মাওবাদী বিক্রম নাকি হিংসায় জড়িত নয়!
নিহত শহীদদের মা-বাবা, স্ত্রী
ভাই-বোনরা এই দাবি মানবেন?

নিজস্ব সংবাদদাতা

পুরুলিয়া, ২৪শে জুলাই — তৃণমূলের হাত ধরে যে মাও নেতার বাড়বাড়ন্ত, যাকে শনাক্ত করতে জেলা পুলিস দপ্তরে এসেছিলো একদা মাও, অধুনা তৃণমূল নেতা অঘোর হেমব্রম। সেই বিক্রমকে হিরো করতে উঠেপড়ে লেগেছে পুলিস ও প্রশাসনের একাংশ। বলা হচ্ছে পুলিসের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে সে। দেখা করতে চেয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে। টানা সাতদিন পুলিসী হেফাজতে রাখার পর মঙ্গলবার আবার বিক্রমকে জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে সাত দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। কেন পুলিস তাকে আবার তাদের হেফাজতে চাইলো না, সে তথ্য পরিষ্কার নয়। মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সে কি বলবে তাও জানা গেল না। একদা সহযোদ্ধা তো — হয়তো কোনও গোপন কথা!

কার কথা সত্যি সেটাই রয়ে গেল নেপথ্যে। গত ১৬ই অক্টোবর পুরুলিয়ার বিরামডি থেকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছিল মাওবাদীদের বাংলা-বিহার-ঝাড়খণ্ড আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক অর্ণব দাম ওরফে বিক্রম ওরফে সূর্য ওরফে ভানু ওরফে ভাস্করদা। মাওবাদীদের অযোধ্যা স্কোয়াডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এই মাওনেতাকে অযোধ্যা পাহাড়ের মানুষ ডাকতেন দাদা বলে। সাংবাদিকদের কাছে মাওবাদীদের যে সমস্ত চিঠি প্রচারপত্র আসতো তাতে সই করা থাকতো বিক্রমের। পুরুলিয়া জঙ্গলমহলের প্রায় পঞ্চাশ জন বামপন্থী কর্মী-সমর্থককে খুন করার পর অধিকাংশের দায় স্বীকার করে নিয়েছিলো তখন।

আশ্চর্যের যে, বিক্রম মঙ্গলবার বিকালে আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে জানিয়ে দেয়, সে কোনও হিংসার ঘটনায় যুক্ত নয়। বিভিন্ন সময়ে সে মাওবাদীদের ক্লাস নিতো আদালতে। ঢোকানোর সময় সে জানিয়ে দেয় তার হয়ে সমস্ত কথা বলবে তার আইনজীবী। এতদিন পুলিস দাবি করেছিলো যে বিক্রম তাদের সহযোগিতা করছে। সব স্বীকার করছে। অথচ বিক্রমের আইনজীবী সাত্তার মণ্ডল জানিয়েছেন, বিক্রম কোনও নাশকতার ঘটনায় যুক্ত ছিলো না। অ্যাকশন স্কোয়াডেও যুক্ত নন। জঙ্গলমহলে মাওবাদী হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে বিক্রম। ২০০৯ সাল থেকে বিক্রম মাওবাদীদের সংস্রব ত্যাগ করে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে পাওয়া একটি এ কে ৪৭ রাইফেল, ১টি ক্যামেরা, চশমা, মাওবাদী পত্রিকা ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি উদ্ধার করা হয়েছিল — বিক্রমের আইনজীবীর দাবি সবটাই সাজানো ঘটনা। কোনও অস্ত্র ছিল না তার কাছে। এদিন আদালত চত্বরে বিক্রমের পক্ষে হাজির ছিলেন বন্দী পরিবার সংহতি মঞ্চের ৫ জন সদস্য, তারা ও বিক্রমকে নির্দোষ বলে দাবি করেছে। কিন্তু যাঁরা খুন হয়েছেন, সেইসব পরিবারের মা-ভাই-বোনেরা কি এসব মানবেন?

Featured Posts

Advertisement