আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

বাংলা ফুটবলের ‘নববর্ষ’
সেই আবেগ, উচ্ছ্বাসের মাঝেও
শূন্যতা শুধু ব্যারেটো

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১১ই জুলাই— সবুজ-মেরুন কেক, সন্দেশ। লাল-হলুদ ফুলের তোড়া।

দুই প্রধানের দুই মুখ মিলে মিশে একাকার বাংলার ফুটবল ‘নববর্ষের’ সকালে। ময়দানের বটতলায় দু’প্রান্ত থেকে ভেসে আসছে, ‘মরগ্যান জিন্দাবাদ,’ ‘টোলগে টোলগে।’ একটু বেমানান। গত মরসুমেও এঁদের গতিপথ ছিল একই দিকে। আজ ‘দুটি পথ দুটি দিকে গেছে বেঁকে’। মরগ্যান যখন, পেন, আলভিটোদের নিয়ে ইস্টবেঙ্গল মাঠে নেমে পড়ছেন। টোলগে সে সময় মোহনবাগান তাঁবুতে বসে। বুধবার শহরের রোদ-বৃষ্টির মতোই চেনা-অচেনা ফ্রেমে বন্দী ময়দানের ফুটবল কোলাজ। কিন্তু আবেগের রঙ এক। ব্যারাকপুর থেকে বেলেঘাটা, হাওড়া থেকে হরিনাভি মিশেছিলো গোষ্ঠ পাল সরণিতে। কারোর গায়ে লাল হলুদ, কেউ বা সবুজ মেরুন। মরগ্যানকে তো সাংবাদিক সম্মেলন থেকে প্রায় তুলে নিয়ে গেলেন সমর্থকরা। গলায় পরিয়ে দেওয়া হলো উত্তরীয়। মোহনবাগানের কোচ সন্তোষ কাশ্যপের কাছে এসব নতুন, অভিনব। বলতে দ্বিধা করলেন না, ‘এই আবেগের জন্যই কলকাতা সবার থেকে আলাদা।’

মিথ্যে বলেননি। সেই অর্থে নক্ষত্রের মেলা বসেনি এদিন। ওডাফা নেই, চিডি নেই। টোলগে মাঠে নামেননি। ইস্টবেঙ্গলে নয়া মুখ বলতে অভিজিৎ মণ্ডল, অর্ণব মণ্ডল, সফর সর্দাররা। মোহনবাগানে সংখ্যাটা একটু বেশি। ডেনসন দেবদাস, নির্মল ছেত্রী, অরিন্দম ভট্টাচার্যের যেমন আছেন। তেমনই আবার আছেন দীপেন্দু বিশ্বাসের মতো অবসরের দোরগোড়ায় থাকা ফুটবলার। সাদার্ন সমিতি থেকে আসা লালরিন ফেলা-কে আবার তাঁর হেয়ার স্টাইলের জন্য ‘গুলিট’ বলা শুরু হয়ে গেছে।অনুশীলন শেষে সন্তোষ কাশ্যপ বাহিনী হাততালিতে সমর্থকদের অভিনন্দন জানালেন, প্রত্যুত্তরও পেলেন। এভাবেই গোটা মরসুম চলতে চান। কিন্তু এর নাম যে কলকাতা? মরগ্যান ব্রিগেডের মতো ধারাবাহিক দলকেও গতবার এরিয়ান মাঠে নিজের মাঠে বন্দী থাকতে হয়েছিল। এয়ার ইন্ডিয়ার অবনমন বাঁচানো সন্তোষ কিংবা আই লিগের রানার্স মরগ্যান তাই প্রথম দিন থেকেই সাফল্যের ঘুঁটি সাজাচ্ছেন। টোলগে ভুলে মরগ্যানের চোখ চিডিতে। ইস্টবেঙ্গলের জালে চার গোল দেওয়া একমাত্র ফুটবলারই সাহেব কোচের নয়া তুরুপের তাস। পিছন থেকে বল ধরে খেলাতে চান তাঁকে। মানে টিপিক্যাল ফরোয়ার্ড নন। মরগ্যানের চালে চিডি হতে চলেছেন উইথড্রয়াল ফরোয়ার্ড। নাকি ফলস নাইন!

কাজটা কঠিন সন্তোষের। দু’বছরের ট্রফির খরায় সাফল্যের বান ডাকার মূল কাণ্ডারী তিনিই। প্রথম দিন থেকেই তাই খেতাবের লক্ষ্য মুম্বাইয়ের কোচ। ফুটবলারদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে সে কথাটাই বলে দিয়েছেন। ওডাফা আসেনি বলে চিন্তা নেই। বলছেন, ‘ওডাফা দায়িত্বশীল ফুটবলার। নিজের দায়িত্ব ভাল ভাবেই জানে।’ নেহরু কাপের শিবিরে ফুটবলার ছাড়া নিয়েও আপত্তি নেই তাঁর। সন্তোষের কথায়, ‘সারা বিশ্বের ফুটবলেই এমন হয়। ফুটবলাররা ক্লাবে অনুশীলন করতে পারবে না ঠিকই। দেশের হয়ে তো করবে।’ ২রা আগস্ট ও ৪ঠা আগস্ট আসামে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে মোহনবাগান। ফিরে এসে এয়ারলাইন্স কাপ। ইস্টবেঙ্গলের আবার প্রথম লক্ষ্য, কলকাতা লিগ। মরগ্যান বেশ খুশি ঘরোয়া লিগ আগে হওয়ায়। বলছেন, ‘সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতার আগে প্রস্তুতির সময় পাবো।’ তবে জাতীয় দলের ফুটবলার ছাড়া নিয়ে অনীহা কাটছে না মরগ্যানের।

মাঠে ঢোকার সময় মাথায় চড়া রোদ। বেরোনোর সময় অঝোর আষাঢ়। রঙ বদলের আকাশের মতোই দুই প্রধানের দৃষ্টিভঙ্গিতে তফাত অনেক। তবে আবেগের সুর একই। উচ্ছ্বাসে, বেদনাতেও। ওপারা, চিডি, ওডাফারা আজ নেই, কাল আসবেন। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল মাঠে চনমনে টোলগের দেখা পাওয়ার বিশ্বাস অতি বড় ইস্টবেঙ্গল সমর্থকও করছেন না। আর মোহনবাগানে? সব থেকেও যেন এক পৃথিবী শূন্যতা। ব্যারেটোই যে নেই।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below