মন্দির নিয়ে উন্মাদনা তৈরির চেষ্টা

  ১১ই ডিসেম্বর , ২০১৮

অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরির শপথ নিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)’কে সামনে রেখে আরএসএস’র ‘সঙ্কল্প রথযাত্রা’ শুরুর দিন খোদ রাজধানী দিল্লিতে তেমন সাড়া না মিললেও রবিবার কিন্তু ভিএইচপি রামলীলা ময়দান ভরিয়ে দিল। ১ ডিসেম্বর শুরুর দিন ‘সঙ্কল্প রথযাত্রা’য় শ’খানেক লোকও জোগাড় করতে পারেনি আরএসএস। আরএসএস’র লক্ষ্য ছিল শুরুতেই তারা কম করে‍‌ও লাখখানেক লোককে জড়ো করতে সক্ষম হবে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার সমস্ত কিছুই মাঠে মারা যায়। সঙ্ঘের দিল্লির নেতারা খুবই অস্বস্তিতে পড়েন। তাঁরা ভেবেছিলেন সংসদ অধিবেশনের আগে রামলীলায় বড় আকারের সমাবেশ করে মন্দির নির্মাণে সরকারের উপর চাপ বাড়াতে সক্ষম হবেন তারা। কিন্তু রথযাত্রার শুরুতেই বেদম ধাক্কা খাওয়ায় প্রথমে ম্রিয়মাণ হলেও ৯ তারিখের জন্য যেমন করেই হোক তারা রামলীলা ভরিয়ে দেবেন। তারা বুঝিয়ে দেবেন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জন্য অপেক্ষা না করে সরকার যেন সংসদে আইন এনে রামমন্দির তৈরির পথে এগোয়। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ক’দিন আগেই বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান না দেখে সরকার তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না। সংসদের অধিবেশন শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে। বিজেপি’র মন্ত্রীরাও ঠারেঠোরে জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান অধিবেশনে মন্দির তৈরিতে কোনও আইন আসছে না। কিন্তু আরএসএস এসব কথায় আমল দিতে রাজি নয়। নির্দেশ দেওয়া হয় ভিএইচপি’কে দিয়ে ধর্মসভা ডেকে দি‍‌ল্লিতে যাতে ব্যাপক লোকসমাগম করা যায় সেই ব্যবস্থা করতে। তাতে সফলও হয়েছে সঙ্ঘনেতারা। আরএসএস নেতারা মনে করেন, মন্দির এক্ষুনি হচ্ছে না এটা সবাই বোঝেন। ২০১৯ সাল শুরু হোক, লোকসভা ভোটের দামামা বাজুক। তখনই সঙ্ঘ-সমর্থকরা গা ঝাড়া দিয়ে উঠবে মন্দিরের জন্য। দি‍‌ল্লির সমাবেশ সরকারের টনক নড়িয়ে দেবে এটাই চান তারা। কিন্তু ধর্মসভায় বক্তারা যেসব শব্দ উচ্চারণ করেছেন তাকে সতর্কবার্তা হিসাবেই গণ্য করা যায়। আরএসএস’র সাধারণ সম্পাদক যিনি সংগঠনে ২নং হিসাবে পরিচিত সুরেশ ভাইয়াজী যোশী নাম না করে বিজেপি’কে খোঁচা দিয়ে নেতৃত্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, আজ যারা সরকারি ক্ষমতায় বসে আছেন রামমন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন তারা। ধরেই নেব তারা মানুষের ভাবাবেগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। সুতরাং রামমন্দির নির্মাণের দাবি তাদের পূরণ করতেই হবে।

রামলীলায় সমাবেশের আগে গত নভেম্বরে সঙ্ঘ পরিবার সাধু সন্তদের নিয়ে দিল্লিতে ধর্মসভা করে মন্দির সমর্থকদের আবেগকে উসকে দিতে চেষ্টার কোনও কসুর করেনি। তারা চেষ্টা করেছে পাঁচ রাজ্যের ভোটে মন্দির প্রসঙ্গ এনে তথাকথিত হিন্দুভোটকে সংহত করতে। কিন্তু এতে কতটা সাফল্য এসেছে কয়েকদিনের মধ্যেই মালুম হবে। লক্ষণীয় ঘটনা হচ্ছে, এই নভেম্বরেই লক্ষ লক্ষ খেটে খাওয়া কৃষকের মিছিল লালা ঝান্ডা বয়ে নিয়ে এসে রাজধানী দিল্লির বুক কাঁপিয়ে দেয়। বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লিকে কৃষকরা জানিয়ে দেন ঋণ মকুব আর ফসলের ন্যায্য দাম সরকারকে মেটাতে হবে। স্লোগান ওঠে : ‘‘অযোধ্যায় মন্দির চাই না, ঋণ মকুব চাই।’’ দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে হাজার হাজার কৃষক এসে পৌঁছেছিলেন এই রামলীলা ময়দানেই। এখান থেকেই তারা লাখে লাখে সংসদ অভিযান করেন। সুতরাং সঙ্ঘ পরিবারকে মনে রাখতে হবে রামলীলায় তাদের আগে থেকেই লাল ঝান্ডা নিয়ে দেশের কৃষককুল এসে জানান দিয়ে গেছেন : ‘অযোধ্যা নাহি, কর্জি মাফ চাহিয়ে।’ লোকসভা নির্বাচনের আগে ইতিমধ্যেই বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আঙুল উঠতে শুরু করে‍‌ছে, ধর্মের ভিত্তিতে সমাজে বিভাজনকে তুঙ্গে তুলে হিন্দু ভোট সংহত করার চেষ্টা করছে সঙ্ঘ পরিবার। গত কয়েক মাসে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোট উপলক্ষ করে রামমন্দির নিয়ে উন্মাদনা তৈরির আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে তারা। তবে বিজেপি শিবির নিশ্চয়ই এটাও লক্ষ্য করেছে, মন্দির নির্মাণের দাবি যত জোরালো হবে হিতে বিপরীত হওয়ার বিপদও তত বাড়বে। কিন্তু এতকিছু সত্ত্বেও এই পথে তারা কতটা এগবে সেটাই আগামীদিনে দেখার।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement