শ্লীলতাহানিতে যুক্তরা ঘুরে
বেড়াচ্ছে বুক ফুলিয়ে, নির্বিকার প্রশাসন

নিজস্ব সংবাদদাতা

কোচবিহার, ৬ই জুলাই— শ্লীলতাহানির অভিযোগের ১১দিন পরেও তুফানগঞ্জ থানা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। উলটে অভিযুক্তদের আড়াল করতে তৃণমূলীরা ঐ মহিলা ও তাঁর মা-বাবাকে মিছিল করে সামাজিক বয়কটের ডাক দিয়েছে। ঘটনার ১১দিন পর রাতের অন্ধকারে মহিলার মা ২০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম থেকে পালিয়ে শুক্রবার তুফানগঞ্জে এসে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি ও গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির শরণাপন্ন হন।

তুফানগঞ্জের বালাভুতের গোপালেকুঠি গ্রামের গৃহবধূ সনেকা রায়ের (৩৮) স্বামী দুলাল রায় কাজের জন্য ভিনরাজ্যে থাকায় মা-বাবার সঙ্গে দুই শিশুকে নিয়ে থাকেন। বাবা বিপিন রায় অসুস্থ। গত ২৫শে জুন দুই শিশুকে নিয়ে সনেকা রায় তাঁর ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাত দেড়টা নাগাদ দড়মার বেড়া ভেঙে স্থানীয় সমীর শেখ এবং আজকার আলি ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত গৃহবধূর মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলে। সমীর শেখ তাঁকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। ধর্ষণে বাঁধা দিলে মারধর করা হয়। গৃহবধূর গোঙানির শব্দে বৃদ্ধা মা সন্ধ্যা রায় পাশের ঘর থেকে লণ্ঠন নিয়ে বেরিয়ে এলে তাঁর সঙ্গেও ঐ দু’জনের ধস্তাধস্তি হয়। দু’জন পালিয়ে যাবার সময় সন্ধ্যা রায় পিছনে দৌড়ে গিয়ে দেখেন, গ্রাপমরই জব্বর আলি এবং মইনুল শেখ আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে।

ভোরবেলা আহত সনেকা রায়কে অ্যাম্বুলেন্সে কোচবিহারে চিকিৎকের কাছে নিয়ে যান তাঁর মা। চিকিৎসক বি পি রায়কে প্রাইভেটে দেখানোর পর তিনি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। সেদিনই ঐ গৃহবধূকে তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৬শে জুন তুফানগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন লাঞ্ছিতার মা। গৃহবধূর অভিযোগ, তাঁর শুধু শ্লীলতাহানিই করা হয়নি, বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করায় তাঁকে মারধর করা হয়। তাঁর মাথার চুলও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। চারদিন পর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকরা তাঁকে ছুটি দেয়।

ঘটনার পর পুলিস একবার গ্রামে এলেও, কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব গত মঙ্গলবার সালিশীসভায় ডাকে গৃহবধূ ও তাঁর মা’কে। সালিশীসভায় না যাওয়ায় রীতিমতো মিছিল করে স্লোগান দিয়ে পরিবারটিকে একঘরে করে দেওয়া হয়।

শুক্রবার গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির জেলা সভানেত্রী জবা পাল সন্ধ্যা রায়কে নিয়ে তাঁর বাড়িতে যান এবং গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি। সি পি আই (এম) জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তমসের আলি বলেন, পুলিস লাঞ্ছিতা মহিলাপক্ষ না নিয়ে অভিযুক্তদের আড়াল করছে। অভিযুক্তরাই বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে একঘরে করছে গৃহবধূ ও তাঁর পরিবারকে। প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ না নিলে মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ করা হবে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement