ন্যূনতম মজুরি চেয়ে জঙ্গীপুরে
বিক্ষোভে শামিল বিড়ি শ্রমিকরা

জানুয়ারিতে ধর্মঘটেও, জানিয়ে দিল সমাবেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১১ই ডিসেম্বর , ২০১৮

রঘুনাথগঞ্জ, ১০ ডিসেম্বর— বিড়ি শ্রমিকদের চুক্তি অনুযায়ী দৈনিক মজুরি চাই ২৪৩ টাকা, মালিকদের বাধ্য করুক সরকার। ৭ লক্ষাধিক বিড়ি শ্রমিক থাকেন জঙ্গীপুরে। বহরমপুরে নয়, জঙ্গীপুরে চাই বিড়ি শ্রমিকদের পি এফ দপ্তর। সর্বভারতীয় দাবির সঙ্গে বিড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের এই সব দাবি নিয়ে ৮ এবং ৯ জানুয়ারির দেশব্যাপী দু’দিনের ধর্মঘটে শামিল হবেন বিড়ি শ্রমিকরা, সোমবার জানান দিল বিশাল সমাবেশ।

সোমবার জঙ্গীপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে ধর্মঘটের সমর্থনে বিড়ি শ্রমিকদের অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তা চেহারা নেয় বিশাল সমাবেশের। সেখানে বামফ্রন্টের পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, দেশ জুড়ে অপদার্থের শাসন চলছে আর রাজ্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে তৃণমূল। তৃণমূল আর বিজেপি মানুষকে ভাগ করার খেলায় মেতেছে। দুই দল যেমন প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতায় নেমেছে, তেমনই প্রতিযোগিতা চলছে লুট আর অপশাসনেও। বিজেপি’র সঙ্গে বোঝাপড়ার কারণেই সারদা, নারদের অপরাধীরা জেলের বাইরে। তৃণমূল আর বিজেপি হলো দুই মুখওয়ালা দৈত্য। এরা কখনই একে অপরের বিরোধিতা করে না, তাই বিজেপি’র রথযাত্রার প্রচার করে দিচ্ছে তৃণমূল!

২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মালিক পক্ষ এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলির বৈঠকে সিআইটিইউ’র চাপে বেড়েছিল বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি। কিন্তু এখনও কার্যকর হয়নি সেই চুক্তি। প্রতি হাজার বিড়ি বাঁধার জন্য সরকার নির্দেশিত ২৪৩ টাকা মজুরি নয়, বিড়ি শ্রমিকরা পান ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। বিড়ি শ্রমিকদের ছেলেমেয়েদের স্কলারশিপের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে সরকার, ওয়েলফেয়ার বোর্ড দালাল চক্র নিয়ন্ত্রিত, তারাপুর বিড়ি হাসপাতাল এবং সাগরদিঘিতে বিড়ি হাসপাতালের দাবিতেও এদিনের অবস্থানে শামিল হন বিড়ি শ্রমিকরা। বিড়ি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, সারা বছর কাজ, লগবুক, সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবধি চলে অবস্থান বিক্ষোভ। আগে থেকে সময় জানানো হলেও ডেপুটেশন নিতে উপস্থিত ছিলেন না কোনও সরকারি প্রতিনিধি। অথচ ২৮নভেম্বর দেওয়া হয়েছিল নোটিস। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শান্ত শ্রমিকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে দায় নিতে হবে সরকারকে।

রঘুনাথগঞ্জে জঙ্গীপুর হাসপাতাল মোড় এবং জঙ্গীপুর ব্রিজ থেকে বিড়ি শ্রমিকদের দু’টি বিশাল মিছিল ব্রিজের নিচে মিলিত হয়ে এসডিও অফিস পর্যন্ত যায়। মাঠ ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় প্রশাসনিক ভবনের সামনের রাস্তাতেই বসে পড়ে অবস্থান বিক্ষোভ চালান বিড়ি শ্রমিকরা।

বিড়ি শ্রমিকদের প্রতি রাজ্য সরকারের উপেক্ষার তীব্র সমালোচনা করে সুজন চক্রবর্তী বলেন, বিড়ি শ্রমিকদের করুণ অবস্থা দেখেও নীরব সরকার। উলটপুরাণের রাজ্যে শ্রম দপ্তরের মন্ত্রী করা হয়েছে বিড়ি কারখানার মালিককে। লাল ঝান্ডা নিয়ে লড়াই করেই অধিকার কেড়ে নেবেন শ্রমিকরা, দু’দিনের ধর্মঘটে অচল হবে বিড়ি শিল্প।

বিড়ি শ্রমিকদের অভিনন্দন জানিয়ে সারা ভারত কৃষকসভার রাজ্য সভাপতি নৃপেন চৌধুরি বলেন, ৮ এবং ৯ জানুয়ারির ধর্মঘটে ইতিহাস তৈরি করবেন দেশের শ্রমজীবী মানুষ। ৩ ফেব্রয়ারি বামফ্রন্টের ডাকা ব্রিগেড সমাবেশে বিড়ি শ্রমিকদের কাছে দল বেঁধে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

সমাবেশে এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য, শ্রমিক নেতা তুষার দে, বিড়ি ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের রাজ্য সভাপতি আবুল হাসনাৎ খান, শ্রমিক নেতা জ্যোতিরূপ ব্যানার্জি, মহম্মদ নিজামুদ্দিন এবং অমল চৌধুরি। সমাবেশ পরিচালনা করেন শ্রমিক নেতা মহম্মদ আজাদ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement