প্রাচীরে বরাদ্দ না পেলে জরুরি
অবস্থা জারির হুমকি ট্রাম্পের

শঙ্কায় আট লক্ষ সরকারি কর্মী

সংবাদসংস্থা   ১২ই জানুয়ারি , ২০১৯

ওয়াশিংটন, ১১ জানুয়ারি— মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণে বরাদ্দ না পেলে ফের জরুরি অবস্থা জারির হুমকি দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে, বৃহস্পতিবার শাটডাউন ছুঁয়েছে ২০তম দিনে। দীর্ঘকালীন শাটডাউনে ভেঙে দেওয়ার পথে অতীতের সমস্ত রেকর্ড। বেতন আটকে যাওয়াতে তুমুল শঙ্কায় আট লক্ষ সরকারি কর্মী।

ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বোঝাপড়ার বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করার পরেই বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সীমান্তের টেক্সাসে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রচারের সময়ই তিনি যে কোনও মূল্যে প্রাচীর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, তারা ‘জনগণের করের টাকায়’ এ প্রতিশ্রুতি পূরণ হতে দেবে না। দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের জেরে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের বিলটি আর আলোর মুখ দেখেনি। অচলাবস্থায় আমেরিকা। আশঙ্কা, অনিশ্চয়তায় ৮,০০,০০০ সরকারি কর্মী। এই পরিস্থিতিতে বুধবার ডেমোক্র্যাটদের দুই শীর্ষ নেতা ন্যান্সি পেলোসি এবং চাক শুমারের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ট্রাম্প। পেলোসি মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধিসভার স্পিকার। আর সুমার উচ্চকক্ষ সেনেটের সংখ্যালঘু নেতা। দু’জনেই ট্রাম্পে প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানান। সরাসরি জানিয়ে দেন সরকারি কাজকর্ম চালু হলে ৩০ দিনের মধ্যে তাঁরা প্রাচীর নির্মাণের প্রস্তাবে সায় দেবেন, এমন নয়। ৫৭০ কোটি ডলার খরচ করে প্রাচীর তুলে অবৈধ অভিবাসন আটকানো যাবে বলে তাঁরা মনে করেন না। অন্যদিকে মেক্সিকো জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রাচীর তৈরির খরচ তারা কোনও অংশেই বহন করবে না।

ডেমোক্র্যাটরা অর্থ বরাদ্দে সমর্থন না দিলে ট্রাম্পের পক্ষে প্রাচীর তোলা সম্ভব নয়। কারণ এখন প্রতিনিধিসভায় ডেমোক্র্যাটরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই পরিস্থিতিতে, বুধবারের বৈঠকে রাগে টেবিল চাপড়ে ‘বাই বাই’ বলে বেরিয়ে যান ট্রাম্প। আর তারপরেই, প্রথমে আপত্তি থাকলেও টেক্সাস সফরকে বেছে নেন। হুমকি দিয়েছেন, ‘যদি রফাসূত্র বের না হয়, খুব সম্ভবত আমি এটাই করব। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে আমি প্রায় নিশ্চিত।’ যোগ করেছেন, ‘এবং, এটা জাতীয় জরুরি অবস্থা।’

এদিকে ট্রাম্পের একগুয়েমির জেরে বড়দিনের ছুটির মরশুম থেকে মার্কিন সরকারি দপ্তরগুলির ঝাঁপ বন্ধ। আক্ষরিক অর্থেই শাটডাউন। মোট একুশ লক্ষ সরকারি কর্মীর তিনভাগের একভাগের বেশি এতে আক্রান্ত। এর মধ্যে ৩,৮০,০০০ কর্মীকে পাঠানো হয়েছে বাধ্যতামূলক ছুটিতে। বাকি ৪,২০,০০০, যাঁরা কাজ করেন জরুরি পরিষেবায়, তাঁদের কাজ করে যেতে হবে বিনা বেতনে।

শুরুতেই ছুটিতে যেতে বলা হয় নাসা’র অধিকাংশ কর্মীকে। মাইনে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেওয়া হয় মার্কিন বিদেশ দপ্তর, বাণিজ্য, হোমল্যান্ড সিকিওরিটি (অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা), বিচারবিভাগ ও কৃষি দপ্তরগুলির বহু কর্মীকে।

এই প্রথম নয়, গতবছর এনিয়ে তৃতীয়বার শাটডাউনের মুখে পড়ে আমেরিকা। জানুয়ারির শুরুতে ছিল তিনদিনের শাটডাউন। ফেব্রুয়ারিতে একদিনের। গত চারদশকে কুড়ি বার। সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ছিল ১৯৯৫-৯৬তে, তিন-সপ্তাহ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement