এতদিন চুপ থেকে এখন
যত্রতত্র জঞ্জাল ফেললে
জরিমানার পথে কর্পোরেশন

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১১ই ডিসেম্বর , ২০১৮

কলকাতা, ১০ ডিসেম্বর— সাফাই কর্মীর স্থায়ী পদে শূন্য আসনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫হাজার। পরিষেবার বেহাল দশা ঢাকতে এবার ‘স্পট ফাইন’-এর পথে কলকাতা কর্পোরেশনের জঞ্জাল সাফাই বিভাগ!

যথেচ্ছভাবে ময়লা ফেলার ঘটনায় জঞ্জাল সাফাই বিভাগের তরফে স্পট ফাইন করার নিয়ম পৌর আইনে দীর্ঘদিন ধরেই আছে। তবে আইন থাকলেও তা কার্যকর করতে দেখা যায় না আধিকারিকদের। কোনও এলাকায় যদি একাধিক স্পট ফাইন করলে তা ভোট ব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলে সেকথা মাথায় রেখে আর ওই পথে আধিকারিক-কর্মীদের যেতে দেওয়া হয় না। বামফ্রন্টের বোর্ড থাকাকালীন সাফাই বিভাগের তরফে যথেচ্ছ জঞ্জাল ফেলার জন্য স্পট ফাইন করা হতো। যত্রতত্র জঞ্জাল ফেলার ঘটনাও কমে গিয়েছিল। তবে তৃণমূল ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ হয়েছে ভোটের কথা ভেবেই। কলকাতা কর্পোরেশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, শহরে জঞ্জাল সাফাই করার স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১৪হাজার। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র সাড়ে ৮হাজারে। জঞ্জালের পরিমাণও বেড়ে গিয়েছে। সাফাই কর্মীদের দ্বিগুণেরও বেশি কাজ করতে হচ্ছে। এর জেরে কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। সেই ক্ষোভের আঁচ আধিকারিক মারফত পৌঁছাচ্ছে মেয়র পারিষদের কাছেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কিছু সংখ্যায় শহুরে রোজগার যোজনায় (১০০দিনের কাজ) কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। তবে নামমাত্র মজুরিতে স্থায়ী কর্মীদের মতো ব্যাপক পরিমাণে কাজ করতে নারাজ তাঁরা। অনেকে ইতিমধ্যেই কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। সেখানে নতুন কর্মীও নিতে পারেনি সামান্য মজুরির কারণে। ফলে পরিষেবার দশা করুণ। পৌর আধিকারিকদের কেউ কেউ তা মেনেও নিচ্ছেন। কর্মীর অভাবে সকলে শহরের সমস্ত জায়াগয় নিয়মিত পরিষ্কার হচ্ছে না। বস্তিগুলি, উত্তর কলকাতা বা মধ্য কলকাতার অলিগলিতে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকছে জঞ্জাল। কেন এমন ঘটনা? নাগরিকদের এপ্রশ্নে কার্যত ক্ষুব্ধ সাফাই কর্মীরা জবাব দিচ্ছেন লোক কম। একজনকে দ্বিগুণ কাজ করতে হচ্ছে। আগে নিজের জায়গায় পরিষ্কারের কাজ শেষ করে তারপর ফের অপরের দায়িত্বের জায়গা পরিষ্কার করতে হচ্ছে। অন্যদিকে জঞ্জালের পরিমাণও ব্যাপকভাবে বেড়েছে শহর কলকাতায়। কর্মীর অভাবে ভেঙে পড়া পরিষেবার ঘটনা মেনে নিতেও নারাজ কলকাতা কর্পোরেশনের জঞ্জাল সাফাইয়ের দায়িত্বে থাকা মেয়র পারিষদ সদস্য দেবব্রত মজুমদার। তাঁর দাবি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে জঞ্জাল সংগ্রহ হচ্ছে। পরিষেবা নিয়ে কোনও অসুবিধা নেই। কর্মী নিয়োগ সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, ১৪০জন ব্লক সরকার (সাব ওভারসিয়ার) পদে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ফাইন করা নিয়ে পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান, আইন আছে। আমরা অনুরোধ করব। আবেদন রাখব যাতে যত্রতত্র জঞ্জাল না ফেলে গাড়িতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফেলেন। তারপরও না শুনলে জরিমানার পথে যাওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। কত টাকা তা আধিকারিক পর্যায়ের বৈঠকে ঠিক করা হবে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement