রাজ্যে শিক্ষাঙ্গন কলুষমুক্ত
করার ডাক শিক্ষাবিদদের

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১২ই জানুয়ারি , ২০১৯

কলকাতা, ১১ জানুয়ারি— শুধু শিক্ষক-শিক্ষিকারা নন, পড়ুয়া-অভিভাবক-সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এরাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রকে কলুষমুক্ত করার আহ্বান জানালেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা। তাঁরা বললেন, লড়াই আরও তীব্র করতে না পারলে শিক্ষাঙ্গনকে কলুষমুক্ত করা যাবে না। শুক্রবার রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের মেঘনাদ সাহা অডিটোরিয়ামে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত এক কনভেনশনে শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলেছেন, দুষ্কৃতীদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিষিয়ে দেওয়া হচ্ছে। লড়াইয়ে নতুন মাত্রা এনে শিক্ষাক্ষেত্রকে দুষ্কৃতীমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ আনন্দদেব মুখোপাধ্যায়ও।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন কুটা, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন জুটা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘পুনর্নবা কলকাতা’র উদ্যোগে এদিন এই কনভেনশন হয়। ‘আক্রান্ত উচ্চশিক্ষা: পশ্চিমবঙ্গ আজ’ শীর্ষক একটি পুস্তিকাও এদিন প্রকাশিত হয় কনভেনশন থেকে। কনভেনশনে পবিত্র সরকার বলেন, পরিকল্পনা করে শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য তৈরি করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনার শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি যাতে সাধারণ মানুষের বিরূপ মনোভাব তৈরি হয় এবং বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় আগ্রহ বাড়ে সেই লক্ষ্যেই শিক্ষায় নৈরাজ্য নামিয়ে আনা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যদি প্রগতিশীল, গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ নীরব থাকেন তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষমা করবে না। তাই বৃহত্তর লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে এই অন্ধকার অধ্যায় আমাদের কাটাতে হবে।

শিক্ষাবিদ আনন্দদেব মুখোপাধ্যায় বলেন, বর্তমান সরকার একগাদা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করছে। তাতে কী উচ্চশিক্ষার মান বাড়ে? বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই অগণতান্ত্রিক পরিবেশে শিক্ষার মান কখনই বাড়তে পারে না। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে যে গণতন্ত্রীকরণ হয়েছিল, তার ফলে উচ্চশিক্ষায় বহু সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার সুযোগ বেড়ে গিয়েছিল। সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নও হয়েছিল। শিক্ষাক্ষেত্রে বামফ্রন্টের এই কাঠামো অনুসরণ করে বহু রাজ্যে শিক্ষার বিস্তার ঘটেছিল। এখন রাজ্যের উচ্চশিক্ষার আঙিনায় এমন লোক ছড়ি ঘোরাচ্ছে, যাদের শিক্ষার সঙ্গে কোনও যোগ নেই। যেখানে প্রতিমুহূর্তে শাসকের চোখরাঙানি চলে, সেখানে আর যাই হোক শিক্ষার মানোন্নয়ন হয় না। সরকারের এই মনোভাব পালটানোর দায় শিক্ষক সমাজকেই নিতে হবে। তারজন্য নতুন মাত্রায় লড়াইয়ের পরিকল্পনা নেওয়া দরকার।

ওয়েবকুটার সাধারণ সম্পাদক কেশব ভট্টাচার্য বলেছেন, ক্যাম্পাসে অসহিষ্ণুতা, বিরোধী মতামতের ওপর নিষেধাজ্ঞা শুধু রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় এই গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যাদবপুর থেকে দিল্লির জেএনইউ— সর্বত্র এক অবস্থা। শিক্ষা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের দুই শাসকদলের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে কোনও ফারাক নেই। দুই সরকারই শিক্ষাকে পণ্য হিসাবে দেখে বলে নানা কায়দায় বেসরকারিকরণের চেষ্টা চলছে। এছাড়াও কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক গৌতম গুপ্ত। রত্নাবলী চ্যাটার্জি, ঈশিতা মুখার্জি ও পার্থপ্রতিম বিশ্বাসকে নিয়ে গঠিত সভাপতিমণ্ডলী কনভেনশন পরিচালনা করে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement