কর্তারপুর নিয়ে সীমান্তপার
নতুন ‘রাজনৈতিক’ যুদ্ধ

সংবাদসংস্থা   ৭ই ডিসেম্বর , ২০১৮

ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লি, ৬ ডিসেম্বর— কর্তারপুর এখন ভারত, পাকিস্তান দু’দেশের ‘রাজনৈতিক’ যুদ্ধের নতুন উৎকেন্দ্র। দিল্লি, ইসলামাবাদ উভয়ই পরস্পরের বিরুদ্ধে একে ‘রাজনৈতিক মোড়ক’ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। এবং প্রতিবেশী দুই দেশেরই বক্তব্য, যা ‘খুবই দুঃখজনক’।

কর্তারপুর করিডর ইস্যুকে ‘রাজনৈতিক মোড়ক’ দিচ্ছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রবিশ কুমার যখন সরাসরি এই তোপ দেগেছেন, তখন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পালটা বলেছেন তাঁর সৌজন্যকে ভারত ‘রাজনৈতিক রং’ দিচ্ছে, যা ‘খুবই দুঃখজনক’।

কর্তারপুর সাহিব একটি ঐতিহাসিক স্থান। শিখদের উপাসনার জায়গা। জনশ্রুতি, জীবনের শেষ ১৮টি বছর গুরু নানক কাটিয়েছিলেন এই কর্তারপুরেই। উপাসনার জন্য প্রতি বছর প্রচুর শিখ সীমান্ত পেরিয়ে যান পাক পাঞ্জাবের কর্তারপুরে। ভারতীয় শিখরা যাতে ভিসা ছাড়াই এখানে আসতে পারেন, সেকারণে নভেম্বরে কর্তারপুর সীমান্ত খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। ভারতের গুরুদাসপুরে দেরা বাবা নানক থেকে কর্তারপুর পর্যন্ত একটি করিডর নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের।

একটি ‘ধর্মীয় ইস্যু’কে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মোড়ক দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে বিদেশমন্ত্রক। ভারত চায় শিখ সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণ হোক। ‘এটা খুবই দুঃখজনক, একটি ধর্মীয় ইস্যুকে রাজনৈতিক মোড়ক দেওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান।’ বলেছেন রবিশ কুমার। যোগ করেছেন, ‘আশাকরি, পাকিস্তান কর্তারপুর ইস্যু নিয়ে তার ঘোষণা পূরণ করবে।’

পালটা জবাব দিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। ‘দুঃখজনক হলো, ভারত একে এমনভাবে দেখাচ্ছে, যেন আমরা এর থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছি। আমার শপথ নেওয়ার সময়, যখন নভজিৎ সিং সিধু এসেছিলেন, তখন আমরা এনিয়ে আলোচনা করেছিলাম।’ এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইমরান খানের উদ্ধৃতি দিয়ে এমনই জানিয়েছে পাক দৈনিক ডন পত্রিকা।

‘ভারতের সংবাদমাধ্যম কর্তারপুরকে (সীমান্ত খুলে দেওয়া) রাজনৈতিক রং দিচ্ছে, যেন আমরা কোনও রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা আদৌ সত্যি নয়। আমরা এটা করেছি, কারণ এটি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নির্বাচনী ইশ্‌তেহারের অংশ।’ বলেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। ‘সরকার এই করিডর খোলাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আমি খুশি। পাকিস্তানে, যদি কারো ধর্মস্থান থাকে, তবে সেগুলিকেও আমাদের তুলে ধরা উচিত। আমাদের এখানে যেমন হিন্দু ও বৌদ্ধদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান আছে, তা আমাদের খুলে দেওয়া উচিত, মানুষের জন্য তুলে ধরা উচিত। তাছাড়া, আমরা নতুন কোনও কিছুই করছি না, এই সবই আমাদের নির্বাচনী ইশ্‌তেহারের অংশ।’

শিখ সম্প্রদায় যে এই পদক্ষেপে খুবই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, সেকথা উল্লেখ করে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের যেমন মদিনা, ওঁদের কাছে তেমনই কর্তারপুর।’ আশা করেছেন, ‘ভারতের থেকেও পাওয়া যাবে ইতিবাচক সাড়া।’

করিডরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ভারতকে তাক করে পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেছিলেন, কর্তারপুর করিডরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের উপস্থিতি সুনিশ্চিত করে ‘গুগলি’ ছুঁড়েছেন প্রধানমন্ত্রী খান। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের দুই মন্ত্রী। যদিও, ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করে ইমরান খান বলেন, এটি মোটেই কোনও গুগলি বা দু’রকমের খেলা ছিল না, এটি ছিল একেবারেই সোজাসাপটা সিদ্ধান্ত।