জেলা প্রশাসনের নির্দেশে অভি‍‌যোগ
নিলেও তৃণমূলী প্রধানকে ধরছে না পুলিস

নিজস্ব সংবাদদাতা

দাদপুর, ৩১শে জুলাই — ১০০ দিনের কাজে অর্থ তছরূপের দায়ে অভিযুক্ত দাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানসহ দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে পোলবা-দাদপুর ব্লকের বিডিও এফ আই আর করলেও দাদপুর থানার পুলিস কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। জানা গেছে, অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন)। ২০শে জুলাই বিডিও-কে এই মর্মে চিঠি পাঠান যে, অর্থ তছরূপের অভিযোগে দাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জাকির হোসেন, প্রাক্তন ই এ সুকুমার নন্দী এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর রুনা পারভিনের বিরুদ্ধে থানায় এফ আই আর করার ব্যবস্থা নিতে হবে। অতিরিক্ত জেলাশাসকের (উন্নয়ন) চিঠি পাবার পর বিডিও ২৪শে জুলাই দাদপুর থানায় ঐ তিনজনের নামে এফ আই আর করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ৪০৭, ৪০৮ ও ৪০৯ ধারায় অভিযোগ দায়ের করেন বিডিও।

একশো দিনের কাজে টাকা তছরূপের অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, ঐ গ্রাম পঞ্চায়েতের রসুলপুর বুথের বাসিন্দা আসিফার রহমান ও রসিদ মল্লিক ১০০ দিনের কাজ না করা সত্ত্বেও তাঁদের জব কার্ডের পাসবইয়ে টাকা জমা করে দেয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জাকির হোসেনের নির্দেশে পরে ডাকঘরের ঐ পাসবই থেকে জমা করা টাকা গোপনে তুলে নিয়ে যায় প্রধানের লোকজন। এই ঘটনা জানাজানি হলে ঐ দুই বাসিন্দা বিডিও ও জেলাশাসকের কাছে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত হয়।

এর পরেই জেলাশাসক (উন্নয়ন) বিডিও-কে প্রধানসহ দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে এফ আই আর করার নির্দেশ দেন। বিডিও থানায় এফ আই আর করলেও পাঁচদিন অতিক্রম করা সত্ত্বেও দাদপুর থানার পুলিস অভিযুক্তদের কাউকেই গ্রেপ্তার করেনি। এই নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে দাদপুর থানা কৃষক সমিতি ও ডি ওয়াই এফ আই যৌথভাবে দাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের সামনে ও থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায়। অবিলম্বে প্রধান জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানানো হয়।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় প্রধানকে দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করতে রবিবার বিকেলে বহিরাগতদের নিয়ে মিছিল করে সি পি আই (এম)-র বিরুদ্ধে কুৎসা করে। দাদপুর ১নং এল সি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে তৃণমূলীরা হুমকি দেয়।

Featured Posts

Advertisement