ঋতুকালীন ঘরে দমবন্ধ
হয়ে মৃত্যু দুই ছেলেসহ মায়ের

সংবাদসংস্থা   ১২ই জানুয়ারি , ২০১৯

কাঠমাণ্ডু, ১১ জানুয়ারি— অনেক দিন আগেই রীতির নামে এই কু-প্রথা নেপালে নিষিদ্ধ হয়েছে। ২০০৫সালে ‘ছাওপাদি’-র উপর সেই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও হিন্দু ধর্মের প্রাচীন রীতি হিসাবে ‘ছাওপাদি’ গ্রামীণ এলাকায় এখনও চলত। নেপালে ঋতুকালীন সেই একঘরে প্রথার শিকার হতে হলো দুই ছেলেকে নিয়ে বছর পঁয়ত্রিশের এক মায়ের।

গত মঙ্গলবার ঋতুকালীন কুঁড়েঘরে নির্বাসনে থাকতে গিয়ে দুই সন্তানসহ প্রাণ হারিয়েছেন আম্বা বোহারা। তীব্র ঠান্ডা আবহাওয়ায় নিজেকে এবং সন্তানদের একটু উষ্ণতা দিতে আগুন জ্বালিয়েছিলেন তিনি। সেই আগুনের ধোঁয়াতেই শ্বাসকষ্টে তিনজনেই প্রাণ হারিয়েছেন। মৃত দুই সন্তানের একজন ১২ বছরের, আরেকজনের বয়স নয়। পরদিন সকালে সেই কুঁড়েঘরে গিয়ে তাঁর শ্বশুর তাঁদের মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

কুঁড়েঘরে পাঠানো মেয়েদের প্রাণ হারানোর মতো এই ধরনের দুঃখজনক ঘটনা এই প্রথম নয়। এই প্রথাকে অপরাধ হিসাবেও ঘোষণা করা হয়েছে নেপালে। আইন ভাঙলে তিন মাসের জেল ও তিন হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এর আগেও এই কারণে দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে এবং অনেকের মৃত্যু হয়েছে সাপের কামড়েও।

হিন্দু ধর্মের প্রাচীন রীতি অনুযায়ী, যেসব নারীদের ঋতু চলছে এবং যারা সন্তান জন্ম দিয়েছে তারা অপবিত্র এবং খারাপ ‘ভাগ্য’ বয়ে আনে তারা। তাই তাদের আলাদা কুঁড়েঘর বা গোয়ালঘরে রাখা হয়। এই সময় তারা কোনও পোষ্য প্রাণী বা পুরুষদের ছুঁতে পারবে না। কিছু খাবার ধরতে পারবে না এবং বাড়ির ভেতরে শৌচাগার ও অন্যান্য ধোওয়াধুয়িও করতে পারবে না। তাদের গ্রাম থেকেও অনেক দূরে চলে যেতে হয়। দুই ছেলেকে নিয়ে আম্বা বোহরা সেই প্রথারই শিকার হলেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement