আজ ৫রাজ্যের গণনা,
হিসাব লোকসভা নিয়ে

সংবাদসংস্থা   ১১ই ডিসেম্বর , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ১০ নভেম্বর- ১লক্ষ ৭৪হাজার বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্র। তাতেই ধরা আছে পাঁচ রাজ্যের ভোটারদের রায়। ৮৫০০-র বেশি প্রার্থীর জয়-পরাজয়। মঙ্গলবার ৬৭৮ বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে। শুধু রাজস্থানে প্রার্থীর মৃত্যুতে এক কেন্দ্রের ভোট স্থগিত ছিল। মঙ্গলবারের গণনার দিকে তাকিয়ে থাকবে গোটা দেশ। শুধু এই পাঁচ রাজ্যে কারা সরকার গড়বে, তা জানার জন্যই নয়। এই নির্বাচনপর্ব ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচনের রাজনৈতিক শক্তিবিন্যাসের আভাস দেবে।

ভোটের প্রচার চলাকালীনই বিজেপি-শাসিত তিন রাজ্যে শাসক দলের পরাজয়ের ইঙ্গিত মিলছিল। বুথফেরত সমীক্ষায় সেই ধারণাও আরও দৃঢ় হয়েছে। তবে এই সমীক্ষা মিলবে না বলেই জোর গলায় বলছেন বিজেপি নেতারা। রাজস্থানেই সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তা উড়িয়ে দিয়ে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরারাজে সিন্ধিয়া বলেছেন, মসৃণভাবেই ফিরে আসব আমরা। ওইসব সমীক্ষা মিলবে না। ছত্তিশগড়ের রমন সিংও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। ছত্তিশগড়ে টান টান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে ই ভি এম নিয়েও। রাস্তায়, হোটেলে ভোটযন্ত্র পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ। মধ্য প্রদেশেও চতুর্থবার সরকার গঠনের ব্যাপারে শিবরাজ সিং চৌহান আশাবাদী বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। কিন্তু সে-রাজ্যে নির্দল এবং ছোট স্থানীয় স্তরের দলের কয়েকজন প্রার্থী জিততে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এঁদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি-র শীর্ষ নেতারা যোগাযোগ করেছেন। যদি কংগ্রেস-বিজেপি’র আসনসংখ্যা কাছাকাছি হয় তাহলে এই প্রার্থীরা কাজে লাগতে পারেন। এই যোগাযোগই ইঙ্গিত দিচ্ছে বিজেপি খুব আত্মবিশ্বাসী নয়।

রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, ছত্তিশগড় মিলিয়ে ৬৫ লোকসভা আসন। ২০১৪-তে ৬৩টিই পেয়েছিল বিজেপি। হিন্দি বলয়ের প্রাণকেন্দ্রে থাকা এই তিন রাজ্য ধরে রাখতে না পারলে চার-পাঁচ মাস পরের লোকসভা ভোটেও বিজেপি’র সঙ্কট তৈরি হতে পারে।

কংগ্রেসের পক্ষেও এই ভোট খুব গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত দুই রাজ্যে জিতলে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় স্তরে শক্তিবৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রবল হবে। উত্তর পূর্বে কংগ্রেসের হাতে থাকা একমাত্র রাজ্য মিজোরামে বুথফেরত সমীক্ষা অবশ্য কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই গেছে। মিজোরামে বিধানসভা ভোটে বিজেপি কোনও শক্তি নয়। কিন্তু উত্তর পূর্বের বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে সমঝোতা করে এনডিএ-র শক্তিবৃদ্ধি করতে চাইছে বিজেপি। উত্তর পূর্বে লোকসভার ২৫ আসন রয়েছে।

তেলেঙ্গানায় রাজনৈতিক শক্তিবিন্যাস অন্যরকম। এই রাজ্যে কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের ফের ফিরে আসার সম্ভাবনাই বেশি বলে অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষায় বলা হয়েছে। রাও নিজে বলেছেন, ১১৯ আসনের ১০০-ই তাঁরা পাবেন। অন্যদিকে কংগ্রেস- টিডিপি জোটও মনে করছে খুব সামান্য ব্যবধানে হলেও তারা সরকার গঠনের জায়গায় থাকবে। এই ঘোলা জলে মাছ ধরতে বিজেপি জানিয়েছে, ফলাফল ত্রিশঙ্কু হলে তারা টিআরএস-কে সমর্থনের রাস্তা খোলা রাখছে। বিজেপি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ভূমিকা নেবে বলে দলের দাবি। হায়দরাবাদ এলাকায় ৮ আসনে প্রার্থী দেওয়া এআইএমআইএম বাকি আসনে রাজ্যের শাসক দলকেই সমর্থন করেছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement