সিবিআই হেপাজতে
আরও পাঁচদিন
অগস্তা দালাল

সংবাদসংস্থা   ১১ই ডিসেম্বর , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ১০ডিসেম্বর— আরও পাঁচদিন সিবিআই হেপাজতে থাকতে হবে কপ্টার দালালিতে অভিযুক্ত ক্রিশ্চিয়ান মিশে জেমসকে। ‘ভিভিআইপি’ হেলিকপ্টার দালালিতে অগাস্তা ওয়েস্টল্যান্ডের হয়ে ঘুষ দেওয়ার জন্য এই জেমসের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছে সিবিআই। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই অভিযুক্তকে ভারতের হাতে তুলে দেয়। ৪ডিসেম্বর রাতে দালালিতে অভিযুক্তকে আনা হয় দিল্লিতে।

ঘুষ কাদের দেওয়া হয়েছে এবং সেই টাকা কিভাবে পাচার হয়েছে, জেমসের থেকে সেই বিষয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করতে চাইছে সিবিআই।

অগাস্তা ওয়েস্টল্যান্ড হেলিকপ্টার দুর্নীতির তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে ব্রিটিশ নাগরিক জেমস সিবিআই’র হাতে আসার পরই। রাজনৈতিকভাবে বিষয়টিকে হাতিয়ার করেছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিধানসভা ভোটের প্রচারে জেমস প্রসঙ্গ টেনে আনেন। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং প্রাক্তন সভাপতি সোনিয়া গান্ধীকে ইঙ্গিত করে কটাক্ষও করেন তিনি। যদিও অগাস্তা ওয়েস্টল্যান্ডকে কালো তালিকার বাইরে আনার জন্য কংগ্রেস মোদীকেই দায়ী করেছে।

সোমবার সিবিআই আদালতে গোয়েন্দা সংস্থা জেমসের ৯দিন হেপাজতের আবেদন জানায়। বিচারপতি অরবিন্দ কুমারের কাছে জেমসের পক্ষে আইনজীবীরা পালটা বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নথি পেশ করেনি সিবিআই। ফলে হেপাজতে নেওয়ার দরকার নেই। এদিন শুনানির শুরুতেই আগের জামিন আবেদন তুলে নিয়ে নতুন আবেদনও পেশ করেন জেমসের আইনজীবী। আদালত তা খারিজ করলেও সিবিআই’কে বলেছে জেমসের বিরুদ্ধে চার্জশিটের সপক্ষে নথি পেশ করতে।

অগস্তা ওয়েস্টল্যান্ড কপ্টার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকারের সময়ে। প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির মতো ‘ভিভিআইপি’ হিসাবে চিহ্নিত ব্যক্তিবর্গের জন্য এই বিশেষ হেলিকপ্টারের প্রস্তাব দিয়েছিল ভারতীয় বিমানবাহিনী। ইতালির ফিনমেক্কানিকার ব্রিটিশ সহযোগী অগাস্তা ওয়েস্টল্যান্ড সংস্থার সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয় ২০১০-এ। ৩হাজার ৬শো কোটি টাকার বিনিময়ে ১২টি হেলিকপ্টার কেনার চুক্তি হয়। সিবিআই চার্জশিটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান এসপি ত্যাগীর সঙ্গে মোট ১২জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। এই প্রথম বিমানবাহিনীর কোনও প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে চার্জশিট জমা পড়েছে। ত্যাগী অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০০৭-এ বিমানবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছিলেন ত্যাগী। ২০১৭-তে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। আপাতত তিনি জামিনে রয়েছেন। বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত আরেক আধিকারিক জে এস গুজরালও অভিযুক্ত এই দুর্নীতিতে।

এই দুর্নীতিতে হেলিকপ্টারের যোগ্যতামান কমিয়ে অগাস্তা ওয়েস্টল্যান্ড সংস্থাকে সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তার জন্য বিভিন্ন স্তরে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ জানায় সিবিআই। জেমস ছাড়াও দালালির জন্য আরও দুই বিদেশিকে অভিযুক্ত করেছে সিবিআই। এই দুজন হলেন কার্লো জেরোসা এবং গুইদা হাসকেরও। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই দুই বিদেশি ত্যাগী এবং তাঁর পরিবারকে ঘুষ দিয়েছিল। ঘুষের টাকা নিরাপদে বিদেশে পাচারের ব্যবস্থাও করে দিয়েছিল। এই তিন বিদেশির টাকা লেনদেনের তদন্তে যুক্ত রয়েছে এনফোর্সমেন্ট বিভাগ (ইডি)।

সিবিআই আদালতে বলেছে, ভিভিআইপি হেলিকপ্টার দুর্নীতিতে কোষাগারের ২ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। পাশাপাশি ইডি’র অভিযোগ অগস্তা ওয়েস্টল্যান্ডের থেকে ২২৫ কোটি টাকা পায় জেমস। ১২টি হেলিকপ্টারের বরাতের জন্য জেমসকে ওই টাকা দেওয়া হয়। ইডি’র তদন্তে দেখা গিয়েছে, দুবাই থেকে জেমসের সংস্থা গ্লোবাল সার্ভিসেস থেকে দিল্লির একটি গণমাধ্যম সংস্থার আমানতে টাকা পাঠানো হয়। দুজন ভারতীয়কে সঙ্গী করে দিল্লির এই সংস্থাটি খোলে জেমস।

২০১৪’র জানুয়ারিতে কেন্দ্র হেলিকপ্টার কেনার চুক্তিটি বাতিল করে। সেই সময় সরকারে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ। কেন্দ্র চুক্তি বাতিল করার কারণ হিসাবে ঘুষ এবং চুক্তি অমান্য করার অভিযোগ তুলেছিল অগাস্তা ওয়েস্টল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ২০১৭-তে দায়ের সিবিআই’র চার্জশিটেও এই সংস্থাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement