দেশের প্রথম মহিলা জেল এখন আই আই টি’র গুদামঘর!
স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে ২০ ছবির প্যানেল উদ্বোধন আজ

ভাস্করব্রত পতি   ১৬ই সেপ্টেম্বর , ২০১১

তমলুক, ১৫ই সেপ্টেম্বর— একসময় এখানে বন্দীদশা কাটিয়েছেন মাতঙ্গিনী হাজরা, অমিতা সেন, কমলা দাশগুপ্ত, লীলা নাগ, চারুশীলা দেবী, সরোজ আভা নাগ, বনলতা দাশগুপ্ত, সুনীতি চৌধুরীরা। খড়গপুর আই আই টি ক্যাম্পাসে থাকা ভারতের প্রথম মহিলা জেল বা জেনানা ফাটক এখন তাই অন্যতমম দর্শনীয় স্থান। যদিও ক’বছর আগেও তা ছিল চরম উদাসীনতার শিকার। ২০০৩-এর ১৭ই ডিসেম্বর থেকে আই আই টি কর্তৃপক্ষ সেই মহিলা জেলের মধ্যে ‘মাতঙ্গিনী হাজরা ভবন’ নামে জেলের একাংশ উন্মুক্ত করেছে। সেই ভবনের দ্বারোদ্‌ঘা‍‌টন করেছিলেন ‘গরম দল’ এর বীর সেনানী কুমুদিনী ডাকুয়া।

এই জেনানা ফটকই হিজলী মহিলা জেল। ঠিক তার পাশেই হিজলী জেল। যেখানে বন্দী থাকতেন পুরুষ বন্দীরা। প্রমোদ দাশগুপ্ত, অজয় মুখোপাধ্যায়, সুশীলকুমার ধাড়া, নৃপেন চক্রবর্তী, অতুল্য ঘোষদের রাখা হয়েছিলো সেখানে। সেখানেই ১৯৯১-এর ১৬ই সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পুলিস ঘটিয়েছিল নারকীয় হত্যাকাণ্ড। সেদিন মৃত্যু হয়েছিল নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর সহপাঠী সন্তোষকুমার মিত্র। মৃত্যু হ‍‌য়েছিল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনে মাস্টারদার অন্যতম সহযোগী তারকেশ্বর সেনগুপ্তর।

সেই ১৬ই সেপ্টেম্বর শুক্রবার। এই ঘটনার প্রতিবাদে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন ‘প্রশ্ন’ কবিতা। ফি বছর এইদিনে খড়গপুর আই আই টি কর্তৃপক্ষ শ্রদ্ধায় স্মরণ করে দুই শহীদকে। আর তখন দর্শর্নীয় স্থান হয়ে ওঠে হিজলী মহিলা জেলও।

এই মহিলা জেল কিন্তু বর্তমানে আই আই টি-র গুদামঘর বা মালখানা। আজ জেলের দেওয়ালে বুনো গাছ আর জঙ্গলের ভিড়। সাপখোপের অবাধ আড্ডা। তাছাড়া খুব সহজে বহিরাগত দর্শনার্থীরা দেখতে পান না। মহিলা জেলের অন্দরমহলের চিত্র। অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। স্পষ্ট ক্ষোভ খড়গপুরের গল্পকার নরেশ জানার। তাঁদের দাবি অবিলম্বে এই ডিটেনশন ক্যাম্পটির কালিমামুক্ত করা হোক।

সেসময় এই মহিলা জেলে একটি মাত্র রান্নাঘর ছিল। ভারতের সব রাজ্যের কয়েদীদের জন্য একই খাবার তৈরি হতো। মলমূত্র ত্যাগের জন্য কোনও পৃথক শৌচাগার ছিল না। খোলা নর্দমায় আব্রুহীন হতে হতো সকলকে। মারাত্মক মশার আক্রমণে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব ছিল। ম্যা‍‌লেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন বিপ্লবী কমলা দাশগুপ্ত।

শুধু বিপ্লবীরা নয়, অন্যান্য মহিলা কয়েদীদেরও এখানে রাখা হতো বলে জানান জলদবরণ দাস। তিনি জানান, হিরোইনের নেশায় বুঁদ থাকতো অনেকে। কুমিল্লার ম্যাজিস্ট্রেটকে হত্যা করে এখানে ছিলেন শান্তি দাস ও সুনীতি চৌধুরী। চার্লস টেগার্টের ওপর বোমা ছোঁড়ার অপরাধে ছিলেন কমলা দাশগুপ্ত। আইন অমান্য করার অপরাধে ছিলেন মাতঙ্গিনী হাজরা। মোটকথা ব্রিটিশ শোষণ-বিরোধী কার্যকলাপের জন্য বহু মহিলার ঠাঁই হয়েছিল এখানে। ১৯৩১-এর শেষে এখানে ছিলেন ২৩জন বিপ্লবী। যদিও ১৯৩৭ সালে এই মহিলা জেল বন্ধ হয়ে যায়।

শুক্রবার ১৬ই সেপ্টেম্বর আই আই টি মিউজিয়ামের মধ্যে দিনটি পালিত হবে শ্রদ্ধার সাথে। উপাচার্য ড. দামোদর আচারিয়া উদ্বোধন করবেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের উপর আধারিত ২০টি ছবির চ্যানেল। থাকছে অন্যান্য অনুষ্ঠানও।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement