ভার্মা মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনকে তিরস্কৃত করল সুপ্রিম কোর্ট। জানতে চাইল এমন কী ‘গভীর অত্যাবশ্যকতা’ দেখা দিল যে এক রাতের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে সিবিআই অধিকর্তা অলোক ভার্মা বা তাঁর সঙ্গে বিবাদ চলা সংস্থার বিশেষ অধিকর্তা রাকেশ আস্থানার যাবতীয় ক্ষমতা কেড়ে তাঁদের দুজনকেই সাময়িক অপসারণ করা হলো। ভার্মা এবং আস্থানার বিবাদ বহুদিন ধরে চলা সত্ত্বেও বিষয়টিতে মাথা গলানোর জন্য কেন তিন মাস অপেক্ষা করতে হলো কেন্দ্রীয় সরকার এবং ভিজিল্যান্স কমিশনকে, তাও বৃহস্পতিবার জানতে চায় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ’র নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ। এরপরেই সিবিআই অধিকর্তা অলোক ভার্মার পিটিশনের রায় স্থগিত রাখে সুপ্রিম কোর্ট। সমস্ত দায়িত্ব ও ক্ষমতা থেকে অব্যাহতি এবং ছুটিতে যাওয়া সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেছিলেন ভার্মা। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ’র নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ভার্মা, কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশন সহ অন্যান্যদের যুক্তি শোনার পর এদিন রায় ঘোষণা স্থগিত রাখল। এরই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘কমন কজ’এর দাখিল করা পিটিশনেরও শুনানি চলেছে ওই বেঞ্চে। ওই সংস্থা আদালত নজরদারি সিট গঠন করে সিবিআই অফিসারদের যাবতীয় দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানিয়ে পিটিশন দাখিল করেছে। এই দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারদের মধ্যে সিবিআই’র স্পেশাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানাও রয়েছেন। উল্লেখ্য, ভার্মা এবং আস্থানা একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন।

এদিন এই মামলা নিয়ে বেঞ্চ স্পষ্টই মন্তব্য করেছে যে, কোনোভাবেই সিবিআই’র মতো সংস্থাকে ভেঙে টুকরো টুকরো হতে দেওয়া যায় না। এরই মাঝে একবার বেঞ্চ জানতে চায় যে, সিবিআই’তে এখন কোনও কার্যনির্বাহী অধিকর্তা আছেন? ভার্মার আইনজীবী এফএস নরিম্যান সম্মতিসূচক ‘হ্যাঁ’ বলেন। আবার বেঞ্চ জিজ্ঞাসা করে যে, সুপ্রিম কোর্ট কাউকে সিবিআই অধিকর্তা হিসাবে বসানোর নির্দেশ দেবে কি না? জবাবে নরিম্যান জানান, তা হতেই পারে কারণ সংবিধান অনুসারে সেই ক্ষমতা আছে সুপ্রিম কোর্টের। বেঞ্চ পরিষ্কার বলে, দুই শীর্ষ অধিকর্তার বিবাদ একদিনে শুরু হয়নি, অনেকদিন ধরেই চলছিল। ফলে এমন কী জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলো যে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা এবং ভারতের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত সিলেকশন কমিটি’র সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা না করেই একরাতের মধ্যে তাঁদের দুজনকেই কার্যভার থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিতে হলো কেন্দ্রকে। এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে বেণুগোপালের দাখিল করা তথ্য উল্লেখ করে বেঞ্চ জানায়, দেখা যাচ্ছে জুলাইয়ে শুরু হওয়া বিবাদে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করে সেই অক্টোবর মাসে এসে। বেঞ্চের অভিমত হলো, সিলেকশন কমিটি’র পরামর্শ নেওয়াই যুক্তিযুক্ত কাজ। সেটাই হতো তদন্তকারী সংস্থার প্রশাসনিক স্বার্থের পক্ষে সবচেয়ে উপযুক্ত। আরও বলেন, এই ধরনের তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামলানোর জন্য সিলেকশন কমিটির দ্বারস্থ হওয়াই সঠিক কাজ। বস্তুত, সরকারি সিদ্ধান্তের হয়ে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সাফাই গাইতে শুরু করতেই ওই কড়া মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ।