আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

আন্তর্জাতিক

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

পরিকাঠামো শিকেয় ই সি এল-এর স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির
বেহাল দশা কুনুস্তোরিয়া এরিয়া হাসপাতালের

নিজস্ব সংবাদদাতা

রানীগঞ্জ, ৬ই জুলাই — কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতায় বেহাল দশা তৈরি হয়েছে কুনুস্তোরিয়া এরিয়া হাসপাতালের। উন্নতমানের চিকিৎসা পরিকাঠামো ছিল এই হাসপাতালের। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বদলি করে দেওয়া হয়েছে। অপারেশন থিয়েটার থাকা সত্ত্বেও অপারেশন হয় না। কেননা, অ্যানাসথেটিস্ট চিকিৎসককে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে স্থানান্তর করে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রসূতি বিভাগে স্বাভাবিক প্রসবও হয় না। ৫০ শয্যার হাসপাতালে এখন আর রোগী ভর্তি হচ্ছে না। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক মাত্র একজন। ফলে জরুরী প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সও পাওয়া যাচ্ছে না। প্যাথলজি বিভাগে কাজ-কর্ম সীমিত হয়ে গেছে। ‘রি এজেন্ট’ এবং উন্নত যন্ত্রের অভাব। ফলে প্যাথলজিস্ট থাকলেও রোগীরা পরিষেবা পাচ্ছেন না। সর্বোপরি শিশুদের টিকাকরণ কর্মসূচী জরুরী কাজটিও বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন কোলিয়ারি থেকে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় এরিয়া হাসপাতালে। এছাড়া শ্রমিক-কর্মচারীদের পিরিয়ডিক্যাল মেডিক্যাল এগজামিনেশন (পি এম ই) করা হয় এরিয়া হাসপাতালে। পরিকাঠামো শিকেয় ওঠায় এখন নাম-কা-ওয়াস্তে পি এম ই হচ্ছে। পি এম ই’র মধ্যদিয়ে ধরা পড়ছে না শ্রমিকদের রোগ ব্যাধি। কয়লাখনির পেশাগত ব্যাধির নাম নিওমোকোনাইসিস। নিওমোকোনাইসিসের লক্ষণ অনেকটা যক্ষ্মা রোগের মতন। কয়লার গুঁড়ো লাংস-এ জমা হয়ে যায়। পেশাগতব্যাধি নির্ণয় হচ্ছে না।

ই সি এল-এর সাতগ্রাম কাজোড়া, পাণ্ডবেশ্বর, বাঁকোলা, শ্রীপুর, সালানপুর, ছোড়া প্রভৃতি এরিয়া হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো কর্তৃপক্ষ নষ্ট করে দিয়েছে বহু আগেই। প্রতিকূলতার মধ্যেও যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে চিকিৎসা চলছিল কুনুস্তোরিয়া এরিয়া হাসপাতালে। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই হাসপাতালের চিকিৎসা পরিকাঠামো নষ্ট করেছে।

এদিকে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে শ্রমিক মহলে। দাবি উঠেছে, অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দাও, প্রসূতি বিভাগ ও অপারেশন থিয়েটার সচল করো। চিকিৎসকদের আবাসন দখল করে আধিকারিকদের বসবাস করা চলবে না। সাপ ও কুকুরের কামড়ানোর ওষুধ হাসপাতালে রাখতে হবে। টিকাকরণ কর্মসূচী বন্ধ করা চলবে না। হাসপাতালে উন্নতমানের ও পর্যাপ্ত মানে ওষুধ সরবরাহ করতে হবে।

ই সি এল-এর কেন্দ্রীয় হাসপাতালগুলিতেও চিকিৎসা পরিকাঠামো সংকুচিত হয়েছে। কাল্লা ও সাঁকতোড়িয়া হাসপাতালে অনেক বিভাগই নেই। ইউরোলজি, নিউরোলজি, হৃদরোগ সহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসক ও পরিকাঠামো নেই বললেই চলে। উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের অন্যত্র রেফার করার কথা। খুঁটির জোর না থাকলে রোগীদের বেকার করা হয় না, এমন অভিযোগ আছে। ক্যানসার রোগী সহ বিভিন্ন ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের রেফার করতে কাল-ঘাম ছুটে যাচ্ছে রোগীর আত্মীয় পরিজনদের। যদিও রেফার হলো, পুরো চিকিৎসা ব্যয় মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োগ করা হচ্ছে, ‘মেডিক্যাল অ্যাটেনডেন্ট রুল্‌স’। মান্ধাতা আমলে তৈরি এই রুলস অনুযায়ী এক্স-রে, আল্ট্রা সোনোগ্রাফি ইত্যাদির খরচ দেওয়া হচ্ছে (এক্সরে খরচ ২০ টাকা, আল্ট্রা সোনোগ্রাফি ১৫০ টাকা দেওয়া হচ্ছে)!

অভিযোগ, ‘রেফার’কে কেন্দ্র করে অসাধু চক্র ও ‘কমিশন রাজ’ গড়ে উঠেছে। কয়েকটি হাসপাতালের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের একাংশের ‘কমিশন’ সমঝোতা চলছে এমন অভিযোগ উঠেছে। ই সি এল-এর শ্রমিক সংগঠনগুলি দাবি তুলেছে। কাল্লা ও সাঁকতোড়িয়া হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে তোলা। ইউরোলজি, নিউরোলজি সহ যে বিভাগগুলি নেই তা চালু করো। এরিয়া হাসপাতালগুলির চিকিৎসা পরিকাঠামো সঙ্কুচিত না করে উন্নত করো।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below