ধর্মঘটে অনড় বেস্ট কর্মীরা,
সমাধানের নির্দেশ হাইকোর্টের

সংবাদসংস্থা   ১২ই জানুয়ারি , ২০১৯

মুম্বাই, ১১ জানুয়ারি— বাণিজ্যনগরীর রাস্তায় শুক্রবারও চলল না ‘বৃহন্মুম্বাই ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট’ (বেস্ট)’এর বাস। ধর্মঘট পড়ল চতুর্থ দিনে। মহারাষ্ট্র সরকার বেস্ট’এর কর্মীদের দাবিপূরণ নিয়ে শুক্রবার রাত পর্যন্ত কোনও উদ্যোগই নেয়নি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই সমস্যা সমাধানে নজর না দিয়ে উত্তর প্রদেশ সফরে ব্যস্ত। বেতন বৃদ্ধি সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন বেস্ট’এর কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে বম্বে হাইকোর্ট শুক্রবার বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সমস্যা সমাধানে বেস্ট ইউনিয়নকেই প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে আদালত।

এদিন আদালতে অ্যাডভোকেট জেনারেল আশুতোষ কুম্ভাকোনি জানান, মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে মহারাষ্ট্র সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে, ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার জন্য। নগরোন্নয়ন এবং পরিবহণ দপ্তরের সচিবরাও এই কমিটির মধ্যে রয়েছেন। বিএমসি এবং বেস্ট আধিকারিকদের এই বৈঠকে থাকতে হবে। বিএমসি এবং বেস্টের আইনজীবীরা আদালতে জানান, সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁরা আগ্রহী। বেস্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাঁদের সঙ্গে যদি সহযোগিতা করা হয় তাহলে তাঁরা সমাধানের দিকেই এগবে। অন্যদিকে বিএমসি’র বক্তব্য, তাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কিছু করা যাবে না। বেস্ট’এর কর্মীরা শুক্রবারও ক্ষোভের সঙ্গে জানান, নতুন বছর শুরু হয়ে দশদিন কেটে গেলেও ডিসেম্বর মাসের বেতনই পাননি তাঁরা।

এদিকে, চারদিন ধরে বেস্ট’এর বাস রাস্তায় না নামায় সমস্যায় পড়তে হয়েছে নিত্যযাত্রীদের। প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী কেন এখন উত্তর প্রদেশে? সেই প্রশ্নও তুলছেন অফিসযাত্রীরা। তাঁদের কথায়, এখনই ওঁর রাজ্যে থাকা উচিত। এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুক মুখ্যমন্ত্রী। রাজারাম নামে এক মুম্বাইবাসী জানান, চল্লিশ বছর এই শহরে আছি। বেস্ট’এর এমন ধর্মঘট কখনও হয়নি। সরকারের উচিত সমস্যা সমাধানে নজর দেওয়া। মুম্বাই, নবি মুম্বাই এবং থানে জুড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩২০০ বাস চালায় বেস্ট। সেই বেস্ট’এরই ৩২হাজার কর্মী ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন। দাবি, বৃহন্মুম্বাই পৌরসভার সঙ্গে বেস্টের বাজেটের সংযুক্তিকরণ, স্থায়ী কর্মী নিয়োগ এবং কর্মীদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। কিন্তু ‘মহারাষ্ট্র অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা আইন, ২০১১’ (মেসমা)’র ভিত্তিতে যুক্তি দেখিয়ে মহারাষ্ট্রের নগরোন্নয়ন দপ্তর নির্দেশ দিয়েছে, বে‌আইনিভাবে ধর্মঘটে শামিল হওয়ায় বেস্ট কর্মীদের সরকারি আবাসন খালি করে দিতে হবে। সিটইটিইউ অবিলম্বে এই নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবারই চিঠি দেয় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement