আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

জাতীয়

আন্তর্জাতিক

কলকাতা

জেলা

খেলা

সম্পাদকীয়

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

আক্রান্ত দুই বিধায়কের
খোঁজই নিলেন না অধ্যক্ষ

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১১ই জুলাই — বিধানসভার দুই নির্বাচিত সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন, কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেও তাঁদের কারো কাছে এলো না বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ন্যূনতম খোঁজ খবর নেওয়ার সৌজন্যের ফোনও! বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রকেও প্রশ্ন করা হয়েছিল, অধ্যক্ষ কি আপনার কাছে কোনও খোঁজ খবর নিয়েছেন ভাঙড়ে আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা ও বাদল জমাদারের ওপর আক্রমণের ঘটনা নিয়ে? উত্তরে বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘না। এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজখবর নেননি তিনি আমার কাছে।’ এতক্ষণে ভাঙড়ে দুই বিধায়কের ওপর হামলার ২৪ ঘণ্টাও পেরিয়ে গিয়েছে।

অধ্যক্ষের এই আচরণে রীতিমত বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারে মঙ্গলবার একটি খেতমজুর কনভেনশনে গিয়েছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক বাদল জমাদার ও ক্যানিং (পূর্ব) কেন্দ্রের বিধায়ক আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা। তৃণমূলীরা দল বেঁধে সেই কনভেনশনে চড়াও হয়। এবং আক্রমণ করে বামফ্রন্টের এই দুই বিধায়ককেও। সাধারণ সৌজন্যের নিয়ম জানাচ্ছে, বিধায়ক তিনি সরকারপক্ষের হোন বা বিরোধী পক্ষের, কোথাও তিনি আক্রান্ত হলে, তিনি অসুস্থ হলেও বিধানসভায় অধ্যক্ষ খোঁজখবর নেন। বিধানসভায় সদস্য হিসাবে বিধায়কদের ‘প্রোটেকশন’ দেওয়ার দায়িত্ব তাঁরও। কিন্তু ভাঙড়ে সেই আক্রমণের ঘটনার পরেও সাধারণ সৌজন্যের সেই ন্যূনতম নজিরও আক্রান্ত দুই বিধায়ক পাননি অধ্যক্ষের কাছ থেকে। বুধবার বিকেলে আব্দুর রেজ্জাক মোল্লাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, অধ্যক্ষ কি আপনার কাছ থেকে হামলার ঘটনার কোনও খোঁজখবর নিয়েছেন? ফোন করেছিলেন? রেজ্জাক মোল্লা প্রথমে জানাতে চান, কোন অধ্যক্ষ? তাঁকে বলা হয়, বিধানসভার অধ্যক্ষের কথা বলা হচ্ছে। উনি বলেন, না। অধ্যক্ষ আমাকে কোনও ফোন করেননি। আমার কাছ থেকে কোনও খোঁজখবর নেননি।

— আক্রান্ত অপর বিধায়ক বাদল জমাদারের কাছ থেকে কি ফোন করে অধ্যক্ষ কোনও খোঁজ নিয়েছেন?

— মনে হয় না। আমাকেই যখন ফোন করেননি, বাদলবাবুকে কি আর করেছেন? মনে হয় না।

— জেলার পুলিস সুপার কিংবা জেলাশাসক কি আপনার কাছ থেকে কোনও খোঁজখবর নিয়েছেন?

— জেলার পুলিস সুপারকে তো আমি নিজেই অভিযোগ জানিয়েছিলাম। তবে ডি এম আমাকে কোনও ফোন করেননি।

বিধায়ক আক্রান্ত হয়েছেন অভিযোগ পেয়েও যে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান ব্যানার্জি অন্তত বিরোধীপক্ষের বিধায়কের প্রশ্নে তৎপরতা দেখান না, এমন নজির অবশ্য গত সপ্তাহে শেষ হওয়া বিধানসভার অধিবেশনেই মিলেছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতনের বামফ্রন্টের সি পি আই বিধায়ক অরুণ মহাপাত্র মোহনপুরের গ্রামে আক্রান্ত হয়েছিলেন বামফ্রন্টের মিছিলে। তৃণমূলীরা আক্রমণ করেছিল। সেই ঘটনা নিয়ে তিনি নিজে বিধানসভার উল্লেখপর্বে অভিযোগ তুলে দিলেন। দাবি করেছিলেন স্বরাষ্ট্র (পুলিস) দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির হস্তক্ষেপ। যদিও তখন মুখ্যমন্ত্রী যথারীতি বিধানসভায় অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্তু অধ্যক্ষ অভিযোগ শুনেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে তা নিয়ে কিছু বলার নির্দেশ না দেওয়ায় বামফ্রন্টের বিধায়করা প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন। তখন অধ্যক্ষ বিমান ব্যানার্জি ‘বিষয়টা আইনশৃঙ্খলার ব্যাপার’ বলে মন্তব্য করে সেখানেই কর্তব্য সেরেছিলেন। আবার অন্য উদাহরণও আছে। সেটা অবশ্য বিরোধীপক্ষের বিধায়কের ক্ষেত্রে নয়। সরকারপক্ষের বিধায়ক জোট শরিক কংগ্রেসের মোহিত সেনগুপ্ত তাঁর জেলায় পুলিস সুপারের আচরণ নিয়ে অভিযোগ করায় অধ্যক্ষ উত্তর দিনাজপুর জেলার পুলিস সুপারকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন বিধানসভায়। সেই অধ্যক্ষই ভাঙড়ে বামফ্রন্টের দু’দুজন সি পি আই (এম) বিধায়ক আক্রান্ত হওয়ার পর একটা ফোনও করেননি দু’জনের কাউকে। তাঁর এই আচরণ কোন সৌজন্যের বার্তা বহন করে, সেই প্রশ্ন উঠেছে এদিন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনি কি দুই বিধায়ক আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে অধ্যক্ষকে কোনও চিঠি দেবেন? উত্তরে সূর্যকান্ত মিশ্র এদিন বলেন, ‘এখনও ঠিক করিনি। চিঠি দেব কিনা, তা তো ভাবতে হবে।’ উল্লেখ্য, গত সোমবার বিরোধী দলনেতা চিঠি লিখে বিধানসভার মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠক করায় অনুমতি চাওয়ায় অধ্যক্ষ উত্তরে প্রথমে বিধানসভায় মার্শালকে দিয়ে ফোনে বিরোধী দলনেতাকে অসম্মতির কথা জানিয়েছিলেন। মার্শালকে দিয়ে ফোনে এভাবে উত্তর জানানোর নজির নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সেদিন বিরোধী দলনেতা বলেছিলেন, ‘সৌজন্য! সৌজন্যের রাজনীতি!’

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below