২৩৫ বছরের রথের সংস্কার হোক
পুড়ে যাওয়ার পর চাইছে মহিষাদল

ভাস্করব্রত পতি   ২রা নভেম্বর , ২০১১

তমলুক, ১লা নভেম্বর —আতশবাজির আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মহিষাদল রথ দেখতে এলেন না স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের পরিবেশমন্ত্রী ডাঃ সুদর্শন ঘোষদস্তিদার। আসেননি সাংসদও। স্থানীয় মানুষের শোক এবং অভিমান তাই এলাকায় পুঞ্জীভূত হচ্ছে। ঐতিহ্যশালী মহিষাদল রথে গত ২৭শে অক্টোবর রাত ৯টায় আতশবাজির আগুন পড়ে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। বাসিন্দারাই সেই আগুন নেভিয়ে ফেলেন।

অথচ স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতি থেকেছে নীরব দর্শক হয়ে। দেখা মেলেনি সাংসদ, মন্ত্রী, বিধায়কসহ কোনও জনপ্রতিনিধিরই। এমনিতেই রথের অবস্থা নড়বড়ে। কাঠের তৈরি এমন সুবৃহৎ রথ সারা বিশ্বের মধ্যে বিরলতম। ইতিহাস এবং ঐতিহ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল রথের আভিজাত্যই আলাদা। সেই রথের অনেকাংশই ক্ষতি হয়েছে আতশবাজির আগুনে।

সি পি আই (এম) নেতা তপন ব্যানার্জি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, মহিষাদলের গর্ব এই রথ। অথচ সেই রথ পুড়ে গেলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতোই মন্ত্রী বা সাংসদ কারোরই দেখা মিললো না। ইতোমধ্যে মহিষাদল রাজবাড়ির পক্ষ থেকে এঘটনায় থানায় একটি ডায়েরি করা হয়েছে।

মূলত মহিষাদল রাজবাড়ির মহান কীর্তিগুলির একটি এই কাঠ নির্মিত রথ। এর গায়ে থাকা কারুকার্যও অদ্ভুত। বর্তমানে মহিষাদল রাজ এস্টেটের পরিচালক রাজ পরিবারের সদস্য শৌর্যপ্রসাদ গর্গ সচেষ্ট হয়েছেন এই রথকে কেন্দ্র করে মানুষের গর্ব, আবেগ এবং গরিমাকে ফিরিয়ে আনতে আগের মতোই।

ইতিহাস বলে ১৭৬৯ সালের মহিষাদলের রাজা আনন্দলাল উপাধ্যায় মারা গেলে তার ধর্মপত্নী ১৭৭০-এ মহিষাদলের শাসনভার হাতে নেন। ১৭৭৬ সাল নাগাদ মদনগোপাল জিউর ১৭ চূড়া বিশিষ্ট কাঠের এই রথটি তৈরি করেন। কেউ কেউ বলেন, অবশ্য ১৮০৪-এ নাকি এই রথ নির্মাণ করেছিলেন মতিলাল উপাধ্যায়। সে সময় রথ তৈরিতে খরচ হয়েছিলো সাত হাজার সিক্কা। চলতি বছরে এই রথের বয়স তাই ২৩৫ বছর।

পতাকার দণ্ডসহ রথের উচ্চতা প্রায় ৮০ ফুট। মোট পাঁচ তলার। রথের কোণে কোণে কাঠের তৈরি মকর, সিংহ, যুদ্ধরত সেনা, ময়ূর, ইংরেজ ইত্যাদির প্রতিমূর্তি খোদিত রয়েছে। যা সাধারণত পরিচিত ‘দ্য চেইন অব দ্য ডেথ’ বা মৃত্যুলতা ভাস্কর্য। লন্ডনের অ্যালবার্ট মিউজিয়ামে এই ভাস্কর্যের অংশ রক্ষিত আছে।

১৯৮৮-তে রথটির দ্বিতীয়বার সংস্কার করা হয়েছিলো। বর্তমানে রথটি নড়বড়ে অবস্থায় থাকলেও এবছর রথ টানায় ছেদ পড়েনি। কিন্তু এবারের এই ঘটনা মহিষাদলের রথের অস্তিত্ব রক্ষায় সঙ্ক‍‌টে ফেলে দিয়েছে।

উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগে মহিষাদলের মানুষ। প্রত্যেকেই চান এই রথকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলা হোক। হেরিটেজ ঘোষণা করা হোক। হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটিও নির্বাক দর্শক। মহিষাদলের বিশিষ্টজন হরপ্রসাদ সাহু, নীলোৎপল জানা, সংকর্ষণ মাইতিদের বক্তব্য সারা বিশ্ব মহিষাদলকে চেনে এই দারু নির্মিত রথের জন্য।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement