ধর্মঘট ভাঙতে পুলিশি হামলা,তৃণমূলী
গুন্ডামির বিরুদ্ধে পথে নামলেন মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১২ই জানুয়ারি , ২০১৯

দুর্গাপুর, ১১জানুয়ারি — দু’দিনের ধর্মঘট ভাঙতে তৃণমূলী দুষ্কৃতী ও পুলিশি আক্রমণের বিরুদ্ধে শুক্রবারও জেলাগুলি প্রতিবাদ ও গণ ধিক্কারে উত্তাল হলো। পশ্চিম বর্ধমান জেলাজুড়ে ১১৭জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জামিন অযোগ্য ধারা দিয়ে অনেককে চালান করা হয়েছে। জেলাজুড়ে অঘোষিত ১৪৪ধারার পরিবেশ তৈরি করেছিলো পুলিশ। জোর করে দোকান খুলিয়েছে। পার্টি দপ্তরে চড়াও হয়েছে। মিছিল থেকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ধর্মঘটের দিন পুলিশি আক্রমণের বিরুদ্ধে আসানসোলে শিল্পতালুক কন্যাপুরে শ্রমিকরা প্রতিবাদ করেন। প্রতিবাদ হয়েছে জেলার সমস্ত নতুন শিল্পতালুকে। রানিগঞ্জেও ধিক্কার মিছিল হয়। শেষে বক্তব্য রাখেন পার্টিনেতা সুপ্রিয় রায়। সালানপুর আল্লাডি মোড়ে সভা হয়। বার্নপুরে প্রতিবাদ মিছিল, অণ্ডালে প্রতিবাদসভা হয়। দুর্গাপুর এবিএল কারখানা, এসপিএস কারখানা, সুপার স্মেলটার্স কারখানা, গ্রাফাইট কারখানা, ডিপিএল কারখানার গেটে বিক্ষোভসভা হয়। বাঁকোলা কোলিয়ারিসহ ইসিএল’র বিভিন্ন খনিতে প্রতিবাদ হয়। শ্রমিকরা কালো ব্যাজ পরে কাজে যোগ দেন। দুর্গাপুর সিটি সেন্টারে প্রতিবাদসভায় বক্তব্য রাখেন পার্টিনেতা বিপ্রেন্দু চক্রবর্তী, মহাদেব পাল, শ্যামা ঘোষ, সুব্রত সিন্‌হা প্রমুখ।

এদিন সন্ধ্যায় ইস্পাতনগরীর আশিস মার্কেটে ও চণ্ডীদাস বাজারে সিপিআই(এম)’র দুর্গাপুর ইস্পাত ১,২ও ৩এরিয়া কমিটির পক্ষে দু’টি পৃথক প্রতিবাদসভা হয়। আশিস মার্কেটে বক্তব্য রাখেন নির্মল ভট্টাচার্য, কাজল চ্যাটার্জি, জীবন আইচ। পূর্ব বর্ধমান জেলার সর্বত্র শুক্রবার প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন মানুষ। গ্রেপ্তার হন অসংখ্য পার্টিকর্মী। পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে এদিন জেলার সর্বত্র মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। বর্ধমান শহরের কার্জনগেটের সামনে এদিন বহু মানুষ লালপতাকা নিয়ে পুলিশ ও শাসকদলের দুষ্কৃতীদের ধিক্কার জানান। বক্তব্য রাখেন পার্টিনেতা শৌভিক চট্টরাজ। ছিলেন পার্টিনেতা নজরুল ইসলাম, তরুণ রায় প্রমুখ। এদিন বর্ধমান সদর, মেমারি, মন্তেশ্বর, কালনা, কাটোয়া, জামালপুর, গুসকরা, গলসী, রায়না, খণ্ডঘোষ, পূর্বস্থলী, মঙ্গলকোট, কেতুগ্রামের মানুষও প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন।

ধর্মঘটীদের ওপর পুলিশি জুলুমের প্রতিবাদে শুক্রবার বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় প্রতিবাদ মিছিল ও পথসভা হয়। ধর্মঘটের দু’দিনই বড়জোড়ায় অবরোধ কর্মসূচিতে পুলিশ ধর্মঘটীদের বলপ্রয়োগ করে তুলে দেয়। দ্বিতীয় দিনেও পুলিশ একই পথ নিলেও বড়জোড়ায় অবরোধ, মিছিল হয়। হয় পথসভা। এদিন সিআইটিইউ সহ বামপন্থী ও আইএনটিইউসি’র শ্রমিক সংগঠন ও খেতমজুর ইউনিয়ন বাঁকুড়া বাসস্ট্যান্ডে ধর্মঘটে অংশ নেওয়ার জন্য পরিবহণ শ্রমিকদের অভিনন্দন জানায়। বাস চালকদের হাতে গোলাপ দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। এদিন বিকেলে বাঁকুড়া স্টেশনমোড়েও বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকে ধর্মঘটে মুটিয়া, বিড়ি শ্রমিক, লরি শ্রমিকদের ধর্মঘটে অংশ নেওয়ার জন্য অভিনন্দন জানানো হয়।

সাধারণ ধর্মঘটে বীরভূম দেখেছে লাল ঝান্ডার লড়াই। পুলিশি বাধা আসলেও প্রতিরোধ, প্রতিবাদ হয়েছে চোখে চোখ রেখেই। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সরকারি সম্পত্তি ভাঙা বিরোধী আইনের ৯নং ধারা এদিনও জারি রয়েছে। অতিসক্রিয়তায় আনাস আখতার ও মৌনিক দাস নামে দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দিলেও জেলে আটকে রাখতে পারেনি। আদালত তাদের জামিন দিয়েছে বৃহস্পতিবার। শুক্রবারই পুলিশ গাড়ির কাঁচ ভাঙার ক্ষতিপূরণ আদায়ের আবেদন করেছে। এর বিরুদ্ধে চড়েছে প্রতিরোধের স্বর। শুক্রবার লাল ঝান্ডার মিছিলে সরগম ছিল শহর সিউড়ি। পুলিশি জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে এদিন ফের লাল ঝান্ডা হাতে শহরের রাজপথ দাপিয়েছেন শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র-যুব-মহিলারা। মিছিলের শুরুতেই শ্রমিকনেতা আভাস রায়চৌধুরি বলেন, মমতা ব্যানার্জির পুলিশ মোদির জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদে নামছেন তাঁদের জেলে পুরছেন। সিআইটিইউ বীরভুম জেলা সম্পাদক দীপঙ্কর চক্রবর্তী বাস ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা করেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের মিছিলে শামিল কেউ ওই ঘটনা ঘটায়নি। আগে পুলিশ চিহ্নিত করুক ঘটনার জন্য কে দায়ী।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement