নারী নির্যাতন বন্ধে ব্যবস্থার দাবিতে
জঙ্গীপুরে প্রতিবাদের ঢেউ মহিলাদের

রাজীব চৌধুরী

জঙ্গীপুর ১৭ই জুলাই — জঙ্গীপুর মহকুমাশাসকের অফিসের সামনে মঙ্গলবার দুপুরে আইন অমান্য করে তিন তিনটি পুলিসী কর্ডন ভাঙলেন বামপন্থী মহিলা সংগঠনগুলির কয়েক হাজার কর্মী। মহিলাদের উপর নির্যাতন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে এই আইন অমান্য কর্মসূচীতে বিপুল সংখ্যায় সমবেত হন মহিলারা। জঙ্গীপুর মহকুমার মূল প্রশাসনিক ভবনে মহকুমাশাসকের অফিস চত্বরের মাঠ এদিন কার্যত আইন অমান্যকারী মহিলাদের দখলে চলে যায়। জঙ্গীপুর মহকুমাশাসকের অফিসের সামনে মহিলাদের এই উপস্থিতিতে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট স্বপনকুমার রক্ষিত নিজে এসে মাইকে ঘোষণা করেন যে, তিনি পাঁচ হাজার মহিলাকে গ্রেপ্তার করলেন। এই বিপুল সংখ্যক মহিলাকে গ্রেপ্তার করে রাখার মতো পরিকাঠামো নেই বলে তাদের নিঃশর্ত মুক্তিও দিলেন।

প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে তুচ্ছ বিপুল সংখ্যায় মহিলারা অংশ নেন কর্মসূচীতে। মহিলা নেতৃত্ব ঘোষণা করেন এরপরও মহিলাদের উপর নির্যাতন বন্ধে পুলিশ ও সরকারের ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে আরও বড় ধরনের আন্দোলনের পথে যেতে তাঁরা বাধ্য হবেন। এদিনের আইন অমান্যের আগে রবীন্দ্রভবনের সামনে মহিলাদের জনসভা ও বিশাল মিছিল সারা রঘুনাথগঞ্জ শহর পরিক্রমা করে। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জঙ্গীপুর রবীন্দ্রভবনের সামনের থেকে মিছিল শুরু হয়ে লালগোলা মহারাজা রোড ধরে ম্যাকেঞ্জিমোড়ে পৌঁছায়। এরপর মিছিল দাদাঠাকুর প্রতিষ্ঠিত পণ্ডিত প্রেসের মোড় হয়ে জঙ্গীপুর পৌরসভার সামনে দিয়ে ঐতিহাসিক ফাঁসিতলায় পৌঁছায়। সেখানে পুলিসী ব্যারিকেড প্রস্তুত ছিল। কিন্তু হাজার হাজার আইন অমান্যকারী মহিলাদের দুর্বার মিছিলের সামনে সেই পুলিসী ব্যারিকেড কার্যত তুচ্ছ হয়ে যায়। আইন অমান্যে বামপন্থী নেতৃত্বের পক্ষে অংশ নেন মিনতি ঘোষ, সুলেখা চৌধুরী, শ্বেতা চন্দ্র, মর্জিনা বেগম, পূর্ণিমা দাস, কল্পনা চ্যাটার্জি, স্মৃতি রায়, মাকসুদা বেগম, ঝরনা দে সহ অন্যান্য মহিলা নেতৃত্ব। মহিলারা ব্যানার, প্লাকার্ড, ফ্লেক্স, ফেস্টুনে সুসজ্জিত মিছিল নিয়ে যত সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন এলাকার মানুষ রাস্তার পাশে এসে দাঁড়িয়ে দেখেছেন। মহিলাদের এত বড় মিছিল আর দেখা যায়নি রঘুনাথগঞ্জের রাস্তায়। পথ চলতি মানুষ থমকে দাঁড়িয়েছেন। মহিলারা প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে দাবি জানিয়েছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমাতে হবে, বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে, সব বিড়ি শ্রমিককে পরিচিতিপত্র দিতে হবে, মহিলাদের উপর নির্যাতন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, নির্যাতনে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

এদিনই জঙ্গীপুর রবীন্দ্রসদনে আইন অমান্যের আগে বামপন্থী মহিলা সংগঠনসমূহের ডাকে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির রাজ্য সম্পাদিকা মিনতি ঘোষ, বামপন্থী মহিলা নেতৃত্বদের পক্ষে মাকসুদা বেগম, ঝরনা দে, শ্বেতা চন্দ্র। এই সভায় নেত্রীবৃন্দ বলেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মহিলাদের উপর বিভিন্নভাবে আক্রমণের ঘটনা বেড়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, মহিলাদের উপর এই আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনই প্রতিকার মিলছে না। ফলে আক্রমণকারীরা উৎসাহিত হচ্ছেন। আর রাজ্যের সর্ব্বোচ্চ প্রশাসনিক প্রধান একে ছোট ঘটনা বলে প্রকাশ্যে বলছেন। এই অবস্থায় মহিলাদের প্রতিবাদে সোচ্চার হবার জন্য পথে নামা ছাড়া কোনই বিকল্প নেই। নেত্রীবৃন্দ বলেন, লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে জর্জরিত সাধারণ মানুষ। রাজ্যে ও কেন্দ্রে জোট সরকার চালাচ্ছে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস। এই দুই দল এই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির দায়ভার থেকে কোনোভাবেই নিজেদের মুক্ত করতে পারে না। এই দুই দল নীতির প্রশ্নে এক। এরা বড় লোকদের স্বার্থ রক্ষা করতেই সবসময় ব্যস্ত। কিন্তু গরিব দরদী সাজতে চায়। এদের সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও মায়েরা। অথচ, বলা হচ্ছে মা মাটি মানুষের সরকার।